Showing posts with label চিঠি. Show all posts
Showing posts with label চিঠি. Show all posts

আই মিস ইউ (পত্র-৩)

প্রিয়া,
খুব ইচ্ছে করছিলো, বাঁশি বাজাই।গলা ছেড়ে ডেকে উঠি তোমাকে। বিরহী হৃদয়ের অব্যক্ত আর্তনাদ গুলি ভাসিয়ে দেই বাতাসের তরঙ্গে।
সুরের মূর্ছনায় তোমার তন্দ্রালু আখি পাতে স্বপ্নের বুনে দেই জাল।
কিন্তু ইট-পাথরের চার দেয়ালের মাঝে আমার বাঁশির সুর তোমার কান অবধি কি পৌছবে?
জানিনা।
শহুরে দালান কোঠায় হয়ত প্রতিধ্বনিত হয়ে সে আর্তনাদ  ফিরে ফিরে আসবে আমারই কাছে।স্বপ্নলোক থেকে আছড়ে পড়বে হৃদয় পোড়া কয়লা গুলি।অথবা বাতাসের বিপরীতায়ন স্বপ্নপোড়া ছাইগুলোতে ঢেকে যাবে সুর।
রাতের নিস্তব্ধতা ভেদ করে মর্মভেদী আর্ত-চিৎকারে আকাশের তারাগুলো খসে পড়বে এক এক করে।চাঁদের বুড়িটা তার চড়কা ছেড়ে উঁকি মেরে দেখবে হৃদয়ের বিরহের চিতা জ্বলছে দাউ দাউ করে!
শুধু তুমিই দেখবে না,শুনবে না কোন কিছু।জানালার ফাঁক গলে শেষ প্রহরের হিমেল হাওয়া লাগতেই আলতো করে টেনে নেবে গায়ের কাঁথা।
তারপর আবারো সেই অঘোর ঘুম।পবিত্র-নিস্পাপ চেহারা,টোল পড়া গালে মৃদু হাসি।
আর আমি?
বাঁশির সুর খুঁজে যাব হন্যে হয়ে। যে সুর তোমার কানে পৌঁছাতে পারে! ইট-পাথরের দেয়াল ভেদ করে তোমার ঘুম ভাঙাতে পারে, তেমন সুর।
#নীলকান্ত
৫/৫/১৫ ০২:০৩ এএম

আই মিস ইউ,পত্র-২

আই মিস ইউ (পত্র-২)
প্রেয়সী,
হৃদয়ের স্পন্দন অনুভব না করলে হৃদয়ের অনুভূতি বোঝা যায় কিনা জানিনা।আর।, আমার মতে সেই স্পন্দন অনুভব করতে হলে দুটি হৃদয়ের উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়া চাই দুজনার মাঝে।
কিন্তু দেখো,
তুমি বলেছো, প্রতিদিন তোমাকে একটা পত্র লিখা চাইই চাই।কিন্তু মোবাইলের কী-প্যাডে কি আর হৃদয়ের অনুভূতি লিখা যায়? যায় না।
হয়ত কাগজ-কলমে লিখলে কিছুটা বোঝানো যেত। কিংবা বুঝে নিতাম বর্ণের প্রতিটি টানে।হয়ত দু'ফোটা বিরহী চোখের জলে অনুভূতি লেপ্টে থাকত প্রতিটি লাইনে।
কিন্তু , মোবাইল ইন্টারনেট আর এসএমএস এর যুগে তোমার কিংবা আমার  সে অনুভূতি গুমরে মরে মোবাইল স্ক্রীনে।না তুমি অনুভব কর,না করতে পারি আমি।ব্যকুল হৃদয়ে না পাওয়ার আর্তনাদ বেদনার বালুচরে এসে জমা হয়।তারপর কোন ঝড় বাতাস কিংবা উত্তাল ঢেউয়ে মিশে যায় সব অথবা একাকার হয়ে যায় গুমোট আধারের বুকে। শুধু পড়ে থাকে সেই সব দিনগুলি , সেই সব সুখের অনুভূতি যা তুমি আমি দু'জনে মিলে কোন এক সন্ধ্যায় অনুভব করেছি একান্তভাবে!
আজও সেরকম এক সন্ধ্যা এসেছিলো।ছাদে দাড়াতেই বুক জুড়িয়েছিল একটানা বয়ে যাওয়া সেই রকম বাতাসে।অনুভূতির পাতা হাতড়ে খুঁজে পেয়েছিলাম, তোমার আমার সেইসব কিছুক্ষন। শুধু তুমি ছিলে না আজ,সেদিনের মত।তাই কেউ আজ আধারের ভয়ে মুখ গুজেনি বুকের ভেতর। বড্ড একা ছিল সেই ক্ষণ। 
অবশেষে অনুভূতিকে তোমার কাছে পৌছে দেয়ার প্রানান্তর চেষ্টা। কি জানি, তুমি সেই অনুভূতি অনুভব করতে পারলে কি না! যদি না পারো তবে,আধার ঘরে খোলা জানালায় দাড়িয়ে এক বুক বাতাস নাও,হয়ত সে বাতাসে আমার অনুভূতির গন্ধ পাবে।আর ঘুমরে মরা অনুভুতি গুলো খুঁজে পাবে তার ঠিকানা!
শেষ অবধি, তুমি তাকে আর সে তোমাকে খুঁজে পেলে জানিও।অপেক্ষায় রইলাম।
ইতি

ক্রেডিটঃ#নীলকান্ত

I miss u 1(আই মিস ইউ-পত্র-১)

আই মিস ইউ(পত্র-১)

প্রিয়তমা,
সারাদিনের ক্লান্তি নিয়ে বাসায় এসে যখন সদর দরজার তালা খুলতে যাই,তখন সমগ্র পৃথীবির বিষন্নতা ভর করে আমার উপর।
আমি ভাবি,হয়ত ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে দরজায় একবার কড়া নাড়তেই দরজা খুলে যাবে।এক গাল প্রাণ ভরানো হাসি নিয়ে তুমি দাঁড়িয়ে থাকবে খোলা দরজার সামনে।
ভাবি, সেই হাসির রেখায় মিলিয়ে যাবে আমার সারাদিনের ক্লান্তি,শ্রান্ত শরীর।
হয়ত, ঘরে ঢুকতেই তুমি ব্যস্ত হয়ে যাবে, আমার খাবারের বন্দোবস্ত করতে। তারপর, আমি যখন ওভাবেই খেতে যাবো,তখন তুমি হুকুমের স্বরে বলবে,"যাও,আগে হাত মুখ ধুয়ে আসো।"
কিন্তু কি আশ্চার্য দেখো!
তার কোনটাই আর হয় না।
আমি অভুক্ত-ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঠিকই দরজায় দাড়াই, কিন্তু দরজা খোলার মানুষ নেই আজ।
আমি ঠিকই , দরজা খুলে ভিতরে ঢুকি কিন্তু কেউ হাসি মুখে দাঁড়িয়ে থাকে না, কেউই ব্যস্ত হয়না কি খেতে দেবে তার জোগাড় করতে। কিংবা হাত মুখ না ধুয়ে খেতে বসলেও কেউ বারন করে না কখনো।
বড় একা হয়ে  গেছি আজ।কিন্তু দেখ,এই সেদিনও সব কিছু ঠিক ছিলো । সেদিন এসব কিছুই মনে হয়নি।
তবে আজ কেন হয়? আজ দু'জনে দু প্রান্তে তাই?
আজ দু'জন পাশাপাশি নেই বলেই কি?
হয়তবা।
আচ্ছা, তোমারও কি কখনো এমন লাগে? বুকের ভেতর কোথাও খচ করে উঠে, কিচেনের চুলা জ্বালাতে গিয়ে।যখন কেউ বলে না, "এই সাবধানে! আগেই গ্যাস জ্বালাবা না।আগে দেয়াশলাই জ্বালিয়ে চুলার উপর রাখো,তারপর গ্যাস ছাড়ো ধীরে ধীরে।"
কিংবা যখন পাতিল টা নামাতে গিয়ে হাতে আঁচ লাগে! তখন কি মনের অজান্তেই আমাকে ডেকে উঠো?
কিংবা, যখন কেউ তোমাকে মুখে তুলে খাওয়ায় না,তখন কার উপরে অভিমান করে মুখ ঘুড়িয়ে থমকে থাকো? মনের কোনে জমতে থাকা কষ্ট গুলো ক্যামনে তুমি লুকিয়ে রাখো?
আমি জানি, তোমার চোখে তখন ছলছল করে লোনা জল।বুকের মধ্যে আর্তনাদ করে স্মৃতি গুলো। চিৎকার করে ডাকতে ইচ্ছে করে আমাকে।কিন্তু পারো না।গাল বেয়ে চুইয়ে পরে স্বপ্নগুলো লোক চক্ষুর অন্তড়ালে।
আর ক্যালেন্ডারের পাতায় দাগ দিয়ে রাখো চলে যাওয়া দিনগুলি, অনাগত ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে।
আমিও যে তোমারই মত চেয়ে আছি।আমিও যে সেই আগামীর জন্য বুক বেধে স্বপ্ন দেখি।সেই সব দরজার এপাশের-ওপাশের স্বপ্ন।।

ক্রেডিট# নীলকান্ত

প্রিয়তা (খোলা চিঠি)

প্রিয়তা,
তুমি আমার সুখের সময় যেমন আমার পাশে থাকো, তেমনি দুঃখের সময়ও সুখের স্পর্শ দিতে এগিয়ে আসো।
তুমি এভাবেই পাশে থেক আমার।তুমি পাশে থাকলে অনেক সাহস পাই,ভরসা পাই।জীবন যুদ্ধে লড়াই করার জন্য আবারো শক্তি পাই।
স্বীকার করছি আমার জীবন অনেক ছন্নছাড়া, অগোছালো টাইপের।কিন্তু বিশ্বাস করো,এখন খুব গুছিয়ে চলতে ইচ্ছে করে।ইচ্ছে করে যে, একটা সুন্দর স্বপ্ন সাজাই তোমাকে নিয়ে।যেখানে তোমার আমার ভালোবাসা দিয়ে সাজানো গোছানো একটা ঘর থাকবে,সুখ থাকবে, সচ্ছল একটা জীবন থাকবে। এ স্বপ্ন দেখা কি পাপ?
তবে
অনেক সময় কিছু বিলাসী স্বপ্নে আমি খুব বিভোর হয়ে যাই।বিভোর হয়ে যাই, একটা পরিপাটি, সুন্দর বিলাসী স্বপ্নে। যেখানে তোমার চাওয়ার আগেই সব ইচ্ছে পূরণ হয়ে যায়।।তোমার মনের মধ্যে কোন কিছু স্পন্দিত হলেই তা তোমার সামনে হাজির হয়ে যায়,এমন এক বিলাসী স্বপ্ন।।
কিন্তু,
আমি জানি,তুমি আমার কাছে এমন কিছুই চাও না,বা যা তোমার খুব দরকার তাও চাও না।কিন্তু আমার একটা মন আছে, জ্যোতিষীর মত মন।যা তোমার মনকে ঠিক পড়ে নিতে পারে।যে কথা তুমি মুখে বলো, অথবা তোমার হৃদয় যে কথাগুলো  স্পন্দিত হয়,সব।
তাই তুমি না চাইলেও কিংবা কোন কথা তোমার মুখ ফুটে না বের হলেও ঠিক তা আমার কানে পৌঁছে যায়।। তখন মনে হয়, যদি পারতাম তবে পৃথিবীকে তোমার হাতের মুঠোয় আর সমগ্র মহাকাশ ও তার গ্রহ নক্ষত্র গুলো তোমার পায়ে লুটাতাম।
লক্ষীটি,
আজ ভালোবাসা দিবসে হয়ত সবাই প্রেমিকার মন রাখায় ব্যস্ত।কিন্তু দেখো,কি হতভাগা আমি যে,তোমার সাথে হাত ধরে হাটবো,তাও হয়ে উঠলো না।ছোট একটা আশা তাও পূরণ হলো না।
তবে এটাই আমার অনেক বড় পাওয়া যে,তুমি আমাকে বুঝতে পারো। কখন,কিভাবে চলতে হবে তুমিই তা আমাকে শেখাও।এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কি হতে পারে?
আমি যখন হতাশার চাদরে মুখ লুকিয়ে ঘরের কোনে নিজেকে বন্দী করেছি,ঠিক তখনই তোমার বিজ্ঞ অভিমত আর শান্তনার বিচক্ষণতায় আমি  আশ্চার্যান্বিত।
মিষ্টি করে বুকের কষ্ট বুকে লুকিয়ে আমাকে বললে, "আজ হলো না তো কি হয়েছে? এখনো অনেক সময় আছে  । "
এর পরে কি আর কোন দুঃখ থাকতে পারে? পারে না।
জান, সত্যি আমিই সৌভাগ্যবান যে তোমাকে পেয়েছি।আর
এভাবেই সারাজীবন পাশে থেক আমার।।
ইতি
নীলকান্ত
Nilkanto( নীলকান্ত)

বিরহ চিঠি

আমার হাতে পুড়ে পুড়ে ছাই হওয়া জ্বলন্ত সিগারেট দেখলে মায়া হয় তোর। মুখে চুকচুক শব্দ করে বলিস,
"ইস! এই সিগারেটটাই তোমার জীবনটা শেষ করে দিলো। "
কিন্তু যে আগুন আমার বুকে জ্বালিয়ে আমাকে তুই পুড়িয়ে কাঠ কয়লা করেছিস তার খবর রাখিস না।সত্যি আশ্চার্য তোর ভালোবাসা!!
ছেলেবেলায় একবার কলা গাছের পাতা কাটতে গিয়ে বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুল প্রায় হাড়াতে বসেছিলাম।সেদিন এত রক্ত ঝড়েছিলো আর ব্যাথা পাচ্ছিলাম যে, মনে হয়েছিলো আমি বুঝি আজ মারাই যাব।মা বকা দেবে বলে সেই কথাটাও মাকে বলিনি।নীরবে দূর্বা ঘাসের রস আর আমার পুরোনো গেঞ্জির কাপড় জড়িয়ে রেখেছিলাম সেখানে।কেউ যাতে বুঝতে না পারে তাই কতভাবে যে লুকিয়ে রেখেছিলাম তার ইয়াত্তো নেই।।
আজও যখন তোর কথার ছুড়িতে হৃদয়টা কেটে ফালাফালা, অবহেলার শকুনিগুলো বুকের উপর বসে হৃৎপিন্ডটা খুবলে খাচ্ছে তখনো আমি সেদিনের মতো নীরব।তুই কষ্ট পাবি কিনা জানিনা কিন্তু তারপরেও বলতে পারিনি কখনো। হয়ত সহানুভূতির মিথ্যে খোলসে ভালোবাসার সলিল সমাধি হওয়ার ভয়ে কখনো আর বলাও হবে না।
তুই কি জানিস,
সিগারেটের নিকোটিন আমাকে যতটা না শেষ করছে তার চেয়ে বেশি শেষ হচ্ছি তোর নীরবতার ছুড়িকাঘাতে!! হয়ত জানিস কিন্তু বুঝিস না।তাই ভালো থাকার মিথ্যে অভিনয়ে কত ভাবে যে সেই ক্ষত লুকিয়ে রাখছি তুই যদি বুঝতি!!
সেদিন তুই রাগ করে বললি,
"সত্যি,আমি আর পারছি না।"
তোর কথা শুনে বুকটা আরেকবার মোচড় দিয়ে উঠলো। মনে হলো,বুকের সব কটা হাড় মড় মড় করে ভেঙে হৃৎকম্পন বন্ধ করে দেবে।নিজের পাজড় ভাঙার শব্দটা কখনো শুনেছিস? শুনিস নি।শুনলে বুঝতি,কতটা কষ্টের পাহাড় জমলে বুকের পাঁজড় ভাঙে!
তারপরে বললি,
" আমি কিছুই জানি না আমি শুধু তোমাকে ভালোবাসি"।
তোর এই কথাটা নতুন করে আশা জাগায় আবার।হৃৎস্পন্দন ধীরে ধীরে ট্র‍্যাকে আসে।কিন্তু তা ধরে রাখতে পারলাম না তোর পরের কথায়।
তুই বললি, "ঠিক আছে আমায় আর কিছু বলতে হবে না।"
আমি বললাম," রাগ করছো??"।
তুই সেই চিরচেনা অবস্থায় ফিরে গিয়ে বললি," না, আচছা ভালো থাক।"
তারপর হুট করে হারিয়ে গেলি।
তুইই বল,তারপরে আবার কিভাবে আমি স্বাভাবিক থাকি? কিভাবে স্বপ্ন সাজাই? স্বপ্ন দিয়ে ভালোবাসার জন্য যে ঘর আমি গড়ে তুলেছিলাম সেই ঘর তুই এক নিমিষে তাসের ঘরের মত ভেঙে ফেললি।
একদিন অভিমান করে বললি,
আমার জন্য নাকি কোন পরী আছে।সেদিন তোর অভিমানী মুখটা খুব দেখতে ইচ্ছে করেছিলো।কাছে থাকলে তোর উষ্ণ ঠোটে ভালোবাসার স্পর্শ দিয়ে বলতাম,"আমার পরী-টরী লাগবে না,আমার এই দেবীকেই চাই।"যাকে ভালোবাসার অর্ঘ্য নিবেদন করে সারাটা জীবন কাটিয়ে দেব।
কিন্তু কি আশ্চার্য দেখ! তুই সেই সুযোগটাও কখনো দিলিনা।
তোর কাছ থেকে খুব বেশি কিছু চেয়েছিলাম কি? শুধু হাসি মুখে দুটো কথা আর দু দন্ড শান্তি ছাড়া?


#নীলকান্ত (বিরহ)

প্রিয় দেবী (বিরহের চিঠি) ৩

প্রিয় দেবী, অনেকদিন পর তোমায় লিখছি। কতদিন পর! ঠিক ঠাক মনে পড়ছেনা কিছুই। শুধু মনে পড়ে, শত শত চিঠি পাঠিয়েছি বেনামী ঠিকানায় বহুদিন। হয়ত সেসব কখ...