Showing posts with label Romantic Nilkanto. Show all posts
Showing posts with label Romantic Nilkanto. Show all posts

জোসনা ও কবিতা

অনন্ত যৌবনা পূর্নিমার রাত দেখলে কবি মন বোধ হয় এমনি তেই জেগে উঠে।আমার জায়গায় নীলকান্ত থাকলে হয়ত এতক্ষনে তার দু চার ছত্র লেখা হয়ে যেত! কিন্তু আমি কবি নই।কবিতার ক, আর গল্পের গ লিখতেও আমার কলম ভাঙে।তাই বৃথা চেষ্টা করা মোটেও সমিচীন হবে না।
অগত্য, নিজের বিদ্রোহী মনকে একটু শান্তনা দেবার জন্য বার বার রবীন্দ্রনাথের নিবারন চক্রবর্তীকে ডাকার চেষ্টা করছিলাম।
"#কোথায় আছো নিবারন চক্রবর্তী, ভর করো আমার উপর।বাণী দাও বাণী।"
কিন্তু না, নিবারন চক্রবর্তী আর এলেন না।তার প্রেতাত্মা দূরে থেকে মনে হয় হাসছেন।অথবা ভক্তের ডাকে সারা না দিতে পারার মনোকষ্টে জর্জরিত হয়ে আরেকবার গঙ্গার জলে জীবন বিসর্জন দেয়ার তরিকা খুঁজছিলেন।
এদিকে মেঘহীন হেমন্তের রাতের আকাশটা রুপালী চাঁদের আলোয় আপনার প্রশংসা শুনবার ব্যাকুলতায় অধৈর্য্য। কিন্তু এই কবিতার "ক " কলম আর গল্পের "গ" কলমের উপর ভর করে রুপালী চাঁদের বর্ননা করি সাধ্য কি আমার! রবি দা নিজেই নিবারণ দা'র সব ভাষা কুক্ষিগত করে শেষ করেছেন।এমতাবস্থায় এই হতভাগা স্বপ্ননীলের ডাকে সারা দেবার মত ভাষা আজ নিবারণ দা'রও নেই।
মনের এক কোণে কোথায় যেন এক টুকরো আশার সঞ্চার করার চেষ্টা যখন বৃথা যাচ্ছে তখন 
#নীলকান্তের উপর শেষ ভরসা।
বলি, "ও কান্ত দা,
কিছু বাণী দাও বাণী।"
"পায়ে ধরি কান্ত দা, দু কলম লেখার জন্য অন্তত একবার আমার উপর ভর কর! "
অনেক কারুবারু করে কান্ত দা'র মন গলেছে কিনা জানি না।তবে এমন রাতে প্রিয়ার চিবুকে হাত রেখে একবারো যদি বলতাম,
"প্রিয়ে,আকাশের চাঁদ দেখেছো? আধারের বুকে কি মিষ্টি আলিঙ্গন তার।যেন আধারো লুকিয়ে পড়েছে তার ভালোবাসায়।।
খুব ইচ্ছে করছে সেই আধার হতে।আর তুমি সেই পূর্নিমার চাঁদ।যার বুকে মিশে যেতে চাই আমি।"
তবে নিশ্চিত আজ প্রিয়া আমায় ফিরাতে পারতো না।
#স্বপ্ননীল
(সংক্ষিপ্ত)
www.facebook.com/swopnonil

ছোট গল্পঃ "সেতু"

১#
আমার এক পুরোনো ছাত্রী।ও যখন ইন্টারমিডিয়েট পড়ত তখন পড়াতাম।গত তিনদিন আগে হঠাৎ করে রাস্তায় দেখা।
বলল,"স্যার,কেমন আছেন? "
আমি তো পুরাই হব্ব তব্ব লেগে গেছি।কিরে এত বড় মেয়ে আমাকে স্যার বলে! কে এইটা!
বললাম,ভালো আছি।
বলেই পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছি।মেয়েটি আবার বলল,
"স্যার,আমাকে চিনতে পারেন নি? "
কি বিপদ! এখন কি বলি? বললাম, তোমার নামটা ঠিক মনে হচ্ছে না! কি যেন নাম তোমার?
বলল, সেতু।স্যার,আপনার কাছে দুই বছর পড়লাম আর ভুলে গেছেন?
আমি বললাম, না ভুলি নাই,আসলে নামটা মনে পড়ছিল না।তা তুমি কি কর এখন?
-অনার্স ২য় বর্ষে এখন।
কোথায় আছো?
-রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে।
আচ্ছা,তাই না কি? তো ভালো তো।ভেরী গুড।
তোমার বাসা তো আশে পাশেই না?
-হ্যা স্যার। স্যার, একটা কথা বলব?
হ্যা বল।কি বলবা?
- স্যার, আপনি একদিন আমাদের বাসায় আসেন না, প্লিজ।আপনাকে তো কোনদিন বাসায় নিতে পারিনি।অন্তত একদিন আসেন প্লিজ।
আমি বললাম, দেখো, আসলে কারো বাসায় যেতে আমার ভালো লাগে না।আচ্ছা, তারপরেও চেষ্টা করব।
নিজের কাছে নিজেকে যেন ৪০ বছরের চশমা পড়া টিচার টিচার মনে হচ্ছিল তখন।অত্যন্ত গম্ভীর। জ্ঞানী জ্ঞানী। হা হা হা।।
এবার আমার সেই ছাত্রী আরেকটা আবদার করে বসলো,স্যার, আপনার ফোন নাম্বারটা দেয়া যাবে?আপনার আগের নাম্বারে অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু ঢোকেনি।আপনার রিসেন্ট নাম্বারটা দেন প্লিজ।
আমি বললাম, নাম্বার দিয়ে কি করবা?
[এদিকে নিজের কাছে কিছুটা অস্বস্তিও লাগছে।যতই সে আমার ছাত্রী হোক কিন্তু এই লোকজনের মধ্যে কে কি ভাবছে,কে জানে? আর আমি একেতো কেবল অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ি তার পরে আবার অবিবাহিত। এটা আশে পাশের সবাই খুব ভালো করেই জানে। এ এলাকায় কথা বাড়ানোর আল্লাহ দিলে লোকেরও অভাব নাই।]
যাই হোক মেয়েটি বলল, স্যার,আপনাকে আমার বাসায় আসতেই হবে।আর এই জন্যে নাম্বার নিচ্ছি।যেন আপনি ভুলে যেতে না পারেন।
[এই মেয়ে কি বলে! আমি ভুলে যাব? অবশ্য যেতেও পারি।]
আমি কথা বাড়ালাম না।একে তো ছাত্রী তার উপর পাবলিক প্লেস।এই জায়গা যত দ্রুত ত্যাগ করা যায় ততই ভালো। এরকম অস্বস্তি তে থাকতে হবে না।
নাম্বারটা দিয়ে দিলাম।তারপর আমার জরুরী কাজ আছে বলে চলে আসছি।পেছন থেকে মেয়েটি  মানে সেতু, চিৎকার করে বলছে,"স্যার, আসবেন কিন্তু।আমি ফোন দেব কিন্তু "।
আমি একবার ছোট্ট করে পেছনে তাকিয়ে মাথা ঝাকিয়ে চলে এলাম।
মনে মনে ভাবলাম,"এই মেয়েকে আমি আবার কবে পড়ালাম? মনে তো পড়ছে না। আর সেতু, সেতু সেতু......উমম।
সেতু কে??"
#২
দুইদিন পরের কথা।মানে গত রাতের।হঠাৎ একটা রবি নাম্বার থেকে ফোন এলো।আমি কেবল ঘুমিয়েছি।রাতও সম্ভবত অনেক হয়েছে।বালিশের পাশে মোবাইলটা হাতে নিয়ে ঘুম ঘুম চোখে ফোন রিসিভ করলাম।
-হ্যালো.....
ও পাশে নীরবতা।
-হ্যালো, কে?
এবার একটু ধমকের শুরে বলে উঠলাম।এবার ওপাশ থেকে খসখস একটা শব্দ এলো।তারপর,
#হ্যালো, স্যার।সরি স্যার।হঠাৎ করে ফোন চলে গেছে।
আমি বললাম, "কে আপনি? "
#স্যার আমি সেতু।
-ওহ আচ্ছা, তা সেতু, কি খবর? এত রাতে ফোন দিছো যে! ঘুমাও নি?
#না স্যার ঘুমাই নি।আর ফোনটা এমনিতেই চলে গেছে।চাপ লেগে।আপনাকে বিরক্ত করার জন্য সরি।
আমি একটু স্বাভাবিক ভদ্রতা দেখিয়ে বললাম, no problem , its all right. ঠিক আছে ঘুমাও তাহলে।
বলেই ফোনটা রাখতে যাচ্ছি।ওমনি ওপাশ থেকে সেতু বলল, স্যার, আপনার কি খুব ঘুম পাচ্ছে? স্যার,
আমি কি আপনার সাথে একটু কথা বলতে পারি?
আমি বললাম, সেতু, ঠিক আছে কাল সকালে।
#না স্যার, এখনি।প্লিজ দুই মিনিট।
-আচ্ছা বলো।
তারপর ও পাশ থেকে একটানা ১ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড পর্যন্ত মোটামুটি দুইশ কথা বলে ফেলল প্রায় এক নিশ্বাসে।
ওর কথা শুনে আমি তো পুরাই বেকুব হয়ে গেলাম।না হ্যা বলার শক্তি আছে না না বলার শক্তি!
মাথায় জ্যাম লেগে গেলো।
কি বলল এসব?  
আমি তো মনের ভুলেও কোনদিন ভাবিনি এসব।আর আজ কিনা, এই মেয়েটি নিজের মুখে সব বলে দিল??
আমি কিছুক্ষন চুপ চাপ থেকে বললাম, ঠিক আছে, সকালে এ বিষয়ে কথা বলব।
।।
#3
পরেরদিন কোন এক কারনে বেশ সকালেই একবার ঘুম ভেঙে গেলো।সাধারনত এত সকালে আমার ঘুম ভাঙার রেকর্ড নাই বললেই চলে।প্রতিদিন গভীর রাতে ঘুমোতে যাওয়া আর বেলা করে ঘুম থেকে উঠা একরকম রুটিন হয়ে গেছে।
কিন্তু সেদিন এই সকাল সকাল ঘুম ভাঙার কারনটা ঠিক বুঝলাম না।তবে ঘুম ভাঙলেও বিছানা ছেড়ে উঠার মত ইচ্ছে নেই।তাই শুয়ে শুয়ে গান শুনছি।সকালে রবীন্দ্রসংগীত আমার খুব প্রিয়।বিশেষ করে হেমন্তের কন্ঠে।গান শুনছি।এমন সময় মোবাইল টা বেজে উঠলো।আমি ফোনটা হাতে নিয়ে দেখি সেতুর ফোন।
আরে,আমি তো সব ভুলেই গেছিলাম।বিশেষত গত রাতের আচমকা হৃৎকম্প।কিন্তু আবারো মেয়েটার ফোনে সব মনে পড়ে গেলো।ভাবছি,ফোন ধরব কি না!
একবার রিং বেজে থেমে গেলো।আবার রিং হচ্ছে.......
ক্রিং ক্রিং ক্রিং.....
[আসলে পুরোনো টেলিফোনের রিং গুলো আমার খুব ভালো লাগত আর সেই সুবাদে ফোনে সাধারন্ত এই ক্রিং ক্রিং টোন টা দেয়া থাকে।]
এবার একটু বিরক্ত হয়েই ফোনটা রিসিভ করলাম।ও পাশ থেকে একটা ভীত সন্ত্রস্ত সালাম।
-অলাইকুম আসসালাম।হ্যা বলো,সেতু।
#স্যার,কেমন আছেন?
-ভালো আছি।তা কিছু বলবে?
[আমি ভেবেছিলাম, হয়ত মেয়েটি আর রাতের কথা পাড়বে না।কিন্তু নাহ! আমার ধারনায় ভুল ছিল।]
ও পাশ থেকে সেতু বলে চলল,
#স্যার, আমি যা বলেছি সব সত্য।আমি আবেগ থেকে না,সব কিছু ভেবেই বলেছি।প্লিজ স্যার কিছু বলেন।
[আমার মেজাজটা সাত সকালে চরমে উঠার উপক্রম।তারপরেও নিজেকে সংযত করে অত্যান্ত ঠান্ডা ভাবে বললাম,
"সেতু, ভেবেছি এবার তোমার আম্মুর সাথে একটু কথা বলা দরকার।"
এবার কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে আই-গাই করতে করতে ফোন টা কেটে দিল।বুঝলাম ভয় পেয়ে গেছে।পাছে আমি সব ওর মাকে বলে দেই কিনা!
আমি আর ফোন ব্যাক করলাম না।বরং মনে মনে ভাবছি, কি করা যায়?আর সেই সাথে আশা ভঙ্গের কি চিত্র এই মুহূর্তে সেতুর মুখে ফুটে উঠেছে তা যেন স্পষ্টত দেখতে পেলাম।কিন্তু আমি জানি,ও এখনো আবেগের দুনিয়ায় রঙিন চশমার অন্তরালের পৃথিবী দেখেছে কিন্তু বাস্তবতার কষাঘাতে জর্জরিত জীবনের চিত্র উপলব্ধি করেনি।তাই জীবনের পোড় খাওয়া,ছেড়া-ফাটা মানুষ হিসেবে ওকে বুঝানোর একটা ছোট্ট দায়িত্ব আমার উপর যেন রয়েই গেল।দেখি,কোন একদিন ওর বাসায় যাবার দাওয়াতটা কবুল করা যায় কিনা!!!
#নীলকান্ত©
ফ্রমঃ  ছোট গল্প "সেতু"।(১ ২ ও ৩)
www.facebook.com/swopnonil

তোর শরীরে "লাইন অফ কন্ট্রল" আঁকা আছে নাকি!!

তোর শরীরে বিদ্যুৎ এর প্রবাহ আছে না কি?
কাছে গেলে গা শিরশির করে,
ছুতে চাইলেই ছিটকে পড়ি দূরে;
বোধহয়, ৩৩ হাজার ভোল্টের প্রবাহ চলে,
দশ ফুট দূরে থেকেও ঝিনঝিন করে গা।
তুই জানিস?
তুই জানিস,
কতবার ছুতে গিয়েও গুটিয়ে নিয়েছি হাত?
কতবার অভুক্ত মন নিয়ে এসেছি ফিরে!
কতদিন-
সীমানার কাটাতারের বেড়া ডিঙানোর ভয়ে,
পাইনি নাগাল তোর!
আচ্ছা বলতো,
তোর শরীরে  "লাইন অফ কন্ট্রল" আঁকা আছে নাকি!!
#নীলকান্ত ©
[[মধু দা'র একটা স্ট্যাটাস এ কমেন্ট করেছিলাম।শেষের লাইনটা নিজের কাছে ভালো লাগায় আমার টাইমলাইন এ পোষ্ট করলাম]]
www.facebook.com/swopnonil

গল্পঃ "সেতু"

১#
আমার এক পুরোনো ছাত্রী।ও যখন ইন্টারমিডিয়েট পড়ত তখন পড়াতাম।গত তিনদিন আগে হঠাৎ করে রাস্তায় দেখা।
বলল,"স্যার,কেমন আছেন? "
আমি তো পুরাই হব্ব তব্ব লেগে গেছি।কিরে এত বড় মেয়ে আমাকে স্যার বলে! কে এইটা!
বললাম,ভালো আছি।
বলেই পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছি।মেয়েটি আবার বলল,
"স্যার,আমাকে চিনতে পারেন নি? "
কি বিপদ! এখন কি বলি? বললাম, তোমার নামটা ঠিক মনে হচ্ছে না! কি যেন নাম তোমার?
বলল, সেতু।স্যার,আপনার কাছে দুই বছর পড়লাম আর ভুলে গেছেন?
আমি বললাম, না ভুলি নাই,আসলে নামটা মনে পড়ছিল না।তা তুমি কি কর এখন?
-অনার্স ২য় বর্ষে এখন।
কোথায় আছো?
-রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে।
আচ্ছা,তাই না কি? তো ভালো তো।ভেরী গুড।
তোমার বাসা তো আশে পাশেই না?
-হ্যা স্যার। স্যার, একটা কথা বলব?
হ্যা বল।কি বলবা?
- স্যার, আপনি একদিন আমাদের বাসায় আসেন না, প্লিজ।আপনাকে তো কোনদিন বাসায় নিতে পারিনি।অন্তত একদিন আসেন প্লিজ।
আমি বললাম, দেখো, আসলে কারো বাসায় যেতে আমার ভালো লাগে না।আচ্ছা, তারপরেও চেষ্টা করব।
নিজের কাছে নিজেকে যেন ৪০ বছরের চশমা পড়া টিচার টিচার মনে হচ্ছিল তখন।অত্যন্ত গম্ভীর। জ্ঞানী জ্ঞানী। হা হা হা।।
এবার আমার সেই ছাত্রী আরেকটা আবদার করে বসলো,স্যার, আপনার ফোন নাম্বারটা দেয়া যাবে?আপনার আগের নাম্বারে অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু ঢোকেনি।আপনার রিসেন্ট নাম্বারটা দেন প্লিজ।
আমি বললাম, নাম্বার দিয়ে কি করবা?
[এদিকে নিজের কাছে কিছুটা অস্বস্তিও লাগছে।যতই সে আমার ছাত্রী হোক কিন্তু এই লোকজনের মধ্যে কে কি ভাবছে,কে জানে? আর আমি একেতো কেবল অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ি তার পরে আবার অবিবাহিত। এটা আশে পাশের সবাই খুব ভালো করেই জানে। এ এলাকায় কথা বাড়ানোর আল্লাহ দিলে লোকেরও অভাব নাই।]
যাই হোক মেয়েটি বলল, স্যার,আপনাকে আমার বাসায় আসতেই হবে।আর এই জন্যে নাম্বার নিচ্ছি।যেন আপনি ভুলে যেতে না পারেন।
[এই মেয়ে কি বলে! আমি ভুলে যাব? অবশ্য যেতেও পারি।]
আমি কথা বাড়ালাম না।একে তো ছাত্রী তার উপর পাবলিক প্লেস।এই জায়গা যত দ্রুত ত্যাগ করা যায় ততই ভালো। এরকম অস্বস্তি তে থাকতে হবে না।
নাম্বারটা দিয়ে দিলাম।তারপর আমার জরুরী কাজ আছে বলে চলে আসছি।পেছন থেকে মেয়েটি  মানে সেতু, চিৎকার করে বলছে,"স্যার, আসবেন কিন্তু।আমি ফোন দেব কিন্তু "।
আমি একবার ছোট্ট করে পেছনে তাকিয়ে মাথা ঝাকিয়ে চলে এলাম।
মনে মনে ভাবলাম,"এই মেয়েকে আমি আবার কবে পড়ালাম? মনে তো পড়ছে না। আর সেতু, সেতু সেতু......উমম।
সেতু কে??"
#২
দুইদিন পরের কথা।মানে গত রাতের।হঠাৎ একটা রবি নাম্বার থেকে ফোন এলো।আমি কেবল ঘুমিয়েছি।রাতও সম্ভবত অনেক হয়েছে।বালিশের পাশে মোবাইলটা হাতে নিয়ে ঘুম ঘুম চোখে ফোন রিসিভ করলাম।
-হ্যালো.....
ও পাশে নীরবতা।
-হ্যালো, কে?
এবার একটু ধমকের শুরে বলে উঠলাম।এবার ওপাশ থেকে খসখস একটা শব্দ এলো।তারপর,
#হ্যালো, স্যার।সরি স্যার।হঠাৎ করে ফোন চলে গেছে।
আমি বললাম, "কে আপনি? "
#স্যার আমি সেতু।
-ওহ আচ্ছা, তা সেতু, কি খবর? এত রাতে ফোন দিছো যে! ঘুমাও নি?
#না স্যার ঘুমাই নি।আর ফোনটা এমনিতেই চলে গেছে।চাপ লেগে।আপনাকে বিরক্ত করার জন্য সরি।
আমি একটু স্বাভাবিক ভদ্রতা দেখিয়ে বললাম, no problem , its all right. ঠিক আছে ঘুমাও তাহলে।
বলেই ফোনটা রাখতে যাচ্ছি।ওমনি ওপাশ থেকে সেতু বলল, স্যার, আপনার কি খুব ঘুম পাচ্ছে? স্যার,
আমি কি আপনার সাথে একটু কথা বলতে পারি?
আমি বললাম, সেতু, ঠিক আছে কাল সকালে।
#না স্যার, এখনি।প্লিজ দুই মিনিট।
-আচ্ছা বলো।
তারপর ও পাশ থেকে একটানা ১ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড পর্যন্ত মোটামুটি দুইশ কথা বলে ফেলল প্রায় এক নিশ্বাসে।
ওর কথা শুনে আমি তো পুরাই বেকুব হয়ে গেলাম।না হ্যা বলার শক্তি আছে না না বলার শক্তি!
মাথায় জ্যাম লেগে গেলো।
কি বলল এসব?  
আমি তো মনের ভুলেও কোনদিন ভাবিনি এসব।আর আজ কিনা, এই মেয়েটি নিজের মুখে সব বলে দিল??
আমি কিছুক্ষন চুপ চাপ থেকে বললাম, ঠিক আছে, সকালে এ বিষয়ে কথা বলব।
।।
#নীলকান্ত©
ফ্রমঃ  ছোট গল্প "সেতু"।(১ ও ২)অংশ বিশেষ।
www.facebook.com/swopnonil

বিদ্রোহ

তোর জানালার গ্রিলটা ভেঙে ফেলবো,
বড্ড জ্বালাচ্ছে আজকাল।
রাস্তার ঐ ল্যাম্পপোস্ট টা,
ঢিল দিয়ে উড়িয়ে দেব ভাবছি;
স্ট্রীট ডগ টাকে আছাড় মেরে
সরিয়ে দেব পৃথিবী থেকে,
চাঁদকে ধরে কালো ব্যাগে ভরে রাখব,
মিউ মিউ করে ডাকা সাদা বিড়ালটাকেও,
বড্ড বিরক্ত করে আজকাল।
শীতকাল টাকে ক্যালেন্ডারের পাতা
থেকে মুছে ফেলে দেব ভাবছি,
নিদ্রাদেবীকে ধরে এনে
তোর ঘরে বেধে রাখবো,
কংক্রিটের দেয়াল ভেদী জাদু
শিখে আসবো,
গ্রীলের জানালাটা ভেঙে চুরমার করে দেব,
বাধা দেবে সাধ্য কার?
তোর-আমার মাঝে এরা,
বড্ড বাড়াবাড়ি করছে আজকাল।।
#নীলকান্ত©
www.facebook.com/swopnonil

নীলকান্ত

নীলকান্ত,
তুই বিখ্যাত হয়ে গেছিস,জানিস?
তোর ভ্যান্না তলায় কলার পাতার ঘর,
শাড়ির আঁচল ছুঁইয়ে, নগ্ন বুকে
প্রেমের তুফান,
গলা টিপে হত্যা করা ভালোবাসার ভ্রুন,
কারো মন ছুঁয়েছে।
নীলকান্ত,
তুই জানিস,তুই বিখ্যাত হয়ে গেছিস?
পত্রিকার সাহিত্য পাতায় তোর কবিতা ছাপাবে বলে
অগ্রিম জানিয়ে দিলো।
শুস্ক মরুতে যে সবুজের উদ্যান করবি বলেছিলি,
এবার তার কূপ খননের পালা!
বালি ছেকে পানি তোলার আহবান।
নীল, তুই জানিস?
তোর কবিতা, কোন রমনীর মনের
আঙিনায় বাসা বেধেছে!
ঘর বেধেছে তেপান্তরের মাঠে?
স্বপ্ন বিভোর চক্ষুহতে ঘুম কেড়েছে,
হৃদয় নোঙর ফেলছে মনের ঘাটে।
নীলকান্ত,
তুই জানিস, তুই বিখ্যাত হয়ে গেছিস।
হা হা হা...
বিখ্যাত হয়ে গেছিস!!
#নীলকান্ত©
www.facebook.com/swopnonil

যুবক

আমি কি এখনো সেই ছোট্ট খোকা
আছি নাকি?
যে তুমি,কার্টুন দেখিয়ে মন ভুলাবে?
আমি কি সেই ছ'বছরের সুবোধ বালক!
যে তুমি, লাঠি লজেন্স দেখিয়ে মন ভুলাবে?
আমি আজ ২৫ বছরের উদ্দাম যুবক,
কার্টুন দেখে দেখে আর মন ভরে না,
এবার রক্ত-মাংসের মানুষ চাই।
যার উলের মত হাত আছে,
হরিনীর মত চোখ আছে,
মেঘ কালো চুল আছে যার,
আছে কলমিলতার দেহ।
গোলাপের মত ঠোট আছে যার,
হুইস্কির মত উন্মাদনা আছে যার।
পশমি বলের মত বুক আছে যার,
আছে কোকিলের মত কন্ঠ।।
আমি কি এখনো সেই ছোট্ট খোকা আছি নাকি!
যে তুমি, কথার জালে মন ভুলাবে?
আমি কি সেই ছ'বছরে সুবোধ বালক
আছি নাকি?
যে তুমি, রঙিন ঘুরির লোভ দেখিয়ে
আমায় কাছে নেবে!
আমি আজ ২৫ বছরের হালহীন,পালহীন নৌকা,
যার নোঙর করার তীর প্রয়োজন,
যার, দীর্ঘ যাত্রার জন্য পাল প্রয়োজন।
প্রয়োজন, একটা হাল।।
দীর্ঘ সমুদ্র পথের ক্লান্তি ভুলানো নাচ প্রয়োজন,
গান প্রয়োজন।
প্রয়োজন, তোমাকে।।
#নীলকান্ত ©
[[০১/১১/২০১৪ 02:18am]]
(আমি জানি, তুমি বুঝবে)
www.facebook.com/swopnonil

চড়ুইভাতি

যাহ!
তোকে চাইব না আর ডাকতে কাছে,
ভ্যান্না তলায়, কলার পাতায় ঘর বানাতে।
আমন খরের জাজিম পেতে
ডাকবো না আর,
চাইবো না আর বউ বানাতে।
গোল মরিচের তরকারি আর
জংলী কচুর শাক,
বলব না আর রাঁধতে তোকে
বালি মাটির ভাত।
করবো না আর  মাটির থালায়
মিছি মিছি বউভাত।
গামছা পড়িয়ে চাইব না আর বউ বানাতে,
ভ্যান্না তলায় কলার পাতার ঘর পাতাতে।
বলব না আর,বৃষ্টি মাথায় আসতে কাছে,
ডাকবো না আর, বউ বলে রাগলে পাছে।
যাহ!
তোকে ডাকবো না আর চড়ুইভাতির
ঘর সাজাতে,
চাইবো না আর ভ্যান্না তলায়
কলার পাতা,আমনের খর আর
কঞ্চি কেটে ঘর বানাতে।।
#নীলকান্ত©
[[ কেন জানি ছেলেবেলায় ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে খুব।সেই চড়ুইভাতি, কলা পাতার ছাউনি,কচুরিপানার মাছ,মাটির হাড়ি পাতিল, মিছিমিছি ভাত রান্না করা আবার ফিরে পেতে ইচ্ছে করছে খুব।]]
www.facebook.com/swopnonil

লাভ এবং শেয়ারিং

কাউকে সব কিছু শেয়ার করতে না পারলে সেখানে আর যাই থাক ভালোবাসা থাকে কিনা জানি না।
বিশ্বাসটা সেখানে ভেণ্ডারওয়ালের মত হয়ে যায়।টোকা লাগলে ভেঙে পড়ে।
এমন কোন ছেলে/মেয়ে নাই যে তার প্রেমিকা বা প্রেমিকের কাছে অন্যের প্রশংসা তথাপি গুনগান শুনতে রাজি আছে।।
যাই হোক, আমি এ বিষয়ে আর কিছুই বলব না।আমি অনেক কঠিন মানুষ। আমার মনটাও অনেক শক্ত পাথরের মত।
পাথরের উপর পাথর ধাক্কা খেলে হয় দুটোই ভেঙে যায়, না হয় যেকোন একটা অথবা দূরে সরে যায়।
আর পাথরে পানি ছিটালে পাথর তবুও ভিজে থাকে। এই তো,তাই না?
যদি আগে জানতাম, নিজের সুখ দুঃখ অন্যের কাছে শেয়ার করার মানে হলো নিজেকে অস্পৃশ্য করে তোলা। তবে কখনোই কিছু বলতাম না।বরং যে উড়ুু মতবাদ আমাকে ঘিরে প্রচলিত তেমনি থাকাই যুক্তিযুক্ত ছিলো।
ফেসবুকে কাউকে ব্লক করে রাখা মানে সে যতই কাছের মানুষ হোক না কেন তাকে তোমার সবকিছু থেকে দূরে সরিয়ে রাখা।সে না পারবে তোমাকে মেসেজ করতে না তোমার অনুভুতির খতিয়ান বুঝতে।
জীবনের হিসাবটাও একই রকম।তুমি কাউকে কিছু না শেয়ার করলে সে কখনোঈ তোমাকে বুঝতে পারবে না।কারন তার মাথায় তো আর জট নেই, না সে কোন মুনি ঋষি যে অন্যের মনের ভাবনাটাও একনিমিষে পড়ে ফেলতে পারবে!
ভালোবাসার সেখানেই সলিল সমাধি।ভালোবাসা সেখানেই শ্মশানের চিতায় জ্বলে ছাই হয়ে বাতাসে মিশে যাবে।।
কষ্ট তো তখন পাবেই।কারন সেই সমাধি সৌধের স্থপতি যে আর কেউ নয়,তুমি।।
www.facebook.com/swopnonil

কলমিলতা

প্রায় এক যুগ পর এক বন্ধু আজ ফোন করেছে। ফোনটা ধরে আমি বললাম, কে?
ও পাশ থেকে একটা মেয়েলী কন্ঠস্বর ভেসে এলো।
"কিরে স ম (আমার নামের পদবীর সংক্ষিপ্ত রুপ) কেমন আছিস? "
হঠাৎ করে এরকম সম্ভোধন শুনে আমার বুকের মধ্যে ছ্যাৎ করে উঠলো। এ নামে আমাকে তো এখন কেউ ডাকে না। আজ থেকে ১২ বছর আগেই যা আমি পেছনে ফেলে এসেছি সেই সম্বোধন!  আমি তো রীতিমতো অবাক।
বললাম, কে আপনি??
ও পাশ থেকে মিষ্টি সুরে অচেনা রমনী বলে উঠলো , "ভুলেই যখন গেছিস তখন আর পরিচয় দিয়ে লাভ কি? "
আমি বললাম,  কিন্তু কে? আপনি যে আমার পূর্ব পরিচিত এবং অনেক আগের চেনা কোন মানুষ তা আমি বুঝতে পারছি।তবে.... ঠিক ধরতে পারছি না।"
মেয়েটি অত্যন্ত নম্র ভাবে,সুললিত কন্ঠে, মিষ্টি করে আমাকে জিজ্ঞাসা করল, "বলতো কে হতে পারি? "
আমি অবশ্য সেটাইঈ এতক্ষন ধরে ভাবছি, আসলে কে এই মেয়ে!কন্ঠ চেনা না হলেও কথার ধরন আর সুর আমাকে ইতিমধ্যে ১২ বছর পেছনে নিয়ে গেছে।একবার ভাবছি, হয়ত শারমিন হবে না হলে...
উমমম....সেলিনা,আকলিমা,কনা,ফৌজি,সাবিনা,রুনা,সালমা আর কে কে যেন ছিলো!!
উমমম..... এই মুহূর্তে এই কটা ছাড়া আর কারো নাম মনে হচ্ছে না।
তাই নিজের ভেতরে সব কিছু চাপা দিয়ে কিছুটা চেনার ভান আর কিছুটা কৌতুহল নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, "কি রে তুই?  তুই কুমিল্লার সেই সুন্দরী না?? "
আসলে সত্যি কথা বলতে কি আমি জাষ্ট একটু আন্দাজ করে বললাম।কারন স ম নামে আমার প্রাইমারির বন্ধু বান্ধবী ছাড়া কেউ কখনো ডাকত না।আর আমার ক্লাসের সবগুলো মেয়েঈ কম বেশি সুন্দর ছিলো।তাই সুন্দরী বলাটা বেশি কিছু না।
আমি মেয়েটি কে চিনতে পেরেছি, এই ভেবে ও পাশ থেকে ও আনন্দে আটখানা। আসলে তো এখনো আমি অন্ধকারেই আছি তা কি করে বলব!
ও পাশ থেকে বলে চলল, কিরে তাহলে তেলাপোকা টাকে ধরে ফেলেছিস। "
ওহ মাই গড!এ আমি কার সাথে কথা বলছি?  এ যে আমাদের কলমিলতা।ক্লাসের সবচেয়ে স্মার্ট, বুদ্ধিমতী, চটপটে মেয়ে।আদর করে আমরা ও কে তেলাপোকা বলে ডাকতাম।
ওরা অবশ্য আমার আর শাহরিয়ারের(আমার বন্ধু) একটা একই ধরনের নাম দিয়েছিল।কিন্তু প্রেস্টিজ পাংচার হওয়ার সমূহ সম্ভাবনার কারনে নামটা প্রকাশ করলাম না।
আমি এতক্ষনে ওকে যখন চিনতে পারলাম তখন আমার মধ্যে বিশ্বজয়ের আনন্দ।
বললাম, কি রে তুই আমার নাম্বার কই পেলি?  কি করছিস এখন?  কোথায় তুই?  বিয়ে করছিস না কি? হাসব্যান্ড-বাচ্চা কাচ্চা ইত্যাদি।।।।
হঠাৎ করেই যেন দু জন প্রাইমারি স্কুলের বারান্দায় ফিরে গেলাম।আমি যেমন উতলা হয়ে ওকে জিজ্ঞাসা করছি তেমনি ও কোনটা রেখে কোনটা বলবে ভাবে পাচ্ছে না।
বলা শুরু করল," আর বলিস না, পুরোনো ডায়রি খুঁজতে গিয়ে তোর ঠিকানা পেলাম। তারপর তোর নাম ধাম দেখে ভাবলাম, নিশ্চয় তুই ইন্টারনেট ইউজ করিস তাই গুগলে তোর নাম লিখে সার্চ করলাম।
ব্যাস, তোর ব্লগ এর লিংক পেলাম।গুগল + এ তোর ছবি দেখলাম।
এই তুই না অনেক সুন্দর হয়ে গেছিস রে!!"
ওর সামনা সামনি এই অহেতুক প্রশংসায় আমি একটু লজ্জাই পেলাম।
বললাম, রাখত। আমি আবার সুন্দর??
তারপর বল।
আমার কলমিলতা বলা শুরু করল,"তারপর আর কি! এই যে ব্লগ থেকে ফেসবুক লিংক পেলাম। একটু সন্দেহ ছিল কিন্তু স্কুলের নাম দেখে শিওর হলাম। "
"তারপর ফোন নম্বরটা নিয়ে এই যে ফোন দিলাম। "
বললাম, "ও আচ্ছা। যাক গুগলকে থ্যাংকস। ও না হলে হয়ত কোন দিন আর কথা হত না।"
মনে মনে ভাবলাম,  সত্যি প্রযুক্তি কতই না উপকারে আসে।আহা!!  শুধু ব্যবহারের সদ্বিচ্ছা থাকতে হবে।আমরা এর ভালো টা নেব না খারাপটা নেব।
যাই হোক, তারপরে অনেক কথা হল। ছেলে বেলার দুষ্টোমি থেকে শুরু করে বড়বেলার  পাগলামি। সব সব কিছু।।
যাক, ১২ বছর পরে এমন কারো সাথে কথা হবে ভাবতেও পারিনি কখনো।
থ্যাংকস গুগল, থ্যাংক্স ফেসবুক।।
(দুঃখিত, লিখতে লিখতে কিছু লিখা বাদ পরে গেল।)
www.facebook.com/swopnonil

ভালোবাসবো মানুষের মত

হয়ত তোমার পথ চেয়ে বসে থাকা,
খররৌদ্রে মাঝ রাস্তায় দাড়িয়ে অথবা
পুর্নিমা বা অমাবস্যার ঘুটঘুটে অন্ধকারে তোমাকে খুজে ফেরা ছিল আমার পাগলামি।
এবার আমি মানুষ হবো।
মানুষের মত ভালো বাসব।
যেভাবে তুমি চাও।
আমার মাতাল ভালো বাসাকে এবার পিঞ্জরে ধরে রাখব।
লোহার বেড়ী, মনকড়া পড়িয়ে নিয়ে যাব তোমার আদালতে।
তুমি না দিলেও, নেব স্বেচ্ছা নির্বাসন,
সারাদিন ঘরের কোনে বেধে রাখব মন।
ঘাপটি মেরে বসে থাকাবে আমার ভালবাসা।
তোমার দৃষ্টির আড়ালে নীরবে  পোষা কষ্টে
ক্ষত বিক্ষত হৃদয়ে যন্ত্রনার প্রলেপ দেব।।
তবুও এবার আমি মানুষ হব।
ভালবাসব মানুষের মত।।

একটা সকাল দিতে ইচ্ছে করে

একটা সকাল দিতে ইচ্ছে করে তোমায়,
এরকম এক বৃষ্টিস্নাত সকাল।
আকাশে কালো মেঘের ভেলা,
বিদ্যুতের ঝলকানি,
গুরুম গুরুম বজ্রপাত
আর মাথার উপর ঝুম বৃষ্টি।
আর সেই সকালে,
রাস্তা ফাকা,পাতি হাসগুলো খেলবে জলকেলি।
বজ্র মেঘের ঝলকানিতে চোখ বন্ধ করে-
দু কানে আঙ্গুল ঢুকাবে অশীতিপর বৃদ্ধা।
আর তোমার ভীত-সন্ত্রস্ত মুখটা
লুকোবে আমার বুকে।
শির শির করে কেঁপে উঠা তোমার ঠোট,
উষ্মতা খুজবে আমার ঠোঁটে।
এরকম এক সকাল দিতে ইচ্ছে করে খুব।
এমনই একটা বৃষ্টিস্নাত সকাল।।

স্পেশাল দিন-১১/১২/১৩
আজ নাকি কোন স্পেশাল দিন!!
ওহ!এখন তো রাত।
দিন তো সেই কখন রাতের
আধারে ঢেকেছে।
তাহলে আমিই বোধহয় এক্টু
দেরি করে ফেলেছি।
রাস্তার পাশের ওই দোতলার
জানালাটা খোলা ছিল,
এলোকেশী কোন রমণীর ধব
ধবে সাদা পিঠের
সকালের সুর্যস্নান দেখতে দেখতে দুপুর
গড়িয়েছে।
তারপর,
নিকশ কালো ভেজা চুল শুকাতে আসা
পাশের বাড়ির যুবতীর
দিকে চেয়ে থাকতে থাকতে হয়েছে
আসব আসব করেও আসা হয়নি।
আচ্ছা,আজ না কি কোন স্পেশাল দিন?
সেও তো চলে গেছে আধারের
সাথে সাথে।
তবুও রাত এখনো কিছুটা বাকি!
কিন্তু,দোতলার বারান্দারর
এলোকেশী রমণী নেই,
নেই পাশের বাড়ির যুবতী।
হয়তবা আবারো একশ বছর
পরে ফিরে আসবে
ওরা দুজন, ফিরে আসব আমি।
ফিরে পাব আজকের এই স্পেশাল দিন।।
তোরে কইছি না,আর আসবি না এই হানে।
বুকের জ্বালা বারাইস না আর,
ভেতরে রক্ত ফুটতাছে,টগবগ কইরা।
১১০ মাইল বেগে বইয়া যায় ঝড়,
১০ রিক্টারে ভুমিকম্প ভাইংগা ফেলাইছে সব।
কেম্নে থাকমু খাড়া।
তুই আর আইস না এই হানে।

প্রিয় দেবী (বিরহের চিঠি) ৩

প্রিয় দেবী, অনেকদিন পর তোমায় লিখছি। কতদিন পর! ঠিক ঠাক মনে পড়ছেনা কিছুই। শুধু মনে পড়ে, শত শত চিঠি পাঠিয়েছি বেনামী ঠিকানায় বহুদিন। হয়ত সেসব কখ...