Showing posts with label ছোট গল্প. Show all posts
Showing posts with label ছোট গল্প. Show all posts

নায়িকা ও আমি নীলকান্ত #১ম অংশ (ছোট গল্প)


নায়িকা ও আমি নীলকান্তঃ ১
#১
গল্পের নায়িকাকে বারবার ফ্লাশব্যকে যেতে দেখে শুধালাম,
" তা আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি? "
নায়িকা উত্তরে বললেন,"যখন আমি ক্লাস ফাইভে পড়ি, তখন ভাবতাম ডাক্তার হবো। তারপর আরেকটু বড় হয়ে শিক্ষিকা হবার শখ।"
এবার আমি জোড় করে তাকে বর্তমানে টেনে আনলাম,"ওহ হো,একটা কথা বলতে তো ভুলেই গেছি! "
নায়িকা উচ্ছাসিত কন্ঠে বললেন,"কি?  কি? "
"না, মানে আপনার হাসব্যান্ড কই থাকেন?" একটু নীচু স্বরে বললাম।
এবার নায়িকা তার নিজের আপাদমস্তক একবার চোখ বুলিয়ে বললেন, "আমার বয়স কি খুব বেশি মনে হয়? "
আমি বললাম, "ছি ছি,তা কেন! আপনাকে দেখে কেউ বুঝতেই পারবেনা আপনার বিয়ে হয়েছে? "
এবার নায়িকা কিছুটা লাজুক হেসে বললেন," আপনার যে কথা! আমার তো আসলেই বিয়ে হয়নি! "
মনে মনে ভাবলাম , তা তো বটেই। বিয়ে হবে কি করে! যার পাষ্টটা এত রোমাঞ্চকর, তার বিয়েটা একটু দেরীতে হওয়াটাই স্বাভাবিক। তা না হলে এত মধুর মধুর স্মৃতির জন্ম হত কোথা থেকে!
ভেতরের ভাবটা জোর করে চেপে রেখে অতি কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম,"তাই নাকি? বিশ্বাসই করতে পারছি না। আমি ভাবতেও পারিনি আমার ধারনা টা মিলে যাবে! আমি মনে মনে সেটাই ভাবছিলাম বটে।"
আমার অতি উৎসাহ দেখে নায়িকা বেশ খুশিই হলেন।লাজুক মুখটা একটু নীচু করে,  নিজের বাম হাতের আঙুলের নখ দাঁতের নীচে দিয়ে হেসে হেসে বললেন, "জানেন, এই গত কয়দিন আগেও বিয়ের প্রস্তাব এসেছিলো। প্রায় প্রতিদিনই আসে।আমিই নাকচ করে দেই।"
আমি কৃত্রিম কৌতুহলে জিজ্ঞাস করলাম, "কেন কেন? "
"এই ঠিক মত ছেলে পাইনা তাই। কেউ কেরানীর চাকুরী করে,কেউ দপ্তরি,কারো আবার বউ মারা গেছে!
আপনিই বলেন,এদের সাথে আমার কি যায়? " নায়িকা কিছুটা অভিমান নিয়ে বললেন।
আমি বললাম, "নাহ! কিছুতেই না।এসব লোকজন আপনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়ার সাহস পায় কি করে! ছি ছি!  আপনি কি এতটাই ফেলনা হয়ে গেছেন নাকি?
'  তা ম্যাডাম, আপনার কি ধরনের ছেলে পছন্দ? "
এবার নায়িকার মুখটা লজ্জায় লাল হয়ে গেলো। লজ্জাবনত মুখে লাজুক হেসে বললেন,"এই আপনার মত।স্মার্ট, লম্বা,সুন্দর দেখতে,স্বাস্থ্য ভালো, সুন্দর করে কথা বলতে পারে এমন কাউকে।"
এতক্ষনে নায়িকা যে লজ্জা পাচ্ছিলেন তার চেয়ে দশগুণ বেশি লজ্জা পেলাম আমি। মনে মনে বললাম,বলে কি রে!
নায়িকার কথা তখনো শেষ হয়নি।তিনি কথার সাথে আরো যোগ করলেন, "আপনার মত শ্যামলা হলেও চলবে।জানেন,আপনাকে না অপূর্বর মত লাগে! "
লজ্জা পাওয়ার আরো কিছু বাকি ছিল ঠিক ভাবিনি।শেষের কথাতে আরো বেশিই লজ্জা পেলাম। বলে কি?
কোথাকার কি,পান্তাভাতে ঘি!  কই অপূর্ব আর কই নীলকান্ত!
তবে এই তুলনা যে প্রথম শুনছি ঠিক তা না।এর আগে কমছে কম হাজার জন একই কথা বলেছেন।যদিও আয়নার সামনে দাড়ালে ঠিক বিশ্বাস হয়না, আর মিলাতেও পারি না।
যাই হোক,
যে পাঞ্চগুলো এতক্ষন আমি নায়িকাকে দিচ্ছিলাম,নায়িকা তা যে এভাবে ফেরত দেবেন তা ভাবতে এবং বুঝে উঠতে একটু সময় লেগে গেলো।
আমি নায়িকাকে উদ্দেশ্য করে বললাম, "কি যে বলেন আপনি! কোথায় আমি আর কোথায় অপূর্ব! আর আপনার মত মেয়ে আমার মত ছেলেকে পছন্দ করবেন কেন? আপনার আরো ভালো ছেলের সাথে বিয়ে হবে,দেখবেন।"
নায়িকা এবার একটু নড়েচড়ে বসলেন।কি যেন বলতে চেয়েও বললেন না। এদিকে আমি কোন মত এই স্থান ত্যাগ করবার অভিপ্রায়ে কাঁচুমাচু করছি।বারবার রিষ্ট ওয়াচটার দিকে তাকাচ্ছি আর ভাবছি, কি বলে এখান থেকে উঠা যায়!  সময়ও কম হলো না,সাড়ে পাঁচটা মত বাজে। আমি রিষ্ট ওয়াচ থেকে মুখটা তুলে নায়িকার মুখটা ওয়াচ করবো বলে যেই না তাকিয়েছি ওমনি অবাক হয়ে দেখলাম, একি! নায়িকা যে কাঁদছেন!!
কিন্তু কেন, তা ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না। আমি তাকাতেই তিনি তার উড়নার আচল দিয়ে চোখ মুছলেন। কিছুটা বিব্রত হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম,
"ম্যাডাম, আমি কি কোনভাবে আপনাকে কষ্ট দিয়েছি? প্লিজ নিজের অজান্তে কোন ভুল করলে ক্ষমা করবেন। "
এবার নায়িকা তার চোখের জলে ভেজা আচলটা হাতের আঙুলে জড়িয়ে আবেগাপ্লুত কন্ঠে বললেন,
"এত দিন অনেক মানুষের সাথে কথা বলেছি,কিন্তু কেউ আপনার মত করে আমার সাথে কথা বলেনি। সবাই আমার দূর্বলতার সুযোগ খুঁজেছে। একমাত্র আপনার সাথে কথা বলে আজ যত ভালো লাগলো, তা আমি কোনদিন ভুলবো না। গত দুই ঘন্টা আমার কাছে আজীবন স্মৃতি হয়ে থাকবে।"
নায়িকা আর কিছু বললেন না।কেমন যেন চুপসে গেলেন।এদিকে আমার নিজের কাছে নিজেই খুব বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়ে গেলাম। একজন মানুষ তার অতীতের দুঃখগুলো আমার সাথে শেয়ার করছিলেন কিন্তু আমি? আমি স্বার্থপরের মত তার কথা গুলোকে নিছক বাজে অতীত ভেবে কিভাবেই না অগ্রাহ্য করেছি!  তারপর আবার এখান থেকে পালানোর জন্য পথ খুঁজছি। ছি ছি! আমি এতটা স্বার্থপর??
নায়িকাও নীরব,আমিও নীরব। ড্রয়িং রুমের সিলিং ফ্যানের শ শ শব্দ ছাড়া আর কোন শব্দ নেই। বেশ কিছুক্ষন এভাবে যাবার পর নায়িকাই প্রথমে কথা পারলেন,
"নীল,আজ আপনি আমার বাসায় ডিনার করে যান।ফ্রিজে মাংশ আছে আর আমি ভালো বিরিয়ানি করতে পারি।আপনার অনেক ভালো লাগবে।"
আমি স্বাভাবিক ভদ্রতা বশত বললাম,না না।তার দরকার নেই।আজ আপনার সাথে ডিনার করতে পারছি না।অন্য কোনদিন নিশ্চয়ই করবো।
আজ যে আমাকে উঠতে হচ্ছে!  প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এলো। "
নায়িকা এবার ধরা গলায় বললেন, "হোক না! আজ ডিনার টা করে যান।আর কোনদিন আসবেন কি না, তা বলা যায় না।
অন্তত আজকে,প্লিজ।"
একবার ভাবছি,অনুরোধ টা রাখি।আবার মনে হচ্ছে,নাহ! আজ আর না। শেষপর্যন্ত ভাবনার দোলাচালে ২য় সিদ্ধান্তটাই স্থির করলাম।
উঠে দাঁড়িয়ে নায়িকাকে বললাম, আজ আমাকে উঠতেই হচ্ছে।সন্ধ্যার পরে বিশেষ একটা কাজ আছে। প্লিজ মন খারাপ করবেন না।।
নায়িকা এবার দাবির সুরে বললেন,"কাজটা কি খুব জরুরী? "
বললাম,"হ্যা।বেশ জরুরী। "
নায়িকা বললেন, "ঠিক আছে,খুব জরুরী কাজ থাকলে যান।কিন্তু কথা দিতে হবে, আরেকদিন আসবেন।"
আমি মুচকি হেসে মেইন দরজার সামনে এসে দাঁড়ালাম। বললাম,
যদি সৃষ্টিকর্তা আবার কখনো সুযোগ দেন,তবে অবশ্যই আসবো।
নায়িকা আমাকে মূল রাস্তা পর্যন্ত এগিয়ে দিতে দিতে বললেন, "অবশ্যই দেবেন।আর দিতেই হবে। 
আপনার সাথে ২য় বার দেখা না হওয়া পর্যন্ত আমি মরতে চাই না।"
কিছুটা অপ্রতিভ হয়ে নায়িকার মুখের দিকে তাকালাম। তার চোখে ছলছল জল,সকরুণ আহবান। সেখানে কোন কৃত্রিমতা নেই।না আছে অন্য কোন কিছু। আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না। একটা খালি রিকশা আসতেই দ্রুত উঠে পড়লাম।একবার পেছন ফিরে তাকিয়ে বললাম,"ভালো থাকবেন।"
Nilkanto( নীলকান্ত)

একগুচ্ছ অর্কিড আর একটি লাল গোলাপ

একগুচ্ছ অর্কিড আর একটি লাল গোলাপ
    by Tonmoy Parthib


  ১
সকাল থেকেই আকাশটা কেমন মুখ গোমড়া করে বসে আছে।মেঘগুলোও অনবরত গুড় গুড় করে ডেকেই চলেছে।বৃষ্টি আসা যে সময়মাত্র তা মিতু আগেই টের পেয়েছিলো।মিতুর অবশ্য আষাঢ়ের এই বৃষ্টিভেজা দিনগুলো খারাপ লাগে না।বৃষ্টির এই দিনগুলো শুরু হলেই মিতুর মনে পরে যায় জাকিরের সাথে তার প্রথম দেখা হওয়া দিনটির কথা।

আজ মিতুর দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকী।আজকের এই দিনটা শুধু জাকিরের সাথে কাটাবে বলেই নিজেকে আলাদা করে রাখা তার।জাকির অফিসের কাজে তিনদিন হল ঢাকার বাহিরে গিয়েছে।আজকেই তার ফিরবার কথা।কিন্তু বারবার জাকিরের ফোনে কল করার চেষ্টা করলেও মিতু ফোন অফ পাচ্ছে শুধু।রাগ হচ্ছে তার কিন্তু সে জাকিরের উপর আজ কোন রাগ করবে না।কারণ মিতু জানে তাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য জাকির এমন কাজ মাঝে মধ্যেই করে থাকে।এইতো এক মাস আগে,মিতুর জন্মদিনের আগের রাত থেকে জাকির ফোন অফ করে বাহিরে ছিল।ঠিক রাত বারোটা বাজার সাথে সাথেই হাজির হল একগুচ্ছ অর্কিডের মাঝে একটি লাল গোলাপ নিয়ে।সে রাতের মিতুর জমানো রাগগুলো আর প্রকাশ করা হয়নি।করবেই বা কিভাবে সাদা অর্কিডের মাঝে লাল গোলাপ তার যে সবচেয়ে প্রিয় বিন্যস্ত ফুল।আজও হয়ত এমন কোন সারপ্রাইজ দিবে বলেই জাকিরের এই ফোন অফ রাখা।আর মিতুর অপেক্ষার প্রহর বর্ধিত হওয়া।

বৃষ্টির প্রকোপতা সময়ের সাথে সাথে বেড়েই চলেছে।মিতুও হারিয়ে গেল এই বর্ধিত প্রহরে কিছু পুরনো সুখ স্মৃতি রোমন্থনে।আজ থেকে পাঁচ বছর আগে এমনি বরষা বাদল দিনে মিতু আটকা পরেছিল তার ভার্সিটির ক্যাফেটেরিয়ার বারান্দায়।হটাত পাশ থেকে ওর বান্ধবী বলে উঠল,মিতু দেখ ঐ ছেলেটি বারবার তোর দিকে তাকাচ্ছে আর কি যেন আঁকিবুঁকি করছে।মিতুও খেয়াল করল ব্যাপারটা কিন্তু উৎসাহ দেখানোর প্রয়োজন বোধ করল না।মিতুর বান্ধবী অবশ্য ছেলেটা কি করছে এই উৎসাহ চাপা দিতে না পেরে দেখতে গেল।দেখে এসে জানালো,ছেলেটি নাকি মিতুর ছবি আঁকছে।মিতুর একটু বিরক্ত লাগল,সে সোজা চলে গেল ছেলেটির কাছে।সরাসরি তাকে জিজ্ঞাসা করল,তার অনুমতি না নিয়ে কেন তার ছবি আঁকছে?মিতুর প্রশ্নে ছেলেটি ভ্যাবাচ্যাকা খেলেও দমে যায় নি,শুধু বলে উঠল,আপনি কি এখানে একটু বসবেন প্লীজ?
মিতু বলল,কেন?
তখন ছেলেটি বলল,আমি আজকেই প্রথম আপনার ছবি আপনাকে না জানিয়ে আকি নি,এর আগেও এঁকেছি।এই খাতাটায় ামার আঁকা আপনার সব ছবিই আছে।আপনি চাইলে দেখতে পারেন।ভালো না লাগলে ছিঁড়ে ফেলবেন,আবার শাস্তি স্বরূপ খাতাটা আপনিও নিয়ে যেতে পারেন।
মিতু ছেলেটির কথায় অবাক হয়ে গেল,আজকেই প্রথম আঁকছে না জেনে তার জানার,দেখার আগ্রহ ভিতরে ভিতরে বেড়ে গেল।সে ছেলেটিকে কিছু না বলেই তার হাত থেকে খাতা কেড়ে নিয়ে ছবিগুলো দেখতে লাগলো।হটাত একটি ছবিতে এসে সে স্তব্ধ হয়ে গেল।শুধু ভাবতে লাগল এটা কি করে সম্ভব!কেননা এই হাসিটা মিতু শুধু তখনই দেয় যখন সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মনের সাথে কথা বলে।তার সবচেয়ে প্রিয় মুহূর্তের ছবি এটি যা শুধু নিজের আর একান্ত আপন মানুষটির জন্য তুলে রেখেছে সে।
ছবিটি দেখার পর মিতু তার মুগ্ধতার আলোড়নে সাড়া দিয়ে বাহিরের বৃষ্টির পানে পা বাড়াল।বাহিরের বৃষ্টি এখন তার কাছে কোন বাঁধা মনে হচ্ছে না।আশপাশের সবকিছু ক্রমশ তার আপন মনে হতে লাগল।মিতুর হটাত এমন আচারন তার বান্ধবী আর ছেলেটির কাছে বোধগম্য না হলেও মিতু সেসবের ধার না ধরে ছুটে চলতে লাগল আপন মোহে।মিতুর শুধু মনে হতে লাগল,আজ যদি কেউ তার সামনে কোন শক্ত পাথুরের দেওয়ালও দাড় করিয়ে দেয় সে তাও ভেদ করে যেতে পারবে।

তারপর কিভাবে কখন ছেলেটির জন্য তার মনে জায়গা হয়ে গিয়েছে মিতু তা নিজেও জানে না।শুধু জানে এমনি এক আষাঢ়ের বরষা মুখর দিনে জাকির তার হলের সামনে ভিজতে ভিজতে এসেছিল একগুচ্ছ অর্কিডের মাঝে একটি লাল গোলাপ হাতে নিয়ে।আর বলেছিল,চল বৃষ্টিতে ভিজি।মিতু সেদিন কোন কথা বলে নি, শুধু রুম থেকে নিয়ে আসা ছাতিটা রেখে দিয়ে জাকিরের সাথে হাঁটা শুরু করেছিল।আর হাটতে হাটতে বৃষ্টির ফোঁটায় মিশে যাওয়া অশ্রু জল না মুছে জাকিরের হাতে হাত রেখেছিলো।

মিতু ইংরেজিতে পড়লেও তার ডিজাইনের প্রতি আলাদা একটা ঝোঁক ছিল।সে সাদা শাড়ি আর লাল পারের কাপড় কিনে সাদার মাঝে নকশা আর রঙের খেলা খেলতে ভালবাসত।আজকেও জাকিরকে সারপ্রাইজ দিবে বলে তার নতুন নকশা করা সাদা শাড়িটা পড়ে আছে সে।কিন্তু জাকিরের ফোন এখনও অফ হয়েই আছে।

দুপুর তিনটা বাজে।জাকির বলেছিল বারোটার ভিতর বাসায় পৌঁছুবে।আর প্রতিবারের মত এই দিনটাতে তারা একসাথে বৃষ্টিতে ভিজবে।বাহিরের বৃষ্টির প্রকোপতা কিছু না কমে যেন আরও বেড়েই চলেছে।মিতু ভাবতে লাগল,হয়ত আজ তাদের দুজনকে আবারো একসাথে ভিজাবে বলেই বৃষ্টি তার বর্ষণ ধারা অব্যাহত রেখেছে এখনো।
হটাত জাকিরের গাড়ীর হর্ন শুনে মিতুর ভিতরে সেই প্রথমদিনের মতন অজানা কিন্তু ভাললাগা অনুভূতির দোলা খেলে গেল।ছুটে চলল দরজা খুলে।সিঁড়ী বেয়ে নীচে নামতেই তার চোখে পড়ল গাড়ি থেকে নামানো হচ্ছে সাদা কাপড়ে মোড়া নীরব নিস্তেজ একটি শরীরকে।
সেই নিথর শরীরের ছিন্নভিন্ন অংশ থেকে বের হওয়া রক্তের স্রোত সাদা কাপড় ভেদ করে বাহিরে চলে আসছে। আর তার পাশে পড়ে রয়েছে একগুচ্ছ অর্কিডের মাঝে একটি লাল গোলাপ।
আর মাত্র এক ধাপ কিন্তু রিমির পা কেন জানি দৃশ্যমান শরীরের কাছে অদৃশ্য মায়াজালে বাঁধা পড়ে গেলো।শত চেষ্টাতেও এ বাঁধা ডিঙাতে পারছে না সে।যখন নিঃশেষিত শক্তির পুরোটা দিয়ে বাঁধা পেড়িয়ে মিতু জাকিরের সেই নিস্তেজ,নিথর শরীরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল,তখন মিতুর সাদা কাপড়ে লাল রঙের নতুন খেলা শুরু হল,যে খেলা বৃষ্টির প্রকোপতাও বন্ধ করতে পারছে না।

এক শ্রাবনের বিকেলে



এক শ্রাবনের বিকালে...
                      - স্বপ্ননীল



শ্রাবনের আকাশে ছোপ ছোপ মেঘ জমেছিল সেই সকাল থেকে তারপর শ্রাবন মেঘের অবিরত কান্না
সেদিনও শ্রাবনের দিন,আকাশে এই রকমই ঘন কালো মেঘ প্রকৃতির এমন রুপ সেদিনের আগে কখনও চোখে ধরে নি

বিকেল বেলা আকাশটা মেঘলা হালকা ঝড়ো বাতাস বইছে আমি আধ-শোয়া অবস্থায় শ্রীকান্ত,পঙ্কজ উদাসের গান শুনছি.....
আমার সারাটা দিন মেঘলা আকাশ
বৃষ্টি তোমাকে দিলাম........।।
হঠামোবাইল ফোনটা বেজে উঠল মোবাইল স্ক্রীনে সূপর্না কল রিসিভ করতেই পাশ থেকে সূপর্না  বলে চলল, “কোথায় তুমি ? দেখ আকাশটা কত সুন্দর লাগছে ! তুমি তাড়াতাড়ি আমার বাসার সামনে চলে এসোআমার মনটা হঠাকরেই যেন আনন্দে নেচে উঠল এমন অভাবনীয় প্রস্তাব কোনভাবেই হাত ছাড়া করা যায় না আমি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেলাম
বাইকটা নিয়ে কালবিলম্ব না করে  আমি ওর বাসার সামনে হাজির হলাম সূপর্না বারান্দাতেই দাড়িয়ে ছিল আমাকে দেখেই যেভাবে ছিল সেভাবেই এসে আমার বাইকে চড়ে বসল ওর চোখে মুখে চির চেনা চঞ্চলতা বলল. “ভালই হলো,তুমি বাইক নিয়ে এসেছ;চলো আজকে বাইকে করে বৃষ্টিতে ভিজবো
আমি ওকে বললাম, “তা ,কোথায় যাওয়া যায় ?”
বলল, “নির্জন কোন যায়গায় নিয়ে চল
আমার মাথায় তড়িবেগে আশ-পাশের যতগুলো র্নিজন জায়গা,বাগান,রাস্তা ছিল সব পাশ থেকে পাশে চলে গেল স্থির করলাম চলনবিলে যাব এখান থেকে প্রায় এক ঘন্টার পথ আকাশটা ততক্ষনে অন্ধকার হয়ে  এসেছে আশ-পাশের রাস্তার মানুষ গুলো যে যেভাবে পারে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে আর তারই মাঝে এক জোড়া বলাকা কালো মেঘের সাথে পাল্লা দিয়ে ছুটে চলেছি  ডানা মেলে ভালবাসার অমোঘ আকর্ষনে

সূর্পনাটাকে আজ কেন জানি অনেক সুন্দর লাগছে,বরাবরের চেয়ে আরো বেশী সুন্দর সাদা স্যালোয়র কামিজে এরকম মেঘলা পরিবেশে ওকে স্বর্গ থেকে নেমে আসা পরী বা তার চেয়ে বেশী কিছু মনে হচ্ছে
কিছুক্ষনের মধ্যেই বৃষ্টি নামবে আকাশটা দারুন তর্জন গর্জন করছে মাঝে মাঝে মেঘের আড়াল থেকে কে বা কারা যেন কর্কশ  কন্ঠে আমাদের হুমকি-ধামকি দিয়ে চলেছে অবিরত আর সেই সাথে বিজলী যোগ করেছে  এক অপার্থীব দৃশ্যের সূপর্না আমাকে জাপটে ধরে বসে আছে পেছনে ওর মেঘ কালো চুল গুলো অবাধ্য বাতাসে মাঝে মাঝে আমার মুখের সামনে এসে নাচানাচি করছে কন্ঠে চঞ্চলতা আর বাধ ভাঙা আনন্দের গান আজ বড্ড ছেলেমানুষী করে চলছে,আর তাই হয়ত এত বেশী সুন্দর লাগছে ওকে
অবশেষে চলনবিলের মাঝা-মাঝি এসে গেছি আমরা সামনেই বড় ব্রীজটা রাস্তার দুপাশে লাটিম গাছগুলোর ঝড়-বাতাসে হেলেদুলে নাচানাচি আর সেই সাথে দুপাশের অনন্ত জলরাশির উত্তাল মাতামাতি-দাপাদাপিতে নিজেকেই যেন হারিয়ে ফেললাম এই  প্রকৃতির মাঝে
সূপর্না আমাকে বলে উঠল, “এই দাড়াও,দাড়াও...এখানেই দাড়াও ....দেখ,কত সুন্দর লাগছে !”
আমি মনে মনে ভাবলাম এই প্রকৃতির মাঝে তোমার চেয়ে সুন্দর  আর কেউ নেই

বিলের মাঝে এই রাস্তাটা মোটামুটি দেড়-দুই কিলো এমনিতেই আশ-পাশে কোন বসতি নেই তার উপর ঝড়ো আবহাওয়ায় কাউকেই চোখে পড়ছে না এই নির্জন রাস্তায় শুধু আমি আর সূপর্না
বাইক দাড় করানোর দুই মিনিটের মধ্যে তুমুল বৃষ্টি সূপর্নার চোখে আরও বেশী চঞ্চলতা বাধাহীন উত্তাল তরঙ্গের মতই ছুটাছুটি করছে আর আমি অপলক চোখে চেয়ে আছি ওর দিকে আচানক আমার দিকে দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরল,বুকের মাঝে মুখটা লুকিয়ে হু হু করে কেদে উঠল বুঝলাম এত আনন্দ লুকিয়ে রাখতে পারছে না সেই সাথে মনে হলো এরুপ সুখের মুহূর্ত আর কোনদিন আসে নি,হয়তবা  আসবেও না
অঝড়ে বৃষ্টি ঝড়ছে সেই সাথে তুমুল বাতাস এই নির্জন পথের মাঝখানে দাড়িয়ে আছি আমরা দুজন বুকের ভিতর থেকে  হৃদয়ের উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়েছে দুজনার মাঝে,দুটি মন হারিয়ে গেল  সেদিন শ্রাবনের বৃষ্টিস্নাত বিকেলে  

অনন্তকাল এভাবেই থাকার প্রতিজ্ঞা করেছিলাম সেইদিন
বলেছিল, “পৃথিবীর সব কিছু এনে দিলেও তোমাকে আমি হারাতে চাই না।
কিন্তু সেই না চাওয়াটাই একদিন চাওয়ায় পরিনত হল সূপর্না আজ হয়ত সেদিনের প্রতীজ্ঞার কথা ভুলে গেছে ভুলে গেছে সেদিনের বৃষ্টি ভেজা বিকেল,সন্ধ্যা শুধু আমি পারি নি তাই বৃষ্টি ভেজা বিকেল এলেই ফিরে যাই সেই শ্রাবনের বিকেলে স্মৃতির তিনটি বছর পেছনে ।। 






তখন আমি অনার্সে পড়ি । ছোটবেলা থেকে ভাল ছাত্র হিসেবে যথেষ্ট নাম ডাক থাকলেও পরিণতিতে খুব বেশিদুর এগুতে পারিনি। যে বিষয় নিয়ে লেখাপড়া করছি , বলতে গেলে ;আসলে সবাই বলে এর নাকি কোন মার্কেট ভ্যেলু নেই। আর এসব কথা শুনতে শুনতে মাঝে মাঝে আমিও তাই ভাবতাম। কিন্তু আজ............।
যাই হোক,
সুপর্ণার সাথে আমার পরিচয় যখন আমি অনার্স প্রথম বর্ষে ।আর এর মানে হল প্রায় আট-নয় বছর আগে। আমি যেদিন ওকে প্রথম দেখি সেদিনও এমনি এক বৃষ্টির দিন। অঝরে বৃষ্টি ঝরছে।আমার কাপড়-চোপড় ভিজে চুপসে গেছে আর আমি, আমি ভিজে পানকৌড়ি। অনেক গুলো গাড়ি জ্যামে আটকে আছে, সেই সাথে আমিও। হটাৎ রাস্তার পাশের এক দোতলা বাসার বেলকুনিতে চোখ গেলো। হালকা আকাশী রঙের সেলয়ার কামিজের মাঝে ছিপ-ছিপে গড়নের এক অপরুপা আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে। আমি কতক্ষন ওর দিকে  তাকিয়ে ছিলাম জানি না, শুধু বুঝতে পারছিলাম আমার রাস্তা কিছুতেই এগুচ্ছে না। আমি ঠায় দাড়িয়ে আছি ওই মায়াবী চোখে চোখ রেখে। চোখে চোখ পড়তেই সুপর্ণা চোখ নামিয়ে নিল। দৌড়ে ভেতরের ঘরে চলে গেলো।
আর আমি-; আমি তখনো দাড়িয়ে আছি। হটাৎ একটা রিকশার বেলের আওয়াজে সম্বিত ফিরে পেলাম।
বৃষ্টির বেগ বেড়ে গেছে। সেই সাথে বেড়ে গেছে আমার শরীরের কাঁপুনি। আমি আর দাড়িয়ে থাকতে পারলাম না। একটি চাহনি , একটা মুক্ত ঝরানো হাসি আর প্রথম ভালো লাগার অদৃশ্য স্পর্শ নিয়ে বাসায় চলে এলাম। হয়তো একেই বলে love at first sight..
আহা !
সত্যি আমি হারিয়ে গেছি সেদিনই।
আমার এ মন হারিয়েছি আমি
কোথায় পাব তারে?
কোথায় পাব মনের দিশা
কোন সাগরের তীরে?
মুক্ত খোঁজে ডুবরির দল
অথৈই পানির জলে।
আমার এ মন খুজবে কে জন
কোন পাথারের জলে?
মেঘের আড়ালে লুকাবে মেঘ
মনের আড়ালে মন।
যে  মনেতে মন বেধেছে
মন নিয়েছে সে মন।


এরপর প্রতিদিন ঐ বাসার সামনে এলেই আমার চলার গতি শূন্যে নেমে আসত।মনে হতো, শরীরটা অসাড় হয়ে গেছে আর এক চুম্বকীয় শক্তি আমাকে টানছে প্রবল বেগে।যে বিকেলটা আমি বন্ধুদের আড্ডায় কাটাতাম তা এখন সুপর্ণা-দের বাসার সামনের লেকের পারেই কাটে ।আর আমার দুষ্টু চোখ খুজে বেড়ায় ঐ আকাশী স্যালয়ারে আমার ভাললাগার মানুষটিকে। ঠিক সাড়ে চারটায় তিন মিনিটের জন্য বারান্দায় দাঁড়াত ও।তারপর বিকেল সাড়ে পাঁচটায় পাঁচ মিনিটের জন্য।আর আমি তিনটা থেকে ছয়টা পরজন্ত প্রতিদিন ওখানেই বসে থাকতাম ঐ বেল্কুনির দিকে তাকিয়ে আট মিনিটের দর্শনের অপেক্ষায়। আট মিনি মানে অনেক সময় , ৪৮০ সেকেন্ড, যেখানে প্রতিটি সেকেন্ডকে মনে হতো এক এক ঘণ্টা, আর এক একটা দিন যেন এক এক শতাব্দী ।ঐ তিনটা ছয়টা ছাড়া সুপর্ণা সাথে আমার খুব একটা দেখা হতো না। কিন্তু মনের মধ্যে কোথায় যেন একটা আজব কিছুর উপস্থিতি টের পাচ্ছিলাম বেশ।
সেটা কি ভাললাগা ? না কি ভালবাসা?

আচ্ছা সুপর্ণাও কি আমার মত কিছু একটা অনুভব করছে?
জানিনা...।।

আজ প্রায় তিন মাস হয়ে গেছে আমাদের দেখা হওয়ার , আর কথা বলার।না না ওর সাথে সামনা-সামনি কখনো কথা হয়নি। যা হয়েছে তা মনে মনে ,চোখে চোখে। ভাষা বা ধ্বনির অন্তরালে।




এভাবে বেশ কয়েক মাস কেটে গেল।একদিন সকালে কলেজে যাচ্ছি।সুপর্ণা এবং ওর বান্ধবীরা হেঁটে হেঁটে কলেজের দিকেই আসছে। আমি হঠাৎ করে বাইকটা নিয়ে ঠিক রাস্তার মাঝখানে দাড়িয়ে সুপর্ণা কে বলেছিলাম,
-     সুপর্ণা অনেক লুকোচুরি হয়েছে। আজ তোমাকে একটা কথা বলব।
I love you

সুপর্ণা চুপ চাপ দাড়িয়ে ছিল । ওর মুখ ভয়ে থর থর করে কাঁপছে।
বললাম, যদি ভালোবাসো তবে যখন সময় হয় তখনই বল। আর যদি ভালো না বাস তবে যত দ্রুত সম্ভব বলে দিও।। তাতেই বরং সবচেয়ে খুশি হব।

আমি আর কোন কথা না বাড়িয়ে ওখান থেকে চলে এলাম।তারপর তিনদিন ওর বাসার সামনে যাইনি। দেখাও করিনি
  ২০০৬ সালের ১৪ ই ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২ টায় একটা এসএমএস এল আমার সেল ফোনে ।
“I love you too”
  সত্যি বলছি মূলত সেদিনই ছিল আমার ভালবাসার জন্মদিন। আর এরপরের সময়গুলো ছিল আমার জিবনের সবচেয়ে আনন্দের ও মধুর সময়।
  কত কত ছেলেমানুষি করেছি, রাত-দুপুরে হটাৎ করে হাটতে যাওয়া, বাইকে করে ঘুরতে যাওয়া, পূর্ণিমার রাতে বাসার ছাদে ওর কোলে মাথা রেখে প্রেমের কবিতা আবৃতি –
 আহা ! দেখতে দেখতে কিভাবে যে দু টি বছর কেটে গেলো বুঝতেই পারলাম না।
লোকে বলে সুখের সময় গুলো নাকি খুব দ্রুত চলে যায়। আজ আমার তাই মনে হয়।

২০০৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী, আগামিকাল আমাদের ভালবাসার ২য় বছর পূর্তি হতে চলেছে। আগামিকাল কে সামনে রেখে কিছু বিশেষ পরিকল্পনা আমার মাথায় আছে।
কিন্তু সুপর্ণা আমাকে ফোন দেবে বলেছে। সেই ফোন কলের অপেক্ষায় আছি আমি।
ও বলেছিল,
-     দেখ, ফোন টা যেন খোলা থাকে। আমি ঠিক চারটায় তোমাকে কল করব।
এখন দুইটা বেজে ২০ মিনিট। চারটা , মানে এখনো এক ঘণ্টা চল্লিশ মিনিট। মোট ১০০ মিনিট, ৬০০০ সেকেন্ড, কিন্তু প্রতিটি সেকেন্ড কে মনে হচ্ছে এক এক শতাব্দী।


সহস্র রজনী কেটে যাবে,
কেটে যাবে শত শতাব্দী,
জানিনা অপেক্ষার প্রহর কবে হব শেষ।
বয়ে চলে সময় নিরবধি।
You wandering in my dream
I feel your touch
Feel your breath on my neck
I don’t know,when my dream
comes true or it will be break.....

Ringing phone..............

-     হ্যালো কে বলছেন?
-     আমি।
-     এ নম্বর কার?
-     আম্মুর! শোন, তোমার সাথে রাতে একটু কথা বলব। সময় হবে তোমার?
হা হা হা হা..................
ওর ওই কথা শুনে আমার খুব হাসি পাচ্ছিল। যার জন্য জীবনটাই পূজার অর্ঘ হিসাবে পূজার ডালায় সাজিয়ে রেখেছি তার জন্য সময়!
হা হা হা হা......
    শুধু সময় কেন ! ও যদি আমার জিবনায়ু চায়,তবুও দেব কোন প্রশ্ন ছাড়া।
যাই হোক তখন শুধু বলেছিলাম,
-আমার কাছে অনেক সময় আছে। যদি সে সময়েও না হয় তবে বিধাতাকে বলে আরও কিছু সময় ধার করব। হা হা হা...
- ওই ওই... ওভাবে বলবা না। ঠিক আছে?
- আচ্ছা! আচ্ছা! ঠিক আছে।
- okey, ভালো থেক।
- হুমম...ভালো আছি। এখন থেকে আরও একটু ভালো থাকব।


#
আজ ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০০৮ সাল। সুপর্ণার সাথে আমার relation এর ২য় বছর পূর্তি হবে কাল। আগামিকাল কের জন্য বেশ কিছু পরিকল্পনা করে রেখেছি। ৭৩০ টি গোলাপ কিনে এনেছি আজ মজনু ভাইয়ের দোকান থেকে।
মজনু ভাই আমাকে এতগুলো গোলাপ এক সাথে কিনতে দেখে
বলল,
“ ভাইজান এত গুলাপ দিয়ে কি করবেন? আপারে দিবেন না কি?”
আমি মৃদু হাসলাম ।
বললাম,
“ মজনু ভাই, প্রেমিকার কাছে পৃথিবীর সব গোলাপ এনে দিলেও প্রেমিকের মন ভরে না; কখনো এতো মনে হয় না, মনে হয় এই কটা !”
মজনু ভাই একটু হেসে বলল,
“ ভাইজান, যা কইছেন ! তয় একটা কথা কই, সত্যিকারের প্রেম ভালবাসা এ যুগে দেখা যায় না। কাউ কে ভালবাসলে মন থেইকা না, দিল থেইকা ভালবাইসেন”।
আমি আরও একবার মৃদু হেসে ফুলগুলো নিয়ে চলে এলাম।
হা হা হা হা.........।
সত্যি-   
       ভালবাসা টা হল এক বিস্ময় ,
       মনকে ছুয়ে যায় কিন্তু হৃদয়ে বাসা বাধে।

যাই হোক-
সেদিন রাত ১১.৩০ এ সুপর্ণা আমাকে ফোন করল।
-     কি কর?
-     কিছু না,শুয়ে আছি।তুমি?
-     আমিও। শুয়ে শুয়ে তোমার কথা ভাবছি।
-     কি ভাবছ?
-     নীল, তোমার মনে আছে সেদিনের কথা?
-     কোন দিনের? কি কথা?
-     সেই বৃষ্টির দিন, তুমি বাইক নিয়ে ভিজে কাক!
-     হা হা হা হা হা......।
-     আমার দিকে ফ্যালফ্যালিয়ে তাকিয়ে ছিলে।
-     আর তুমি? আমাকে দেখে হাসছিলে, তাই না?
-     হুমম ...জানো, আজ কেন জানি তোমার আমার সেই দিনগুলির কথা খুব মনে পড়ছে। বৃষ্টিতে ভেজা,আমার বাসার সামনে তোমার বসে থাকা, হুট করে রাস্তার মাঝ খানে দাড়িয়ে তোমার  প্রপোজ করা। সব সব কিছু।।
-     ও কে। ও কে! অনেক হয়েছে এবার বল কাল কখন, কোথায় কিভাবে দেখা হচ্ছে?
-     কলেজের পুকুর পারে। কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে ঠিক সকাল সাড়ে দশটায়।
-     ও কে ! মহারানী ভিক্টোরিয়া আপনার আজ্ঞা শিরোধার্য ।যথাসময়ে যথাস্থানে বান্দা হাজির হবে।


কথা বলতে বলতে দেয়াল ঘড়িতে ১২ টার ঘণ্টা বেজে উঠলো।
সুপর্ণা বলল,  Happy Love Anniversary.
আমিও বললাম, Happy Love Anniversary.
- এবার আমার উপহার দাও।
আমি ভেবে পাচ্ছিলাম না ওকে কি বলব।
যাই হোক সেদিন ওকে বলেছিলাম,
জনম জনম পাশে থেক মোর
হইয়ো না কো কভু পর,
বিধাতার কাছে প্রার্থনা আজি
পাশে থেক তুমি হাজার জনম ভর।
আর প্রতি উত্তরে ও বলেছিল,
-     “তোমার আমার ভালবাসা, থাক চিরকাল
হৃদয়ের মাঝে থাকব সদাই
যদিও হই চোখের অন্তরাল”।

কেন জানি সেদিনের সেই কথা আমার ভালো লাগেনি।
আমি বলেছিলাম, তোমাকে কখনো চোখের আড়াল আমি হতে দেব না।


Continued………………..
smswopno_nil@ymail.com


প্রিয় দেবী (বিরহের চিঠি) ৩

প্রিয় দেবী, অনেকদিন পর তোমায় লিখছি। কতদিন পর! ঠিক ঠাক মনে পড়ছেনা কিছুই। শুধু মনে পড়ে, শত শত চিঠি পাঠিয়েছি বেনামী ঠিকানায় বহুদিন। হয়ত সেসব কখ...