Showing posts with label নীলকান্ত. Show all posts
Showing posts with label নীলকান্ত. Show all posts

মস্তিস্ক থেকে মস্তিস্কে ডেটা ট্রান্সফার, এটা কি অসম্ভব!!!

একজনের মস্তিস্ক থেকে অন্যজনের মস্তিস্কে স্মৃতি/ডেটা ট্রান্সফার, এটা সম্ভব!
---------------------------
যদি একশ জনকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে,সবচেয়ে কঠিন কাজ কোনটি, কায়িক শ্রম নাকি পড়াশোনা?
তবে আমার বিশ্বাস একশত জনই বলবে,"পড়ালেখা"।
কারণ, আপনি আপনার যে কোন কাজ অন্যকে দ্বারা করিয়ে নিতে পারেন।কিন্তু পড়াশোনা?
ইটস ইম্পসিবল।
আপনার পড়াশোনা অন্য কেউ করে দিতে পারবে না।আপনারটা আপনাকেই করতে হবে। এটা সবাই জানে ।
আর এই বিষয়টা নিয়েই এখন আমার যত মাথা ব্যাথা। আচ্ছা,এমন কি হতে পারে না যে,একজন পড়ালেখা করে তার মেমরি তে যা সঞ্চয় করেছে তা অন্য জনকে ট্রান্সফার করে দিতে পারবে!! Like computer's data transferring.
হলে বেশ ভালই হত বটে। আমার মনে হয় দূর ভবিষ্যতে এটাও করা সম্ভব হবে।আর সম্ভব হবে এ জন্যই যে-
ধরুন, আমাদের মস্তিস্কের একটা অংশ যা স্মৃতি সংরক্ষণ করে তা কম্পিউটারের একটা হার্ডডিস্ক/ মাইক্রো চিপের মত।অসংখ্য নিউরন দ্বারা গঠিত এই অংশ। যা কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক এর মতই কাজ করে।আমরা আমাদের ইনপুট অর্গানিজম চোখ,কান,নাক,মুখ(জিহ্বা  যা স্বাদ মনে গ্রহন করে) দেখি,শুনি,গন্ধ নেই, স্বাদ নেই কিংবা পড়ি তাই এটা সংরক্ষণ করে। তারপর বছরের পর বছর তা স্মৃতিতে ধরে রাখে। আবার মস্তিষ্ক কম্পিউটার হার্ডডিস্ক এর মতই ক্রাশ করে। আর তখন মানুষ তার স্মৃতি শক্তি হারিয়ে ফেলে।কিংবা বহু পুরোনো স্মৃতি ধীরে ধীরে মলিন হয়ে যায়। যদি মানুষের মস্তিস্ক এবং কম্পিউটারের মেমরির মধ্যে এতই সামঞ্জস্য তবে কম্পিউটার থেকে যেমন ডেটা ট্রান্সফার করা যায়,মস্তিস্ক থেকে কেন নয়!!
হয়ত আমার কথাগুলো পাগলের প্রলাপ মনে হতে পারে।আর হওয়াটাই স্বাভাবিক। কারন ইতোপূর্বেও যারা স্থান-কালের উর্ধ্বে কিছু বলেছে তাদের কথা গুলোকেও প্রলাপ বলে হেয় করা হয়েছে। কিন্তু যখন তার কথা বা তত্ত্ব প্রমাণিত হয়েছে তখন তারই ফলাফল আমরা সাদরে গ্রহন করেছি,আর করবোও তাই।
আমার বিশ্বাস দূর ভবিষ্যতে একজনের স্মৃতি অন্যজনকে ট্রান্সফার করা সম্ভবপর হবে।শুধু তাই নয়,এর দ্বারা আমরা বহু পুরোনো তথ্য পূর্বপুরুষের কাছ থেকে নিয়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে রাখতে পারব।
নীলকান্ত®

নারীর কুমারীত্ব এবং পুরুষ

বিয়ের পর পুরুষ অসহায়!
আজ একটু অফ টপিকে যাব।তাঈ টপিকটা যেহেতু সেন্সেটিভ এবং এডাল্ট তাই আমার শ্রদ্ধেয় গরু জনদের এবং স্নেহের বাচ্চাদের এখানেই ইতি টানতে অনুরোধ করছি।#প্লিজ আর পড়ার দরকার নাই।
আমার এই পোষ্টটি শুধুমাত্র অবিবাহিত ও বিবাহিত  বন্ধু বান্ধবীদের জন্য ।
মূল প্রসঙ্গে আসিঃ
ভার্জিনিটি নিয়ে অবিবাহিত পুরুষের জল্পনা কল্পনার শেষ নেই। সেই সাথে অবিবাহিত নারীদেরও।  বিয়ের আগে সব ছেলেই তার হবু বউ ভার্জিন হবে সেটাই আশা করে।আর নারীরা আশা করে এমন একজন পুরুষকে যার কাছে সে মানুষিক ও জৈবিক সুখ পাবে।এ ক্ষেত্রে পুরুষের প্রথম পছন্দ স্ত্রী যেন কুমারী হয়।
যাদের কপাল ভালো তারা পেয়েও যায় আর মন্দ কপালে দের জন্য মুখ বুজে মেনে নেয়া ছাড়া উপায় থাকে না। এর মধ্যে যারা সত্যিই কুমারী তারা নির্ভয়ে থাকে । নিজেকে উজার করে দেয় প্রিয় মানুষের কাছে।কিন্ত যে নারী কুমারীত্ব হারিয়েছে পূর্বেই সে নারী হয়ত তার কুমারীত্ব প্রমাণের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যায়।
মিলন শেষে মেয়েটা ভাবে, "যাক বাবা,আহ উহ করে বেঁচে গেলাম।" সো টেনশনটি নট।
আরে আপারা,এত কষ্ট করার কি দরকার!পুরুষের একটা গোপন কথা বলি,"অধিকাংশ পুরুষই নারীর কুমারীত্ব আছে কি নাই তা টের পায়না। হয়ত জানেও না, বুঝেও না। তাই, নো টেনশন।
কিন্তু এটাও সত্য যে নারীর স্পর্শই বলে দেয় সে কুমারী আছে কি নাই।আর অন্যান্য নিয়ামত সমূহ তো আছেই।
যাই হোক,
কোন ছেলেই তার বউ ভার্জিন না হলেও অন্যকে বলতে যায় না,যাবেও না।সে সব কিছু মেনে নেয় এই ভেবে যে,"Past is past ".আর অন্যকে বলার তো প্রশ্নই আসে না  । বরং সব জেনে বুঝেও তার স্ত্রী কে বুঝতে দেয় না যে সে সব বুঝতে পেরেছে। কারণ একটাই,যেন সংসারটা বিষের না হয়।
কিন্তু পুরুষ যখন সব কিছু জেনে বুঝেও মুখ বুজে চুপ করে থাকে।তখন নারীর উচিত তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা।  পূর্বের জীবন ভুলে নতুন জীবন শুরু করা। কিন্তু বর্তমান যুগে যা দেখা যায় তা সম্পূর্ণ বিপরীত। আর তাই সংসার হয় অশান্তির বীজাগার আর সম্পর্ক গুলো হয় ক্ষনস্থায়ী। এরই মধ্যে নারীর হাতে একটা ফালতু আইনি অস্ত্র আছে যা সে  বেচারা স্বামীর উপর কথায় কথায় প্রয়োগ করতে উদ্যত হয়।
কি আর করার তখন?
তখন পুরুষ হয়ে উঠে অসহায়!:P
নারী বিদ্বেষী মনে হচ্ছে আমাকে, তাই না?
না রে ভাই,আমি একদম নারী বিদ্বেষী নই। :)
২।
নারীর কুমারীত্ব নিয়ে বহু কথা বলেছি।এবার আসি পুরুষের কুমারত্ব নিয়ে । দুঃখিত ভাই, সৃষ্টিকর্তা পুরুষের কুমারত্ব নির্নয়ের জন্য কোন মাপ কাঠি দেন নাই,পদ্ধতিও কেউ কোন দিন জানায় নাই।যা দিয়েছেন তাতে পরিমাপ করার কিচ্ছু নাই। পুরুষ নিজেই ছাড়া আর কেউ জানে না সে একগামী না বহুগামি!
বাইচ্চা গেছস ব্যাটা,নইলে গর্তে পইড়া যাইতি! :P

প্রেম কখনো নিঃস্বার্থ হতে পারেনা।(আর্টিকেল)

নিঃস্বার্থ প্রেম বলে পৃথিবীতে কোন প্রেম নেই।এমনকি প্রেমের ক্লাসিফিকেশনেও নিস্বার্থ প্রেমের অস্তিত্ব নেই।তার মানে হলো,নারী বা পুরুষের প্রেম,খোদার প্রতি বান্দার প্রেম, প্রকৃতির প্রতি মানুষের প্রেম সকল প্রেমেই কোন না কোন স্বার্থ জড়িয়ে আছে।
কিভাবে?
আচ্ছা,তার জন্য শুধু দু' একটা প্রেমের ব্যাখ্যায় যাচ্ছি তাহলেই বাকি সব তথাকথিত নিঃস্বার্থ প্রেমের মাঝে স্বার্থপরতা খুঁজে পেতে কষ্ট হবে না।।
প্রথমত,প্রকৃতি ও মানুষের প্রেমের মধ্যে নজিরবিহীন নিঃস্বার্থ প্রেম দেখা যায়(আপাতদৃষ্টিতে।) । কিন্তু আসলেই কি মানুষ ও প্রকৃতির প্রেমে কোন স্বার্থ জড়িয়ে নেই? অবশ্যই আছে। মানুষ প্রকৃতির সাথে প্রেম করে। ভালবেসে প্রকৃতির পরিচর্যা করে।গাছ লাগায়,বায়ু দূষন,শব্দ দূষন রোধে  আইন পাশ করে।মিটিং করে,মিছিল করে, সবই করে।আর যেগুলো করতে পারেনা তাও করার চেষ্টা চালিয়ে যায়।প্রকৃতির প্রতি মানুষের এ প্রেম,"প্রেম নেহি তো কিয়া হ্যায়!" কিন্তু ইডা কি নিঃস্বার্থ প্রেম? অসম্ভব।
মানুষ প্রকৃতিকে ভালবাসে নিজের সুখের জন্য,সৌন্দর্যের জন্য আর বেঁচে থাকার জন্য  । প্রকৃতির উপকরণ মানুষের কাজে না আসলে এ প্রেম কখনোই আসতো না।
তারপর আসি খোদার প্রতি মানুষের প্রেম । আরে ভাই,এইডা তো জলের মত ক্লিয়ার! খোদার প্রতি মানুষের ভক্তি বা প্রেম হলো স্বার্থপরতার চরম উদাহরন। খোদাকে ভাল না বাসলে কপালে স্বর্গ জুটবে না,পরকালে শাস্তি পেতে হবে এরূপ ভয়ই হলো খোদার প্রতি মানুষের ভক্তি দেখানোর অন্যতম কারন।তবে মূল কারন হলো, "ডিমান্ড"।
মানে,ও খোদা তুমি আমায় স্বর্গ দাও,দুনিয়ায় ভাল একটা বউ দাও,চাকুরী দাও,রোগ-বালাই হতে মুক্তি দাও,এটা দাও,সেটা দাও, ওটাও দাও । যা আছে সব দাও।
এই চাওয়া গুলো না থাকলে মানুষ কখনো খোদার কথা মনেই করত না।প্রেম তো দূরের কথা। প্রেম বা ভক্তির সাথে যখন বিনিময় যুক্ত থাকে তবে তা,"স্বার্থপরতা নেহি তো অর কিয়া হ্যায়!! "
অতএব, মানুষের প্রেম সর্বদা স্বার্থপর। নিঃস্বার্থপরতা শুধু মাত্র একটা কল্পিত শব্দ ছাড়া কিছুই না!
এবার আসি,নারী পুরুষের নিঃস্বার্থ প্রেমে।নারী ও পুরুষের প্রেম কতটা নিঃস্বার্থ তা বুঝার পূর্বে বুঝতে হবে,

কোন নারী বা পুরুষ পরস্পরের প্রেমে পড়ে কোন কোন কারনে?

প্রথম দর্শনে প্রেম হয় কি কি দর্শন করে?

অতঃপর, প্রেমের চুড়ান্ত লক্ষ্যই বা আসলে কিসে লুকিয়ে থাকে?

উত্তর একটাই, "জৈবিক ও মানসিক শান্তি পাওয়ার ইচ্ছা।"
যখন কোন পুরুষ ও নারী পরস্পরকে দেখে বা পরস্পরের সাথে মিশে এটা অনুভব করে যে,"আমি তার সাথে থাকলে জৈবিক ও মানুষিকভাবে শান্তি পাব" একমাত্র তখনই দুজনার মধ্যে প্রেম জন্মাতে পারে।
আর এর প্রধান লক্ষ্যটা থাকে জৈবিক প্রশান্তি লাভের আশা। জৈবিক প্রশান্তি লাভ না করলে মানুষিক প্রশান্তিই উবে যাবে।তখন ভালবাসা বলেন আর প্রেম বলেন,যাই বলেন বা কেন তা থাকেনা।আবার জৈবিক চাহিদা পূরন হলেও যদি মানুষিক সুখ না পাওয়া যায় সেখানে প্রেম থাকে না । অর্থ্যাৎ "তুমি আমাকে সুখ দাও,বিনিময়ে আমি তোমাকে সুখি করবো" এরকম একটা পরোক্ষ্য বিনিময় চুক্তি জড়িয়ে থাকে  নারী -পুরুষের প্রেমে।
সুতরাং প্রেম শব্দটা নিঃস্বার্থ হতে পারে না।
তাই প্রেমে পড়লে যা বলা হয়,
"দেখ,আমি তোমাকে নিঃস্বার্থ ভাবে ভালবাসি। আমার ভালবাসায় কোন স্বার্থপরতা নেই।"
এটা শুধু কথার কথা। আসলে যে কথাটা বলা হয়না তা হলো, "আমি তোমাকে ভালবাসি কারন আমি স্বার্থপর। "
#নীলকান্ত

নায়িকা ও আমি নীলকান্ত #১ম অংশ (ছোট গল্প)


নায়িকা ও আমি নীলকান্তঃ ১
#১
গল্পের নায়িকাকে বারবার ফ্লাশব্যকে যেতে দেখে শুধালাম,
" তা আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি? "
নায়িকা উত্তরে বললেন,"যখন আমি ক্লাস ফাইভে পড়ি, তখন ভাবতাম ডাক্তার হবো। তারপর আরেকটু বড় হয়ে শিক্ষিকা হবার শখ।"
এবার আমি জোড় করে তাকে বর্তমানে টেনে আনলাম,"ওহ হো,একটা কথা বলতে তো ভুলেই গেছি! "
নায়িকা উচ্ছাসিত কন্ঠে বললেন,"কি?  কি? "
"না, মানে আপনার হাসব্যান্ড কই থাকেন?" একটু নীচু স্বরে বললাম।
এবার নায়িকা তার নিজের আপাদমস্তক একবার চোখ বুলিয়ে বললেন, "আমার বয়স কি খুব বেশি মনে হয়? "
আমি বললাম, "ছি ছি,তা কেন! আপনাকে দেখে কেউ বুঝতেই পারবেনা আপনার বিয়ে হয়েছে? "
এবার নায়িকা কিছুটা লাজুক হেসে বললেন," আপনার যে কথা! আমার তো আসলেই বিয়ে হয়নি! "
মনে মনে ভাবলাম , তা তো বটেই। বিয়ে হবে কি করে! যার পাষ্টটা এত রোমাঞ্চকর, তার বিয়েটা একটু দেরীতে হওয়াটাই স্বাভাবিক। তা না হলে এত মধুর মধুর স্মৃতির জন্ম হত কোথা থেকে!
ভেতরের ভাবটা জোর করে চেপে রেখে অতি কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম,"তাই নাকি? বিশ্বাসই করতে পারছি না। আমি ভাবতেও পারিনি আমার ধারনা টা মিলে যাবে! আমি মনে মনে সেটাই ভাবছিলাম বটে।"
আমার অতি উৎসাহ দেখে নায়িকা বেশ খুশিই হলেন।লাজুক মুখটা একটু নীচু করে,  নিজের বাম হাতের আঙুলের নখ দাঁতের নীচে দিয়ে হেসে হেসে বললেন, "জানেন, এই গত কয়দিন আগেও বিয়ের প্রস্তাব এসেছিলো। প্রায় প্রতিদিনই আসে।আমিই নাকচ করে দেই।"
আমি কৃত্রিম কৌতুহলে জিজ্ঞাস করলাম, "কেন কেন? "
"এই ঠিক মত ছেলে পাইনা তাই। কেউ কেরানীর চাকুরী করে,কেউ দপ্তরি,কারো আবার বউ মারা গেছে!
আপনিই বলেন,এদের সাথে আমার কি যায়? " নায়িকা কিছুটা অভিমান নিয়ে বললেন।
আমি বললাম, "নাহ! কিছুতেই না।এসব লোকজন আপনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়ার সাহস পায় কি করে! ছি ছি!  আপনি কি এতটাই ফেলনা হয়ে গেছেন নাকি?
'  তা ম্যাডাম, আপনার কি ধরনের ছেলে পছন্দ? "
এবার নায়িকার মুখটা লজ্জায় লাল হয়ে গেলো। লজ্জাবনত মুখে লাজুক হেসে বললেন,"এই আপনার মত।স্মার্ট, লম্বা,সুন্দর দেখতে,স্বাস্থ্য ভালো, সুন্দর করে কথা বলতে পারে এমন কাউকে।"
এতক্ষনে নায়িকা যে লজ্জা পাচ্ছিলেন তার চেয়ে দশগুণ বেশি লজ্জা পেলাম আমি। মনে মনে বললাম,বলে কি রে!
নায়িকার কথা তখনো শেষ হয়নি।তিনি কথার সাথে আরো যোগ করলেন, "আপনার মত শ্যামলা হলেও চলবে।জানেন,আপনাকে না অপূর্বর মত লাগে! "
লজ্জা পাওয়ার আরো কিছু বাকি ছিল ঠিক ভাবিনি।শেষের কথাতে আরো বেশিই লজ্জা পেলাম। বলে কি?
কোথাকার কি,পান্তাভাতে ঘি!  কই অপূর্ব আর কই নীলকান্ত!
তবে এই তুলনা যে প্রথম শুনছি ঠিক তা না।এর আগে কমছে কম হাজার জন একই কথা বলেছেন।যদিও আয়নার সামনে দাড়ালে ঠিক বিশ্বাস হয়না, আর মিলাতেও পারি না।
যাই হোক,
যে পাঞ্চগুলো এতক্ষন আমি নায়িকাকে দিচ্ছিলাম,নায়িকা তা যে এভাবে ফেরত দেবেন তা ভাবতে এবং বুঝে উঠতে একটু সময় লেগে গেলো।
আমি নায়িকাকে উদ্দেশ্য করে বললাম, "কি যে বলেন আপনি! কোথায় আমি আর কোথায় অপূর্ব! আর আপনার মত মেয়ে আমার মত ছেলেকে পছন্দ করবেন কেন? আপনার আরো ভালো ছেলের সাথে বিয়ে হবে,দেখবেন।"
নায়িকা এবার একটু নড়েচড়ে বসলেন।কি যেন বলতে চেয়েও বললেন না। এদিকে আমি কোন মত এই স্থান ত্যাগ করবার অভিপ্রায়ে কাঁচুমাচু করছি।বারবার রিষ্ট ওয়াচটার দিকে তাকাচ্ছি আর ভাবছি, কি বলে এখান থেকে উঠা যায়!  সময়ও কম হলো না,সাড়ে পাঁচটা মত বাজে। আমি রিষ্ট ওয়াচ থেকে মুখটা তুলে নায়িকার মুখটা ওয়াচ করবো বলে যেই না তাকিয়েছি ওমনি অবাক হয়ে দেখলাম, একি! নায়িকা যে কাঁদছেন!!
কিন্তু কেন, তা ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না। আমি তাকাতেই তিনি তার উড়নার আচল দিয়ে চোখ মুছলেন। কিছুটা বিব্রত হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম,
"ম্যাডাম, আমি কি কোনভাবে আপনাকে কষ্ট দিয়েছি? প্লিজ নিজের অজান্তে কোন ভুল করলে ক্ষমা করবেন। "
এবার নায়িকা তার চোখের জলে ভেজা আচলটা হাতের আঙুলে জড়িয়ে আবেগাপ্লুত কন্ঠে বললেন,
"এত দিন অনেক মানুষের সাথে কথা বলেছি,কিন্তু কেউ আপনার মত করে আমার সাথে কথা বলেনি। সবাই আমার দূর্বলতার সুযোগ খুঁজেছে। একমাত্র আপনার সাথে কথা বলে আজ যত ভালো লাগলো, তা আমি কোনদিন ভুলবো না। গত দুই ঘন্টা আমার কাছে আজীবন স্মৃতি হয়ে থাকবে।"
নায়িকা আর কিছু বললেন না।কেমন যেন চুপসে গেলেন।এদিকে আমার নিজের কাছে নিজেই খুব বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়ে গেলাম। একজন মানুষ তার অতীতের দুঃখগুলো আমার সাথে শেয়ার করছিলেন কিন্তু আমি? আমি স্বার্থপরের মত তার কথা গুলোকে নিছক বাজে অতীত ভেবে কিভাবেই না অগ্রাহ্য করেছি!  তারপর আবার এখান থেকে পালানোর জন্য পথ খুঁজছি। ছি ছি! আমি এতটা স্বার্থপর??
নায়িকাও নীরব,আমিও নীরব। ড্রয়িং রুমের সিলিং ফ্যানের শ শ শব্দ ছাড়া আর কোন শব্দ নেই। বেশ কিছুক্ষন এভাবে যাবার পর নায়িকাই প্রথমে কথা পারলেন,
"নীল,আজ আপনি আমার বাসায় ডিনার করে যান।ফ্রিজে মাংশ আছে আর আমি ভালো বিরিয়ানি করতে পারি।আপনার অনেক ভালো লাগবে।"
আমি স্বাভাবিক ভদ্রতা বশত বললাম,না না।তার দরকার নেই।আজ আপনার সাথে ডিনার করতে পারছি না।অন্য কোনদিন নিশ্চয়ই করবো।
আজ যে আমাকে উঠতে হচ্ছে!  প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এলো। "
নায়িকা এবার ধরা গলায় বললেন, "হোক না! আজ ডিনার টা করে যান।আর কোনদিন আসবেন কি না, তা বলা যায় না।
অন্তত আজকে,প্লিজ।"
একবার ভাবছি,অনুরোধ টা রাখি।আবার মনে হচ্ছে,নাহ! আজ আর না। শেষপর্যন্ত ভাবনার দোলাচালে ২য় সিদ্ধান্তটাই স্থির করলাম।
উঠে দাঁড়িয়ে নায়িকাকে বললাম, আজ আমাকে উঠতেই হচ্ছে।সন্ধ্যার পরে বিশেষ একটা কাজ আছে। প্লিজ মন খারাপ করবেন না।।
নায়িকা এবার দাবির সুরে বললেন,"কাজটা কি খুব জরুরী? "
বললাম,"হ্যা।বেশ জরুরী। "
নায়িকা বললেন, "ঠিক আছে,খুব জরুরী কাজ থাকলে যান।কিন্তু কথা দিতে হবে, আরেকদিন আসবেন।"
আমি মুচকি হেসে মেইন দরজার সামনে এসে দাঁড়ালাম। বললাম,
যদি সৃষ্টিকর্তা আবার কখনো সুযোগ দেন,তবে অবশ্যই আসবো।
নায়িকা আমাকে মূল রাস্তা পর্যন্ত এগিয়ে দিতে দিতে বললেন, "অবশ্যই দেবেন।আর দিতেই হবে। 
আপনার সাথে ২য় বার দেখা না হওয়া পর্যন্ত আমি মরতে চাই না।"
কিছুটা অপ্রতিভ হয়ে নায়িকার মুখের দিকে তাকালাম। তার চোখে ছলছল জল,সকরুণ আহবান। সেখানে কোন কৃত্রিমতা নেই।না আছে অন্য কোন কিছু। আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না। একটা খালি রিকশা আসতেই দ্রুত উঠে পড়লাম।একবার পেছন ফিরে তাকিয়ে বললাম,"ভালো থাকবেন।"
Nilkanto( নীলকান্ত)

আই মিস ইউ (পত্র-৩)

প্রিয়া,
খুব ইচ্ছে করছিলো, বাঁশি বাজাই।গলা ছেড়ে ডেকে উঠি তোমাকে। বিরহী হৃদয়ের অব্যক্ত আর্তনাদ গুলি ভাসিয়ে দেই বাতাসের তরঙ্গে।
সুরের মূর্ছনায় তোমার তন্দ্রালু আখি পাতে স্বপ্নের বুনে দেই জাল।
কিন্তু ইট-পাথরের চার দেয়ালের মাঝে আমার বাঁশির সুর তোমার কান অবধি কি পৌছবে?
জানিনা।
শহুরে দালান কোঠায় হয়ত প্রতিধ্বনিত হয়ে সে আর্তনাদ  ফিরে ফিরে আসবে আমারই কাছে।স্বপ্নলোক থেকে আছড়ে পড়বে হৃদয় পোড়া কয়লা গুলি।অথবা বাতাসের বিপরীতায়ন স্বপ্নপোড়া ছাইগুলোতে ঢেকে যাবে সুর।
রাতের নিস্তব্ধতা ভেদ করে মর্মভেদী আর্ত-চিৎকারে আকাশের তারাগুলো খসে পড়বে এক এক করে।চাঁদের বুড়িটা তার চড়কা ছেড়ে উঁকি মেরে দেখবে হৃদয়ের বিরহের চিতা জ্বলছে দাউ দাউ করে!
শুধু তুমিই দেখবে না,শুনবে না কোন কিছু।জানালার ফাঁক গলে শেষ প্রহরের হিমেল হাওয়া লাগতেই আলতো করে টেনে নেবে গায়ের কাঁথা।
তারপর আবারো সেই অঘোর ঘুম।পবিত্র-নিস্পাপ চেহারা,টোল পড়া গালে মৃদু হাসি।
আর আমি?
বাঁশির সুর খুঁজে যাব হন্যে হয়ে। যে সুর তোমার কানে পৌঁছাতে পারে! ইট-পাথরের দেয়াল ভেদ করে তোমার ঘুম ভাঙাতে পারে, তেমন সুর।
#নীলকান্ত
৫/৫/১৫ ০২:০৩ এএম

আই মিস ইউ,পত্র-২

আই মিস ইউ (পত্র-২)
প্রেয়সী,
হৃদয়ের স্পন্দন অনুভব না করলে হৃদয়ের অনুভূতি বোঝা যায় কিনা জানিনা।আর।, আমার মতে সেই স্পন্দন অনুভব করতে হলে দুটি হৃদয়ের উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়া চাই দুজনার মাঝে।
কিন্তু দেখো,
তুমি বলেছো, প্রতিদিন তোমাকে একটা পত্র লিখা চাইই চাই।কিন্তু মোবাইলের কী-প্যাডে কি আর হৃদয়ের অনুভূতি লিখা যায়? যায় না।
হয়ত কাগজ-কলমে লিখলে কিছুটা বোঝানো যেত। কিংবা বুঝে নিতাম বর্ণের প্রতিটি টানে।হয়ত দু'ফোটা বিরহী চোখের জলে অনুভূতি লেপ্টে থাকত প্রতিটি লাইনে।
কিন্তু , মোবাইল ইন্টারনেট আর এসএমএস এর যুগে তোমার কিংবা আমার  সে অনুভূতি গুমরে মরে মোবাইল স্ক্রীনে।না তুমি অনুভব কর,না করতে পারি আমি।ব্যকুল হৃদয়ে না পাওয়ার আর্তনাদ বেদনার বালুচরে এসে জমা হয়।তারপর কোন ঝড় বাতাস কিংবা উত্তাল ঢেউয়ে মিশে যায় সব অথবা একাকার হয়ে যায় গুমোট আধারের বুকে। শুধু পড়ে থাকে সেই সব দিনগুলি , সেই সব সুখের অনুভূতি যা তুমি আমি দু'জনে মিলে কোন এক সন্ধ্যায় অনুভব করেছি একান্তভাবে!
আজও সেরকম এক সন্ধ্যা এসেছিলো।ছাদে দাড়াতেই বুক জুড়িয়েছিল একটানা বয়ে যাওয়া সেই রকম বাতাসে।অনুভূতির পাতা হাতড়ে খুঁজে পেয়েছিলাম, তোমার আমার সেইসব কিছুক্ষন। শুধু তুমি ছিলে না আজ,সেদিনের মত।তাই কেউ আজ আধারের ভয়ে মুখ গুজেনি বুকের ভেতর। বড্ড একা ছিল সেই ক্ষণ। 
অবশেষে অনুভূতিকে তোমার কাছে পৌছে দেয়ার প্রানান্তর চেষ্টা। কি জানি, তুমি সেই অনুভূতি অনুভব করতে পারলে কি না! যদি না পারো তবে,আধার ঘরে খোলা জানালায় দাড়িয়ে এক বুক বাতাস নাও,হয়ত সে বাতাসে আমার অনুভূতির গন্ধ পাবে।আর ঘুমরে মরা অনুভুতি গুলো খুঁজে পাবে তার ঠিকানা!
শেষ অবধি, তুমি তাকে আর সে তোমাকে খুঁজে পেলে জানিও।অপেক্ষায় রইলাম।
ইতি

ক্রেডিটঃ#নীলকান্ত

বঙ্গমাতা-কবিতা

বঙ্গ মাতা,
পুঁজ জমা তোর শরীরে আজ
নোংরা রাজনীতির বিষফোঁড়া!
ভেবে দেখ একবার,
তীব্র টাটানি আর দূর্গন্ধে ক্যামনে থাকে
তোর আবাল ছেলেরা।
হরতাল, অবরোধ আর
জ্বলতে থাকা শরীরে গন্ধ পেট্রোলের,
বদ্ধ ব্যালট বাক্সে বন্দী
পঁচাগলা লাশ অধিকারের।
অতঃপর
সত্যের উপর মিথ্যার প্রলেপ দেয়া
অবিরল কথার কাদা ছুড়াছুঁড়ি।
হরতালে অধিকারের পেটে লাথি মারা,
ঝলসানো চামড়ার তোর সন্তানের আহাজারি,
বধির মা তুই,
শুনিস না কিছু তা;
বোবা হয়ে গেছিস,তাই
বলিস না কোন কথা।
তারপরেও
বড় সৌভাগ্যবতী মা তুই।
জন্ম দিয়েছিস কিছু আজন্ম পাপ,
চুপিসারে।
ব্যাথায় কুকড়ে উঠিস,তবু
চোখ মুছিস লুকিয়ে
রাজনীতির ঘুটঘুটে অন্ধকারে!!

ক্রেডিট# নীলকান্ত

I miss u 1(আই মিস ইউ-পত্র-১)

আই মিস ইউ(পত্র-১)

প্রিয়তমা,
সারাদিনের ক্লান্তি নিয়ে বাসায় এসে যখন সদর দরজার তালা খুলতে যাই,তখন সমগ্র পৃথীবির বিষন্নতা ভর করে আমার উপর।
আমি ভাবি,হয়ত ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে দরজায় একবার কড়া নাড়তেই দরজা খুলে যাবে।এক গাল প্রাণ ভরানো হাসি নিয়ে তুমি দাঁড়িয়ে থাকবে খোলা দরজার সামনে।
ভাবি, সেই হাসির রেখায় মিলিয়ে যাবে আমার সারাদিনের ক্লান্তি,শ্রান্ত শরীর।
হয়ত, ঘরে ঢুকতেই তুমি ব্যস্ত হয়ে যাবে, আমার খাবারের বন্দোবস্ত করতে। তারপর, আমি যখন ওভাবেই খেতে যাবো,তখন তুমি হুকুমের স্বরে বলবে,"যাও,আগে হাত মুখ ধুয়ে আসো।"
কিন্তু কি আশ্চার্য দেখো!
তার কোনটাই আর হয় না।
আমি অভুক্ত-ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঠিকই দরজায় দাড়াই, কিন্তু দরজা খোলার মানুষ নেই আজ।
আমি ঠিকই , দরজা খুলে ভিতরে ঢুকি কিন্তু কেউ হাসি মুখে দাঁড়িয়ে থাকে না, কেউই ব্যস্ত হয়না কি খেতে দেবে তার জোগাড় করতে। কিংবা হাত মুখ না ধুয়ে খেতে বসলেও কেউ বারন করে না কখনো।
বড় একা হয়ে  গেছি আজ।কিন্তু দেখ,এই সেদিনও সব কিছু ঠিক ছিলো । সেদিন এসব কিছুই মনে হয়নি।
তবে আজ কেন হয়? আজ দু'জনে দু প্রান্তে তাই?
আজ দু'জন পাশাপাশি নেই বলেই কি?
হয়তবা।
আচ্ছা, তোমারও কি কখনো এমন লাগে? বুকের ভেতর কোথাও খচ করে উঠে, কিচেনের চুলা জ্বালাতে গিয়ে।যখন কেউ বলে না, "এই সাবধানে! আগেই গ্যাস জ্বালাবা না।আগে দেয়াশলাই জ্বালিয়ে চুলার উপর রাখো,তারপর গ্যাস ছাড়ো ধীরে ধীরে।"
কিংবা যখন পাতিল টা নামাতে গিয়ে হাতে আঁচ লাগে! তখন কি মনের অজান্তেই আমাকে ডেকে উঠো?
কিংবা, যখন কেউ তোমাকে মুখে তুলে খাওয়ায় না,তখন কার উপরে অভিমান করে মুখ ঘুড়িয়ে থমকে থাকো? মনের কোনে জমতে থাকা কষ্ট গুলো ক্যামনে তুমি লুকিয়ে রাখো?
আমি জানি, তোমার চোখে তখন ছলছল করে লোনা জল।বুকের মধ্যে আর্তনাদ করে স্মৃতি গুলো। চিৎকার করে ডাকতে ইচ্ছে করে আমাকে।কিন্তু পারো না।গাল বেয়ে চুইয়ে পরে স্বপ্নগুলো লোক চক্ষুর অন্তড়ালে।
আর ক্যালেন্ডারের পাতায় দাগ দিয়ে রাখো চলে যাওয়া দিনগুলি, অনাগত ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে।
আমিও যে তোমারই মত চেয়ে আছি।আমিও যে সেই আগামীর জন্য বুক বেধে স্বপ্ন দেখি।সেই সব দরজার এপাশের-ওপাশের স্বপ্ন।।

ক্রেডিট# নীলকান্ত

প্রিয়তা (খোলা চিঠি)

প্রিয়তা,
তুমি আমার সুখের সময় যেমন আমার পাশে থাকো, তেমনি দুঃখের সময়ও সুখের স্পর্শ দিতে এগিয়ে আসো।
তুমি এভাবেই পাশে থেক আমার।তুমি পাশে থাকলে অনেক সাহস পাই,ভরসা পাই।জীবন যুদ্ধে লড়াই করার জন্য আবারো শক্তি পাই।
স্বীকার করছি আমার জীবন অনেক ছন্নছাড়া, অগোছালো টাইপের।কিন্তু বিশ্বাস করো,এখন খুব গুছিয়ে চলতে ইচ্ছে করে।ইচ্ছে করে যে, একটা সুন্দর স্বপ্ন সাজাই তোমাকে নিয়ে।যেখানে তোমার আমার ভালোবাসা দিয়ে সাজানো গোছানো একটা ঘর থাকবে,সুখ থাকবে, সচ্ছল একটা জীবন থাকবে। এ স্বপ্ন দেখা কি পাপ?
তবে
অনেক সময় কিছু বিলাসী স্বপ্নে আমি খুব বিভোর হয়ে যাই।বিভোর হয়ে যাই, একটা পরিপাটি, সুন্দর বিলাসী স্বপ্নে। যেখানে তোমার চাওয়ার আগেই সব ইচ্ছে পূরণ হয়ে যায়।।তোমার মনের মধ্যে কোন কিছু স্পন্দিত হলেই তা তোমার সামনে হাজির হয়ে যায়,এমন এক বিলাসী স্বপ্ন।।
কিন্তু,
আমি জানি,তুমি আমার কাছে এমন কিছুই চাও না,বা যা তোমার খুব দরকার তাও চাও না।কিন্তু আমার একটা মন আছে, জ্যোতিষীর মত মন।যা তোমার মনকে ঠিক পড়ে নিতে পারে।যে কথা তুমি মুখে বলো, অথবা তোমার হৃদয় যে কথাগুলো  স্পন্দিত হয়,সব।
তাই তুমি না চাইলেও কিংবা কোন কথা তোমার মুখ ফুটে না বের হলেও ঠিক তা আমার কানে পৌঁছে যায়।। তখন মনে হয়, যদি পারতাম তবে পৃথিবীকে তোমার হাতের মুঠোয় আর সমগ্র মহাকাশ ও তার গ্রহ নক্ষত্র গুলো তোমার পায়ে লুটাতাম।
লক্ষীটি,
আজ ভালোবাসা দিবসে হয়ত সবাই প্রেমিকার মন রাখায় ব্যস্ত।কিন্তু দেখো,কি হতভাগা আমি যে,তোমার সাথে হাত ধরে হাটবো,তাও হয়ে উঠলো না।ছোট একটা আশা তাও পূরণ হলো না।
তবে এটাই আমার অনেক বড় পাওয়া যে,তুমি আমাকে বুঝতে পারো। কখন,কিভাবে চলতে হবে তুমিই তা আমাকে শেখাও।এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কি হতে পারে?
আমি যখন হতাশার চাদরে মুখ লুকিয়ে ঘরের কোনে নিজেকে বন্দী করেছি,ঠিক তখনই তোমার বিজ্ঞ অভিমত আর শান্তনার বিচক্ষণতায় আমি  আশ্চার্যান্বিত।
মিষ্টি করে বুকের কষ্ট বুকে লুকিয়ে আমাকে বললে, "আজ হলো না তো কি হয়েছে? এখনো অনেক সময় আছে  । "
এর পরে কি আর কোন দুঃখ থাকতে পারে? পারে না।
জান, সত্যি আমিই সৌভাগ্যবান যে তোমাকে পেয়েছি।আর
এভাবেই সারাজীবন পাশে থেক আমার।।
ইতি
নীলকান্ত
Nilkanto( নীলকান্ত)

শেষ চিঠি

প্রিয় প্রথম প্রেম,
লিপির
প্রথমে ভালোবাসা নিতে বলবো সে ক্ষমতা আমার
নেই।
আজ তোমার বিয়ে।
শুনে ভালো লেগেছে না খারাপ
লেগেছে সে কথা বলতে চাই না।শুধু সেই ২০০২
সাল থেকে
২০১০ সাল পর্যন্ত কিছু সময়ের
কথা মনে পরে গেলো তাই দু কথা লিখছি
শৈশবের অবুঝ
ভালোবাসা যৌবনে যে দোলা দিয়েছিলো তার
পরিনতিতে তোমায় হারিয়েছি।
সেটাঈ আমার সবচেয়ে বড় পরাজয়।
তা না হলে হয়ত জীবনের ইতিহাস একটু অন্য
রকম হত।যাই হোক,
সেই ভুলের চরম মূল্য দিয়েছি গত চার বছর।
শুরুটা সেখান থেকে যেখান থেকে তুমি শুরু
করেছিলে।
আসলে তোমার কোন দোষ ছিল না।সব দোষ
ছিল আমারই।আমিই পারিনি তোমার
ভালোবাসার যথাযথ মূল্য দিতে।
আর তাই ঠিক অনুরুপ ভাবে তুমিও আমাকে সেই
ব্যাথাই দিয়েছিলে যা আমার পাওনা ছিল।
কিন্তু অপেক্ষাকৃত একটু বেশিই
হয়ে গিয়েছিল।
তারপরেও তোমার কোন দোষ দিচ্ছি না।
তবে এতদিন যে কথা টি তোমায়
বলা হয়নি সেই গোপন কথাটি আজ বলছি।
আজ বলছি এ জন্যই যে,আজ
হতে তুমি চিরদিনের জন্য আমার কাছ পর হয়ে যাচ্ছ।আজ বলছি এ জন্যঈ যে,আর কোনদিন তোমাকে বলার সুযোগ পাব না।আজ বলছি এ জন্যই যে,আজ হতে তুমি অন্য
কারো ঘরনি হয়ে,অন্য কারো বুকে মাথা রেখে তোমার জীবন
কাটাবা।
আমি জানি,কথাটা বলার অধিকার আজ আমার নেই।কারন আমিই সেই অধিকার ক্ষুন্ন
করেছিলাম।তুমি বার বার
ফিরে আসতে চাইলেও আমি গ্রহন করিনি।আর গ্রহন করিনি সে কারনেই যে কথাটা আজ তোমায় বলতে যাচ্ছি।।
লক্ষীটি,
আর ভনিতা করতে ইচ্ছে করছে না।তাই বলেই ফেলি।তার আগে তোমার দাম্পত্য জীবন সুখি হোক, সুন্দর হোক সেই কামনা করি।
সেই সাথে পারলে আমাকে ক্ষমা করো। কারন,
তোমাকে ছোয়ার যে ক্ষমতা আমি চার বছর আগেই হারিয়েছি তা আমি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চাইনি আর।
সেই সাথে ক্ষমা করো, কারন,তোমার আমার ব্রেক হবার পরে আমি রাগে,ক্ষোভে,অপমানে অসংখ্য মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছি।তাদের কষ্ট দিয়েছি।কিন্তু বিশ্বাস করো,আমি কাউকে স্পর্শও করিনি।কিন্তু মন ভেঙেছি বহুবার।
তার জন্য আমায় ক্ষমা করো।আর
নীরবে পুষে রাখা আমার প্রথম
ভালোবাসা নীরবে রেখেই তোমাকে বিদায় জানাচ্ছি।তার জন্য পারলে ক্ষমা করো।।
আজ হতে আর কাউকে কষ্ট দেব না।
না নিজে কষ্ট পাবো।
তুমি ভালো থেক।সুখে থেক।
পারলে জীবনটা কে সুন্দর করে সাজিয়ে নিও।
আর তোমার হাসব্যান্ড কে ততটুকুই
ভালবেসো যা তার প্রাপ্য।তাহলে তোমার সেই ভুলগুলো হয়ত ক্ষমা পাবে।।
খোদা হাফেজ।ভালো থেক।
অনেক ভালবাসতাম তোমায়।পারলে ভুলে যেও ঠিক চার বছর আগের মত।।
আর আমাকে যদি সত্যিই
ভালবাসতে কখনো তবে এই মেসেজ পাবার পর প্লিজ কেঁদো না।তোমার কাছে আমার শেষ মিনতি।।
ইতি
তোমার প্রথম প্রেম


এক শ্রাবনের বিকেলে



এক শ্রাবনের বিকালে...
                      - স্বপ্ননীল



শ্রাবনের আকাশে ছোপ ছোপ মেঘ জমেছিল সেই সকাল থেকে তারপর শ্রাবন মেঘের অবিরত কান্না
সেদিনও শ্রাবনের দিন,আকাশে এই রকমই ঘন কালো মেঘ প্রকৃতির এমন রুপ সেদিনের আগে কখনও চোখে ধরে নি

বিকেল বেলা আকাশটা মেঘলা হালকা ঝড়ো বাতাস বইছে আমি আধ-শোয়া অবস্থায় শ্রীকান্ত,পঙ্কজ উদাসের গান শুনছি.....
আমার সারাটা দিন মেঘলা আকাশ
বৃষ্টি তোমাকে দিলাম........।।
হঠামোবাইল ফোনটা বেজে উঠল মোবাইল স্ক্রীনে সূপর্না কল রিসিভ করতেই পাশ থেকে সূপর্না  বলে চলল, “কোথায় তুমি ? দেখ আকাশটা কত সুন্দর লাগছে ! তুমি তাড়াতাড়ি আমার বাসার সামনে চলে এসোআমার মনটা হঠাকরেই যেন আনন্দে নেচে উঠল এমন অভাবনীয় প্রস্তাব কোনভাবেই হাত ছাড়া করা যায় না আমি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেলাম
বাইকটা নিয়ে কালবিলম্ব না করে  আমি ওর বাসার সামনে হাজির হলাম সূপর্না বারান্দাতেই দাড়িয়ে ছিল আমাকে দেখেই যেভাবে ছিল সেভাবেই এসে আমার বাইকে চড়ে বসল ওর চোখে মুখে চির চেনা চঞ্চলতা বলল. “ভালই হলো,তুমি বাইক নিয়ে এসেছ;চলো আজকে বাইকে করে বৃষ্টিতে ভিজবো
আমি ওকে বললাম, “তা ,কোথায় যাওয়া যায় ?”
বলল, “নির্জন কোন যায়গায় নিয়ে চল
আমার মাথায় তড়িবেগে আশ-পাশের যতগুলো র্নিজন জায়গা,বাগান,রাস্তা ছিল সব পাশ থেকে পাশে চলে গেল স্থির করলাম চলনবিলে যাব এখান থেকে প্রায় এক ঘন্টার পথ আকাশটা ততক্ষনে অন্ধকার হয়ে  এসেছে আশ-পাশের রাস্তার মানুষ গুলো যে যেভাবে পারে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে আর তারই মাঝে এক জোড়া বলাকা কালো মেঘের সাথে পাল্লা দিয়ে ছুটে চলেছি  ডানা মেলে ভালবাসার অমোঘ আকর্ষনে

সূর্পনাটাকে আজ কেন জানি অনেক সুন্দর লাগছে,বরাবরের চেয়ে আরো বেশী সুন্দর সাদা স্যালোয়র কামিজে এরকম মেঘলা পরিবেশে ওকে স্বর্গ থেকে নেমে আসা পরী বা তার চেয়ে বেশী কিছু মনে হচ্ছে
কিছুক্ষনের মধ্যেই বৃষ্টি নামবে আকাশটা দারুন তর্জন গর্জন করছে মাঝে মাঝে মেঘের আড়াল থেকে কে বা কারা যেন কর্কশ  কন্ঠে আমাদের হুমকি-ধামকি দিয়ে চলেছে অবিরত আর সেই সাথে বিজলী যোগ করেছে  এক অপার্থীব দৃশ্যের সূপর্না আমাকে জাপটে ধরে বসে আছে পেছনে ওর মেঘ কালো চুল গুলো অবাধ্য বাতাসে মাঝে মাঝে আমার মুখের সামনে এসে নাচানাচি করছে কন্ঠে চঞ্চলতা আর বাধ ভাঙা আনন্দের গান আজ বড্ড ছেলেমানুষী করে চলছে,আর তাই হয়ত এত বেশী সুন্দর লাগছে ওকে
অবশেষে চলনবিলের মাঝা-মাঝি এসে গেছি আমরা সামনেই বড় ব্রীজটা রাস্তার দুপাশে লাটিম গাছগুলোর ঝড়-বাতাসে হেলেদুলে নাচানাচি আর সেই সাথে দুপাশের অনন্ত জলরাশির উত্তাল মাতামাতি-দাপাদাপিতে নিজেকেই যেন হারিয়ে ফেললাম এই  প্রকৃতির মাঝে
সূপর্না আমাকে বলে উঠল, “এই দাড়াও,দাড়াও...এখানেই দাড়াও ....দেখ,কত সুন্দর লাগছে !”
আমি মনে মনে ভাবলাম এই প্রকৃতির মাঝে তোমার চেয়ে সুন্দর  আর কেউ নেই

বিলের মাঝে এই রাস্তাটা মোটামুটি দেড়-দুই কিলো এমনিতেই আশ-পাশে কোন বসতি নেই তার উপর ঝড়ো আবহাওয়ায় কাউকেই চোখে পড়ছে না এই নির্জন রাস্তায় শুধু আমি আর সূপর্না
বাইক দাড় করানোর দুই মিনিটের মধ্যে তুমুল বৃষ্টি সূপর্নার চোখে আরও বেশী চঞ্চলতা বাধাহীন উত্তাল তরঙ্গের মতই ছুটাছুটি করছে আর আমি অপলক চোখে চেয়ে আছি ওর দিকে আচানক আমার দিকে দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরল,বুকের মাঝে মুখটা লুকিয়ে হু হু করে কেদে উঠল বুঝলাম এত আনন্দ লুকিয়ে রাখতে পারছে না সেই সাথে মনে হলো এরুপ সুখের মুহূর্ত আর কোনদিন আসে নি,হয়তবা  আসবেও না
অঝড়ে বৃষ্টি ঝড়ছে সেই সাথে তুমুল বাতাস এই নির্জন পথের মাঝখানে দাড়িয়ে আছি আমরা দুজন বুকের ভিতর থেকে  হৃদয়ের উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়েছে দুজনার মাঝে,দুটি মন হারিয়ে গেল  সেদিন শ্রাবনের বৃষ্টিস্নাত বিকেলে  

অনন্তকাল এভাবেই থাকার প্রতিজ্ঞা করেছিলাম সেইদিন
বলেছিল, “পৃথিবীর সব কিছু এনে দিলেও তোমাকে আমি হারাতে চাই না।
কিন্তু সেই না চাওয়াটাই একদিন চাওয়ায় পরিনত হল সূপর্না আজ হয়ত সেদিনের প্রতীজ্ঞার কথা ভুলে গেছে ভুলে গেছে সেদিনের বৃষ্টি ভেজা বিকেল,সন্ধ্যা শুধু আমি পারি নি তাই বৃষ্টি ভেজা বিকেল এলেই ফিরে যাই সেই শ্রাবনের বিকেলে স্মৃতির তিনটি বছর পেছনে ।। 






তখন আমি অনার্সে পড়ি । ছোটবেলা থেকে ভাল ছাত্র হিসেবে যথেষ্ট নাম ডাক থাকলেও পরিণতিতে খুব বেশিদুর এগুতে পারিনি। যে বিষয় নিয়ে লেখাপড়া করছি , বলতে গেলে ;আসলে সবাই বলে এর নাকি কোন মার্কেট ভ্যেলু নেই। আর এসব কথা শুনতে শুনতে মাঝে মাঝে আমিও তাই ভাবতাম। কিন্তু আজ............।
যাই হোক,
সুপর্ণার সাথে আমার পরিচয় যখন আমি অনার্স প্রথম বর্ষে ।আর এর মানে হল প্রায় আট-নয় বছর আগে। আমি যেদিন ওকে প্রথম দেখি সেদিনও এমনি এক বৃষ্টির দিন। অঝরে বৃষ্টি ঝরছে।আমার কাপড়-চোপড় ভিজে চুপসে গেছে আর আমি, আমি ভিজে পানকৌড়ি। অনেক গুলো গাড়ি জ্যামে আটকে আছে, সেই সাথে আমিও। হটাৎ রাস্তার পাশের এক দোতলা বাসার বেলকুনিতে চোখ গেলো। হালকা আকাশী রঙের সেলয়ার কামিজের মাঝে ছিপ-ছিপে গড়নের এক অপরুপা আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে। আমি কতক্ষন ওর দিকে  তাকিয়ে ছিলাম জানি না, শুধু বুঝতে পারছিলাম আমার রাস্তা কিছুতেই এগুচ্ছে না। আমি ঠায় দাড়িয়ে আছি ওই মায়াবী চোখে চোখ রেখে। চোখে চোখ পড়তেই সুপর্ণা চোখ নামিয়ে নিল। দৌড়ে ভেতরের ঘরে চলে গেলো।
আর আমি-; আমি তখনো দাড়িয়ে আছি। হটাৎ একটা রিকশার বেলের আওয়াজে সম্বিত ফিরে পেলাম।
বৃষ্টির বেগ বেড়ে গেছে। সেই সাথে বেড়ে গেছে আমার শরীরের কাঁপুনি। আমি আর দাড়িয়ে থাকতে পারলাম না। একটি চাহনি , একটা মুক্ত ঝরানো হাসি আর প্রথম ভালো লাগার অদৃশ্য স্পর্শ নিয়ে বাসায় চলে এলাম। হয়তো একেই বলে love at first sight..
আহা !
সত্যি আমি হারিয়ে গেছি সেদিনই।
আমার এ মন হারিয়েছি আমি
কোথায় পাব তারে?
কোথায় পাব মনের দিশা
কোন সাগরের তীরে?
মুক্ত খোঁজে ডুবরির দল
অথৈই পানির জলে।
আমার এ মন খুজবে কে জন
কোন পাথারের জলে?
মেঘের আড়ালে লুকাবে মেঘ
মনের আড়ালে মন।
যে  মনেতে মন বেধেছে
মন নিয়েছে সে মন।


এরপর প্রতিদিন ঐ বাসার সামনে এলেই আমার চলার গতি শূন্যে নেমে আসত।মনে হতো, শরীরটা অসাড় হয়ে গেছে আর এক চুম্বকীয় শক্তি আমাকে টানছে প্রবল বেগে।যে বিকেলটা আমি বন্ধুদের আড্ডায় কাটাতাম তা এখন সুপর্ণা-দের বাসার সামনের লেকের পারেই কাটে ।আর আমার দুষ্টু চোখ খুজে বেড়ায় ঐ আকাশী স্যালয়ারে আমার ভাললাগার মানুষটিকে। ঠিক সাড়ে চারটায় তিন মিনিটের জন্য বারান্দায় দাঁড়াত ও।তারপর বিকেল সাড়ে পাঁচটায় পাঁচ মিনিটের জন্য।আর আমি তিনটা থেকে ছয়টা পরজন্ত প্রতিদিন ওখানেই বসে থাকতাম ঐ বেল্কুনির দিকে তাকিয়ে আট মিনিটের দর্শনের অপেক্ষায়। আট মিনি মানে অনেক সময় , ৪৮০ সেকেন্ড, যেখানে প্রতিটি সেকেন্ডকে মনে হতো এক এক ঘণ্টা, আর এক একটা দিন যেন এক এক শতাব্দী ।ঐ তিনটা ছয়টা ছাড়া সুপর্ণা সাথে আমার খুব একটা দেখা হতো না। কিন্তু মনের মধ্যে কোথায় যেন একটা আজব কিছুর উপস্থিতি টের পাচ্ছিলাম বেশ।
সেটা কি ভাললাগা ? না কি ভালবাসা?

আচ্ছা সুপর্ণাও কি আমার মত কিছু একটা অনুভব করছে?
জানিনা...।।

আজ প্রায় তিন মাস হয়ে গেছে আমাদের দেখা হওয়ার , আর কথা বলার।না না ওর সাথে সামনা-সামনি কখনো কথা হয়নি। যা হয়েছে তা মনে মনে ,চোখে চোখে। ভাষা বা ধ্বনির অন্তরালে।




এভাবে বেশ কয়েক মাস কেটে গেল।একদিন সকালে কলেজে যাচ্ছি।সুপর্ণা এবং ওর বান্ধবীরা হেঁটে হেঁটে কলেজের দিকেই আসছে। আমি হঠাৎ করে বাইকটা নিয়ে ঠিক রাস্তার মাঝখানে দাড়িয়ে সুপর্ণা কে বলেছিলাম,
-     সুপর্ণা অনেক লুকোচুরি হয়েছে। আজ তোমাকে একটা কথা বলব।
I love you

সুপর্ণা চুপ চাপ দাড়িয়ে ছিল । ওর মুখ ভয়ে থর থর করে কাঁপছে।
বললাম, যদি ভালোবাসো তবে যখন সময় হয় তখনই বল। আর যদি ভালো না বাস তবে যত দ্রুত সম্ভব বলে দিও।। তাতেই বরং সবচেয়ে খুশি হব।

আমি আর কোন কথা না বাড়িয়ে ওখান থেকে চলে এলাম।তারপর তিনদিন ওর বাসার সামনে যাইনি। দেখাও করিনি
  ২০০৬ সালের ১৪ ই ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২ টায় একটা এসএমএস এল আমার সেল ফোনে ।
“I love you too”
  সত্যি বলছি মূলত সেদিনই ছিল আমার ভালবাসার জন্মদিন। আর এরপরের সময়গুলো ছিল আমার জিবনের সবচেয়ে আনন্দের ও মধুর সময়।
  কত কত ছেলেমানুষি করেছি, রাত-দুপুরে হটাৎ করে হাটতে যাওয়া, বাইকে করে ঘুরতে যাওয়া, পূর্ণিমার রাতে বাসার ছাদে ওর কোলে মাথা রেখে প্রেমের কবিতা আবৃতি –
 আহা ! দেখতে দেখতে কিভাবে যে দু টি বছর কেটে গেলো বুঝতেই পারলাম না।
লোকে বলে সুখের সময় গুলো নাকি খুব দ্রুত চলে যায়। আজ আমার তাই মনে হয়।

২০০৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী, আগামিকাল আমাদের ভালবাসার ২য় বছর পূর্তি হতে চলেছে। আগামিকাল কে সামনে রেখে কিছু বিশেষ পরিকল্পনা আমার মাথায় আছে।
কিন্তু সুপর্ণা আমাকে ফোন দেবে বলেছে। সেই ফোন কলের অপেক্ষায় আছি আমি।
ও বলেছিল,
-     দেখ, ফোন টা যেন খোলা থাকে। আমি ঠিক চারটায় তোমাকে কল করব।
এখন দুইটা বেজে ২০ মিনিট। চারটা , মানে এখনো এক ঘণ্টা চল্লিশ মিনিট। মোট ১০০ মিনিট, ৬০০০ সেকেন্ড, কিন্তু প্রতিটি সেকেন্ড কে মনে হচ্ছে এক এক শতাব্দী।


সহস্র রজনী কেটে যাবে,
কেটে যাবে শত শতাব্দী,
জানিনা অপেক্ষার প্রহর কবে হব শেষ।
বয়ে চলে সময় নিরবধি।
You wandering in my dream
I feel your touch
Feel your breath on my neck
I don’t know,when my dream
comes true or it will be break.....

Ringing phone..............

-     হ্যালো কে বলছেন?
-     আমি।
-     এ নম্বর কার?
-     আম্মুর! শোন, তোমার সাথে রাতে একটু কথা বলব। সময় হবে তোমার?
হা হা হা হা..................
ওর ওই কথা শুনে আমার খুব হাসি পাচ্ছিল। যার জন্য জীবনটাই পূজার অর্ঘ হিসাবে পূজার ডালায় সাজিয়ে রেখেছি তার জন্য সময়!
হা হা হা হা......
    শুধু সময় কেন ! ও যদি আমার জিবনায়ু চায়,তবুও দেব কোন প্রশ্ন ছাড়া।
যাই হোক তখন শুধু বলেছিলাম,
-আমার কাছে অনেক সময় আছে। যদি সে সময়েও না হয় তবে বিধাতাকে বলে আরও কিছু সময় ধার করব। হা হা হা...
- ওই ওই... ওভাবে বলবা না। ঠিক আছে?
- আচ্ছা! আচ্ছা! ঠিক আছে।
- okey, ভালো থেক।
- হুমম...ভালো আছি। এখন থেকে আরও একটু ভালো থাকব।


#
আজ ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০০৮ সাল। সুপর্ণার সাথে আমার relation এর ২য় বছর পূর্তি হবে কাল। আগামিকাল কের জন্য বেশ কিছু পরিকল্পনা করে রেখেছি। ৭৩০ টি গোলাপ কিনে এনেছি আজ মজনু ভাইয়ের দোকান থেকে।
মজনু ভাই আমাকে এতগুলো গোলাপ এক সাথে কিনতে দেখে
বলল,
“ ভাইজান এত গুলাপ দিয়ে কি করবেন? আপারে দিবেন না কি?”
আমি মৃদু হাসলাম ।
বললাম,
“ মজনু ভাই, প্রেমিকার কাছে পৃথিবীর সব গোলাপ এনে দিলেও প্রেমিকের মন ভরে না; কখনো এতো মনে হয় না, মনে হয় এই কটা !”
মজনু ভাই একটু হেসে বলল,
“ ভাইজান, যা কইছেন ! তয় একটা কথা কই, সত্যিকারের প্রেম ভালবাসা এ যুগে দেখা যায় না। কাউ কে ভালবাসলে মন থেইকা না, দিল থেইকা ভালবাইসেন”।
আমি আরও একবার মৃদু হেসে ফুলগুলো নিয়ে চলে এলাম।
হা হা হা হা.........।
সত্যি-   
       ভালবাসা টা হল এক বিস্ময় ,
       মনকে ছুয়ে যায় কিন্তু হৃদয়ে বাসা বাধে।

যাই হোক-
সেদিন রাত ১১.৩০ এ সুপর্ণা আমাকে ফোন করল।
-     কি কর?
-     কিছু না,শুয়ে আছি।তুমি?
-     আমিও। শুয়ে শুয়ে তোমার কথা ভাবছি।
-     কি ভাবছ?
-     নীল, তোমার মনে আছে সেদিনের কথা?
-     কোন দিনের? কি কথা?
-     সেই বৃষ্টির দিন, তুমি বাইক নিয়ে ভিজে কাক!
-     হা হা হা হা হা......।
-     আমার দিকে ফ্যালফ্যালিয়ে তাকিয়ে ছিলে।
-     আর তুমি? আমাকে দেখে হাসছিলে, তাই না?
-     হুমম ...জানো, আজ কেন জানি তোমার আমার সেই দিনগুলির কথা খুব মনে পড়ছে। বৃষ্টিতে ভেজা,আমার বাসার সামনে তোমার বসে থাকা, হুট করে রাস্তার মাঝ খানে দাড়িয়ে তোমার  প্রপোজ করা। সব সব কিছু।।
-     ও কে। ও কে! অনেক হয়েছে এবার বল কাল কখন, কোথায় কিভাবে দেখা হচ্ছে?
-     কলেজের পুকুর পারে। কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে ঠিক সকাল সাড়ে দশটায়।
-     ও কে ! মহারানী ভিক্টোরিয়া আপনার আজ্ঞা শিরোধার্য ।যথাসময়ে যথাস্থানে বান্দা হাজির হবে।


কথা বলতে বলতে দেয়াল ঘড়িতে ১২ টার ঘণ্টা বেজে উঠলো।
সুপর্ণা বলল,  Happy Love Anniversary.
আমিও বললাম, Happy Love Anniversary.
- এবার আমার উপহার দাও।
আমি ভেবে পাচ্ছিলাম না ওকে কি বলব।
যাই হোক সেদিন ওকে বলেছিলাম,
জনম জনম পাশে থেক মোর
হইয়ো না কো কভু পর,
বিধাতার কাছে প্রার্থনা আজি
পাশে থেক তুমি হাজার জনম ভর।
আর প্রতি উত্তরে ও বলেছিল,
-     “তোমার আমার ভালবাসা, থাক চিরকাল
হৃদয়ের মাঝে থাকব সদাই
যদিও হই চোখের অন্তরাল”।

কেন জানি সেদিনের সেই কথা আমার ভালো লাগেনি।
আমি বলেছিলাম, তোমাকে কখনো চোখের আড়াল আমি হতে দেব না।


Continued………………..
smswopno_nil@ymail.com


প্রিয় দেবী (বিরহের চিঠি) ৩

প্রিয় দেবী, অনেকদিন পর তোমায় লিখছি। কতদিন পর! ঠিক ঠাক মনে পড়ছেনা কিছুই। শুধু মনে পড়ে, শত শত চিঠি পাঠিয়েছি বেনামী ঠিকানায় বহুদিন। হয়ত সেসব কখ...