Showing posts with label বিরহের চিঠি. Show all posts
Showing posts with label বিরহের চিঠি. Show all posts

I miss u 1(আই মিস ইউ-পত্র-১)

আই মিস ইউ(পত্র-১)

প্রিয়তমা,
সারাদিনের ক্লান্তি নিয়ে বাসায় এসে যখন সদর দরজার তালা খুলতে যাই,তখন সমগ্র পৃথীবির বিষন্নতা ভর করে আমার উপর।
আমি ভাবি,হয়ত ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে দরজায় একবার কড়া নাড়তেই দরজা খুলে যাবে।এক গাল প্রাণ ভরানো হাসি নিয়ে তুমি দাঁড়িয়ে থাকবে খোলা দরজার সামনে।
ভাবি, সেই হাসির রেখায় মিলিয়ে যাবে আমার সারাদিনের ক্লান্তি,শ্রান্ত শরীর।
হয়ত, ঘরে ঢুকতেই তুমি ব্যস্ত হয়ে যাবে, আমার খাবারের বন্দোবস্ত করতে। তারপর, আমি যখন ওভাবেই খেতে যাবো,তখন তুমি হুকুমের স্বরে বলবে,"যাও,আগে হাত মুখ ধুয়ে আসো।"
কিন্তু কি আশ্চার্য দেখো!
তার কোনটাই আর হয় না।
আমি অভুক্ত-ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঠিকই দরজায় দাড়াই, কিন্তু দরজা খোলার মানুষ নেই আজ।
আমি ঠিকই , দরজা খুলে ভিতরে ঢুকি কিন্তু কেউ হাসি মুখে দাঁড়িয়ে থাকে না, কেউই ব্যস্ত হয়না কি খেতে দেবে তার জোগাড় করতে। কিংবা হাত মুখ না ধুয়ে খেতে বসলেও কেউ বারন করে না কখনো।
বড় একা হয়ে  গেছি আজ।কিন্তু দেখ,এই সেদিনও সব কিছু ঠিক ছিলো । সেদিন এসব কিছুই মনে হয়নি।
তবে আজ কেন হয়? আজ দু'জনে দু প্রান্তে তাই?
আজ দু'জন পাশাপাশি নেই বলেই কি?
হয়তবা।
আচ্ছা, তোমারও কি কখনো এমন লাগে? বুকের ভেতর কোথাও খচ করে উঠে, কিচেনের চুলা জ্বালাতে গিয়ে।যখন কেউ বলে না, "এই সাবধানে! আগেই গ্যাস জ্বালাবা না।আগে দেয়াশলাই জ্বালিয়ে চুলার উপর রাখো,তারপর গ্যাস ছাড়ো ধীরে ধীরে।"
কিংবা যখন পাতিল টা নামাতে গিয়ে হাতে আঁচ লাগে! তখন কি মনের অজান্তেই আমাকে ডেকে উঠো?
কিংবা, যখন কেউ তোমাকে মুখে তুলে খাওয়ায় না,তখন কার উপরে অভিমান করে মুখ ঘুড়িয়ে থমকে থাকো? মনের কোনে জমতে থাকা কষ্ট গুলো ক্যামনে তুমি লুকিয়ে রাখো?
আমি জানি, তোমার চোখে তখন ছলছল করে লোনা জল।বুকের মধ্যে আর্তনাদ করে স্মৃতি গুলো। চিৎকার করে ডাকতে ইচ্ছে করে আমাকে।কিন্তু পারো না।গাল বেয়ে চুইয়ে পরে স্বপ্নগুলো লোক চক্ষুর অন্তড়ালে।
আর ক্যালেন্ডারের পাতায় দাগ দিয়ে রাখো চলে যাওয়া দিনগুলি, অনাগত ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে।
আমিও যে তোমারই মত চেয়ে আছি।আমিও যে সেই আগামীর জন্য বুক বেধে স্বপ্ন দেখি।সেই সব দরজার এপাশের-ওপাশের স্বপ্ন।।

ক্রেডিট# নীলকান্ত

শেষ চিঠি

প্রিয় প্রথম প্রেম,
লিপির
প্রথমে ভালোবাসা নিতে বলবো সে ক্ষমতা আমার
নেই।
আজ তোমার বিয়ে।
শুনে ভালো লেগেছে না খারাপ
লেগেছে সে কথা বলতে চাই না।শুধু সেই ২০০২
সাল থেকে
২০১০ সাল পর্যন্ত কিছু সময়ের
কথা মনে পরে গেলো তাই দু কথা লিখছি
শৈশবের অবুঝ
ভালোবাসা যৌবনে যে দোলা দিয়েছিলো তার
পরিনতিতে তোমায় হারিয়েছি।
সেটাঈ আমার সবচেয়ে বড় পরাজয়।
তা না হলে হয়ত জীবনের ইতিহাস একটু অন্য
রকম হত।যাই হোক,
সেই ভুলের চরম মূল্য দিয়েছি গত চার বছর।
শুরুটা সেখান থেকে যেখান থেকে তুমি শুরু
করেছিলে।
আসলে তোমার কোন দোষ ছিল না।সব দোষ
ছিল আমারই।আমিই পারিনি তোমার
ভালোবাসার যথাযথ মূল্য দিতে।
আর তাই ঠিক অনুরুপ ভাবে তুমিও আমাকে সেই
ব্যাথাই দিয়েছিলে যা আমার পাওনা ছিল।
কিন্তু অপেক্ষাকৃত একটু বেশিই
হয়ে গিয়েছিল।
তারপরেও তোমার কোন দোষ দিচ্ছি না।
তবে এতদিন যে কথা টি তোমায়
বলা হয়নি সেই গোপন কথাটি আজ বলছি।
আজ বলছি এ জন্যই যে,আজ
হতে তুমি চিরদিনের জন্য আমার কাছ পর হয়ে যাচ্ছ।আজ বলছি এ জন্যঈ যে,আর কোনদিন তোমাকে বলার সুযোগ পাব না।আজ বলছি এ জন্যই যে,আজ হতে তুমি অন্য
কারো ঘরনি হয়ে,অন্য কারো বুকে মাথা রেখে তোমার জীবন
কাটাবা।
আমি জানি,কথাটা বলার অধিকার আজ আমার নেই।কারন আমিই সেই অধিকার ক্ষুন্ন
করেছিলাম।তুমি বার বার
ফিরে আসতে চাইলেও আমি গ্রহন করিনি।আর গ্রহন করিনি সে কারনেই যে কথাটা আজ তোমায় বলতে যাচ্ছি।।
লক্ষীটি,
আর ভনিতা করতে ইচ্ছে করছে না।তাই বলেই ফেলি।তার আগে তোমার দাম্পত্য জীবন সুখি হোক, সুন্দর হোক সেই কামনা করি।
সেই সাথে পারলে আমাকে ক্ষমা করো। কারন,
তোমাকে ছোয়ার যে ক্ষমতা আমি চার বছর আগেই হারিয়েছি তা আমি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চাইনি আর।
সেই সাথে ক্ষমা করো, কারন,তোমার আমার ব্রেক হবার পরে আমি রাগে,ক্ষোভে,অপমানে অসংখ্য মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছি।তাদের কষ্ট দিয়েছি।কিন্তু বিশ্বাস করো,আমি কাউকে স্পর্শও করিনি।কিন্তু মন ভেঙেছি বহুবার।
তার জন্য আমায় ক্ষমা করো।আর
নীরবে পুষে রাখা আমার প্রথম
ভালোবাসা নীরবে রেখেই তোমাকে বিদায় জানাচ্ছি।তার জন্য পারলে ক্ষমা করো।।
আজ হতে আর কাউকে কষ্ট দেব না।
না নিজে কষ্ট পাবো।
তুমি ভালো থেক।সুখে থেক।
পারলে জীবনটা কে সুন্দর করে সাজিয়ে নিও।
আর তোমার হাসব্যান্ড কে ততটুকুই
ভালবেসো যা তার প্রাপ্য।তাহলে তোমার সেই ভুলগুলো হয়ত ক্ষমা পাবে।।
খোদা হাফেজ।ভালো থেক।
অনেক ভালবাসতাম তোমায়।পারলে ভুলে যেও ঠিক চার বছর আগের মত।।
আর আমাকে যদি সত্যিই
ভালবাসতে কখনো তবে এই মেসেজ পাবার পর প্লিজ কেঁদো না।তোমার কাছে আমার শেষ মিনতি।।
ইতি
তোমার প্রথম প্রেম


বিরহ চিঠি

আমার হাতে পুড়ে পুড়ে ছাই হওয়া জ্বলন্ত সিগারেট দেখলে মায়া হয় তোর। মুখে চুকচুক শব্দ করে বলিস,
"ইস! এই সিগারেটটাই তোমার জীবনটা শেষ করে দিলো। "
কিন্তু যে আগুন আমার বুকে জ্বালিয়ে আমাকে তুই পুড়িয়ে কাঠ কয়লা করেছিস তার খবর রাখিস না।সত্যি আশ্চার্য তোর ভালোবাসা!!
ছেলেবেলায় একবার কলা গাছের পাতা কাটতে গিয়ে বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুল প্রায় হাড়াতে বসেছিলাম।সেদিন এত রক্ত ঝড়েছিলো আর ব্যাথা পাচ্ছিলাম যে, মনে হয়েছিলো আমি বুঝি আজ মারাই যাব।মা বকা দেবে বলে সেই কথাটাও মাকে বলিনি।নীরবে দূর্বা ঘাসের রস আর আমার পুরোনো গেঞ্জির কাপড় জড়িয়ে রেখেছিলাম সেখানে।কেউ যাতে বুঝতে না পারে তাই কতভাবে যে লুকিয়ে রেখেছিলাম তার ইয়াত্তো নেই।।
আজও যখন তোর কথার ছুড়িতে হৃদয়টা কেটে ফালাফালা, অবহেলার শকুনিগুলো বুকের উপর বসে হৃৎপিন্ডটা খুবলে খাচ্ছে তখনো আমি সেদিনের মতো নীরব।তুই কষ্ট পাবি কিনা জানিনা কিন্তু তারপরেও বলতে পারিনি কখনো। হয়ত সহানুভূতির মিথ্যে খোলসে ভালোবাসার সলিল সমাধি হওয়ার ভয়ে কখনো আর বলাও হবে না।
তুই কি জানিস,
সিগারেটের নিকোটিন আমাকে যতটা না শেষ করছে তার চেয়ে বেশি শেষ হচ্ছি তোর নীরবতার ছুড়িকাঘাতে!! হয়ত জানিস কিন্তু বুঝিস না।তাই ভালো থাকার মিথ্যে অভিনয়ে কত ভাবে যে সেই ক্ষত লুকিয়ে রাখছি তুই যদি বুঝতি!!
সেদিন তুই রাগ করে বললি,
"সত্যি,আমি আর পারছি না।"
তোর কথা শুনে বুকটা আরেকবার মোচড় দিয়ে উঠলো। মনে হলো,বুকের সব কটা হাড় মড় মড় করে ভেঙে হৃৎকম্পন বন্ধ করে দেবে।নিজের পাজড় ভাঙার শব্দটা কখনো শুনেছিস? শুনিস নি।শুনলে বুঝতি,কতটা কষ্টের পাহাড় জমলে বুকের পাঁজড় ভাঙে!
তারপরে বললি,
" আমি কিছুই জানি না আমি শুধু তোমাকে ভালোবাসি"।
তোর এই কথাটা নতুন করে আশা জাগায় আবার।হৃৎস্পন্দন ধীরে ধীরে ট্র‍্যাকে আসে।কিন্তু তা ধরে রাখতে পারলাম না তোর পরের কথায়।
তুই বললি, "ঠিক আছে আমায় আর কিছু বলতে হবে না।"
আমি বললাম," রাগ করছো??"।
তুই সেই চিরচেনা অবস্থায় ফিরে গিয়ে বললি," না, আচছা ভালো থাক।"
তারপর হুট করে হারিয়ে গেলি।
তুইই বল,তারপরে আবার কিভাবে আমি স্বাভাবিক থাকি? কিভাবে স্বপ্ন সাজাই? স্বপ্ন দিয়ে ভালোবাসার জন্য যে ঘর আমি গড়ে তুলেছিলাম সেই ঘর তুই এক নিমিষে তাসের ঘরের মত ভেঙে ফেললি।
একদিন অভিমান করে বললি,
আমার জন্য নাকি কোন পরী আছে।সেদিন তোর অভিমানী মুখটা খুব দেখতে ইচ্ছে করেছিলো।কাছে থাকলে তোর উষ্ণ ঠোটে ভালোবাসার স্পর্শ দিয়ে বলতাম,"আমার পরী-টরী লাগবে না,আমার এই দেবীকেই চাই।"যাকে ভালোবাসার অর্ঘ্য নিবেদন করে সারাটা জীবন কাটিয়ে দেব।
কিন্তু কি আশ্চার্য দেখ! তুই সেই সুযোগটাও কখনো দিলিনা।
তোর কাছ থেকে খুব বেশি কিছু চেয়েছিলাম কি? শুধু হাসি মুখে দুটো কথা আর দু দন্ড শান্তি ছাড়া?


#নীলকান্ত (বিরহ)

প্রিয় দেবী (বিরহের চিঠি) ৩

প্রিয় দেবী, অনেকদিন পর তোমায় লিখছি। কতদিন পর! ঠিক ঠাক মনে পড়ছেনা কিছুই। শুধু মনে পড়ে, শত শত চিঠি পাঠিয়েছি বেনামী ঠিকানায় বহুদিন। হয়ত সেসব কখ...