Showing posts with label Nilkanto. Show all posts
Showing posts with label Nilkanto. Show all posts

এবার আমি মানুষ হবো...

হয়ত তোমার পথ চেয়ে বসে থাকা,
খররৌদ্রে মাঝ রাস্তায় দাড়িয়ে অথবা
পুর্নিমা বা অমাবস্যার ঘুটঘুটে অন্ধকারে তোমাকে খুজে ফেরা ছিল আমার পাগলামি।
এবার আমি মানুষ হবো।
মানুষের মত ভালো বাসব।
যেভাবে তুমি চাও।
আমার মাতাল ভালো বাসাকে এবার পিঞ্জরে ধরে রাখব।
লোহার বেড়ী, মনকড়া পড়িয়ে নিয়ে যাব তোমার আদালতে।
তুমি না দিলেও, নেব স্বেচ্ছা নির্বাসন,
সারাদিন ঘরের কোনে বেধে রাখব মন।
ঘাপটি মেরে বসে থাকাবে আমার ভালবাসা।
তোমার দৃষ্টির আড়ালে নীরবে  পোষা কষ্টে
ক্ষত বিক্ষত হৃদয়ে যন্ত্রনার প্রলেপ দেব।।
তবুও এবার আমি মানুষ হব।
ভালবাসব মানুষের মত।।
www.facebook.com/swopnonil

কান্না

তুই কাঁদতে পারিস।
চোখের জলের সাথে সাথে দুঃখ গুলোও মুছে ফেলে দিস।
আর আমি?
আমি যে কাঁদতে পারিনা রে!
আমার চোখের জল যে বরফের মত জমাট বাধা।
আধার ঘরে চুপটি মেরে বসে থাকা
হৃদয় আমার।
আমি কিভাবে কাঁদি??
কিভাবে মুছে ফেলি দুঃখগুলো!
তুই কাঁদলে হয়ত বালিস ভেজে,
কেউ শিয়রের পাশে বসে সান্তনার
মিষ্টি বানীতে তোর দুঃখ ভুলায়!
আমার চোখ যে পাথর,
সেখানে জল গড়িয়ে বালিস ভেজে না,
মিথ্যে সান্তনাতে দুঃখ মুছে না,
তুইই বল,
আমি কিভাবে কাঁদি???
#নীলকান্ত
www.facebook.com/swopnonil

চল হারিয়ে যাই

চল হারিয়ে যাই...... ......
ঐ সাদা কালো ক্যানভাসে
তুমি আমি।
রেখা হয়ে,বিন্দু হয়ে কিংবা
গড়িয়ে পড়া জল হয়ে।
চল বহু দূরে চলে যাই....
তুলো মেঘে ভর করে,
সন্ধ্যের ম্রিয়মাণ দিগন্তে।
রক্তাক্ত হৃদয়ের রক্তিম
গোধূলির শেষ আভা হয়ে।
চল আরো একবার হারিয়ে যাই....
দূর থেকে দূরে..
তত দূরে,যত দূরে আকাশেরা নেমেছে ধরাতে।যেখানে সীমান্ত
টেনেছে ভালোবাসার জরাগুলো,
অবসাদগ্রস্ত দেবদাসেরা যেখানে
ইতি টেনেছে সমাপ্তির।
#নীলকান্ত ©
www.facebook.com/swopnonil

ছোট গল্পঃ "সেতু"

১#
আমার এক পুরোনো ছাত্রী।ও যখন ইন্টারমিডিয়েট পড়ত তখন পড়াতাম।গত তিনদিন আগে হঠাৎ করে রাস্তায় দেখা।
বলল,"স্যার,কেমন আছেন? "
আমি তো পুরাই হব্ব তব্ব লেগে গেছি।কিরে এত বড় মেয়ে আমাকে স্যার বলে! কে এইটা!
বললাম,ভালো আছি।
বলেই পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছি।মেয়েটি আবার বলল,
"স্যার,আমাকে চিনতে পারেন নি? "
কি বিপদ! এখন কি বলি? বললাম, তোমার নামটা ঠিক মনে হচ্ছে না! কি যেন নাম তোমার?
বলল, সেতু।স্যার,আপনার কাছে দুই বছর পড়লাম আর ভুলে গেছেন?
আমি বললাম, না ভুলি নাই,আসলে নামটা মনে পড়ছিল না।তা তুমি কি কর এখন?
-অনার্স ২য় বর্ষে এখন।
কোথায় আছো?
-রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে।
আচ্ছা,তাই না কি? তো ভালো তো।ভেরী গুড।
তোমার বাসা তো আশে পাশেই না?
-হ্যা স্যার। স্যার, একটা কথা বলব?
হ্যা বল।কি বলবা?
- স্যার, আপনি একদিন আমাদের বাসায় আসেন না, প্লিজ।আপনাকে তো কোনদিন বাসায় নিতে পারিনি।অন্তত একদিন আসেন প্লিজ।
আমি বললাম, দেখো, আসলে কারো বাসায় যেতে আমার ভালো লাগে না।আচ্ছা, তারপরেও চেষ্টা করব।
নিজের কাছে নিজেকে যেন ৪০ বছরের চশমা পড়া টিচার টিচার মনে হচ্ছিল তখন।অত্যন্ত গম্ভীর। জ্ঞানী জ্ঞানী। হা হা হা।।
এবার আমার সেই ছাত্রী আরেকটা আবদার করে বসলো,স্যার, আপনার ফোন নাম্বারটা দেয়া যাবে?আপনার আগের নাম্বারে অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু ঢোকেনি।আপনার রিসেন্ট নাম্বারটা দেন প্লিজ।
আমি বললাম, নাম্বার দিয়ে কি করবা?
[এদিকে নিজের কাছে কিছুটা অস্বস্তিও লাগছে।যতই সে আমার ছাত্রী হোক কিন্তু এই লোকজনের মধ্যে কে কি ভাবছে,কে জানে? আর আমি একেতো কেবল অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ি তার পরে আবার অবিবাহিত। এটা আশে পাশের সবাই খুব ভালো করেই জানে। এ এলাকায় কথা বাড়ানোর আল্লাহ দিলে লোকেরও অভাব নাই।]
যাই হোক মেয়েটি বলল, স্যার,আপনাকে আমার বাসায় আসতেই হবে।আর এই জন্যে নাম্বার নিচ্ছি।যেন আপনি ভুলে যেতে না পারেন।
[এই মেয়ে কি বলে! আমি ভুলে যাব? অবশ্য যেতেও পারি।]
আমি কথা বাড়ালাম না।একে তো ছাত্রী তার উপর পাবলিক প্লেস।এই জায়গা যত দ্রুত ত্যাগ করা যায় ততই ভালো। এরকম অস্বস্তি তে থাকতে হবে না।
নাম্বারটা দিয়ে দিলাম।তারপর আমার জরুরী কাজ আছে বলে চলে আসছি।পেছন থেকে মেয়েটি  মানে সেতু, চিৎকার করে বলছে,"স্যার, আসবেন কিন্তু।আমি ফোন দেব কিন্তু "।
আমি একবার ছোট্ট করে পেছনে তাকিয়ে মাথা ঝাকিয়ে চলে এলাম।
মনে মনে ভাবলাম,"এই মেয়েকে আমি আবার কবে পড়ালাম? মনে তো পড়ছে না। আর সেতু, সেতু সেতু......উমম।
সেতু কে??"
#২
দুইদিন পরের কথা।মানে গত রাতের।হঠাৎ একটা রবি নাম্বার থেকে ফোন এলো।আমি কেবল ঘুমিয়েছি।রাতও সম্ভবত অনেক হয়েছে।বালিশের পাশে মোবাইলটা হাতে নিয়ে ঘুম ঘুম চোখে ফোন রিসিভ করলাম।
-হ্যালো.....
ও পাশে নীরবতা।
-হ্যালো, কে?
এবার একটু ধমকের শুরে বলে উঠলাম।এবার ওপাশ থেকে খসখস একটা শব্দ এলো।তারপর,
#হ্যালো, স্যার।সরি স্যার।হঠাৎ করে ফোন চলে গেছে।
আমি বললাম, "কে আপনি? "
#স্যার আমি সেতু।
-ওহ আচ্ছা, তা সেতু, কি খবর? এত রাতে ফোন দিছো যে! ঘুমাও নি?
#না স্যার ঘুমাই নি।আর ফোনটা এমনিতেই চলে গেছে।চাপ লেগে।আপনাকে বিরক্ত করার জন্য সরি।
আমি একটু স্বাভাবিক ভদ্রতা দেখিয়ে বললাম, no problem , its all right. ঠিক আছে ঘুমাও তাহলে।
বলেই ফোনটা রাখতে যাচ্ছি।ওমনি ওপাশ থেকে সেতু বলল, স্যার, আপনার কি খুব ঘুম পাচ্ছে? স্যার,
আমি কি আপনার সাথে একটু কথা বলতে পারি?
আমি বললাম, সেতু, ঠিক আছে কাল সকালে।
#না স্যার, এখনি।প্লিজ দুই মিনিট।
-আচ্ছা বলো।
তারপর ও পাশ থেকে একটানা ১ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড পর্যন্ত মোটামুটি দুইশ কথা বলে ফেলল প্রায় এক নিশ্বাসে।
ওর কথা শুনে আমি তো পুরাই বেকুব হয়ে গেলাম।না হ্যা বলার শক্তি আছে না না বলার শক্তি!
মাথায় জ্যাম লেগে গেলো।
কি বলল এসব?  
আমি তো মনের ভুলেও কোনদিন ভাবিনি এসব।আর আজ কিনা, এই মেয়েটি নিজের মুখে সব বলে দিল??
আমি কিছুক্ষন চুপ চাপ থেকে বললাম, ঠিক আছে, সকালে এ বিষয়ে কথা বলব।
।।
#3
পরেরদিন কোন এক কারনে বেশ সকালেই একবার ঘুম ভেঙে গেলো।সাধারনত এত সকালে আমার ঘুম ভাঙার রেকর্ড নাই বললেই চলে।প্রতিদিন গভীর রাতে ঘুমোতে যাওয়া আর বেলা করে ঘুম থেকে উঠা একরকম রুটিন হয়ে গেছে।
কিন্তু সেদিন এই সকাল সকাল ঘুম ভাঙার কারনটা ঠিক বুঝলাম না।তবে ঘুম ভাঙলেও বিছানা ছেড়ে উঠার মত ইচ্ছে নেই।তাই শুয়ে শুয়ে গান শুনছি।সকালে রবীন্দ্রসংগীত আমার খুব প্রিয়।বিশেষ করে হেমন্তের কন্ঠে।গান শুনছি।এমন সময় মোবাইল টা বেজে উঠলো।আমি ফোনটা হাতে নিয়ে দেখি সেতুর ফোন।
আরে,আমি তো সব ভুলেই গেছিলাম।বিশেষত গত রাতের আচমকা হৃৎকম্প।কিন্তু আবারো মেয়েটার ফোনে সব মনে পড়ে গেলো।ভাবছি,ফোন ধরব কি না!
একবার রিং বেজে থেমে গেলো।আবার রিং হচ্ছে.......
ক্রিং ক্রিং ক্রিং.....
[আসলে পুরোনো টেলিফোনের রিং গুলো আমার খুব ভালো লাগত আর সেই সুবাদে ফোনে সাধারন্ত এই ক্রিং ক্রিং টোন টা দেয়া থাকে।]
এবার একটু বিরক্ত হয়েই ফোনটা রিসিভ করলাম।ও পাশ থেকে একটা ভীত সন্ত্রস্ত সালাম।
-অলাইকুম আসসালাম।হ্যা বলো,সেতু।
#স্যার,কেমন আছেন?
-ভালো আছি।তা কিছু বলবে?
[আমি ভেবেছিলাম, হয়ত মেয়েটি আর রাতের কথা পাড়বে না।কিন্তু নাহ! আমার ধারনায় ভুল ছিল।]
ও পাশ থেকে সেতু বলে চলল,
#স্যার, আমি যা বলেছি সব সত্য।আমি আবেগ থেকে না,সব কিছু ভেবেই বলেছি।প্লিজ স্যার কিছু বলেন।
[আমার মেজাজটা সাত সকালে চরমে উঠার উপক্রম।তারপরেও নিজেকে সংযত করে অত্যান্ত ঠান্ডা ভাবে বললাম,
"সেতু, ভেবেছি এবার তোমার আম্মুর সাথে একটু কথা বলা দরকার।"
এবার কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে আই-গাই করতে করতে ফোন টা কেটে দিল।বুঝলাম ভয় পেয়ে গেছে।পাছে আমি সব ওর মাকে বলে দেই কিনা!
আমি আর ফোন ব্যাক করলাম না।বরং মনে মনে ভাবছি, কি করা যায়?আর সেই সাথে আশা ভঙ্গের কি চিত্র এই মুহূর্তে সেতুর মুখে ফুটে উঠেছে তা যেন স্পষ্টত দেখতে পেলাম।কিন্তু আমি জানি,ও এখনো আবেগের দুনিয়ায় রঙিন চশমার অন্তরালের পৃথিবী দেখেছে কিন্তু বাস্তবতার কষাঘাতে জর্জরিত জীবনের চিত্র উপলব্ধি করেনি।তাই জীবনের পোড় খাওয়া,ছেড়া-ফাটা মানুষ হিসেবে ওকে বুঝানোর একটা ছোট্ট দায়িত্ব আমার উপর যেন রয়েই গেল।দেখি,কোন একদিন ওর বাসায় যাবার দাওয়াতটা কবুল করা যায় কিনা!!!
#নীলকান্ত©
ফ্রমঃ  ছোট গল্প "সেতু"।(১ ২ ও ৩)
www.facebook.com/swopnonil

যেন তুমি সাহস না পাও।।

তোমার মনে ভালোবাসা জন্মাক
তার আগেই আমি সেই ভ্রুনের গলা টিপে
হত্যা করে দেব।
যেন আর সাহস না পায়!
তোমার হৃদয়ের মাঝে ভয়ের তালা ঝুলিয়ে দেব।
যেন, তুমি খোলার সাহস না পাও।।
মনের দরজায় পাহারা বসিয়ে দেব,
সন্দেহের ফলা নিয়ে দাড় করিয়ে দেব
ডজন ডজন ভয়ংকর সৈন্যবল।
কড়াকড়ি নির্দেশ, তোমার প্রবেশের উপর,
যেন তুমি সাহস না পাও।।
তোমার মনে ভালোবাসা জন্মাক তার আগেই,
সেই ভ্রুন আমি গলা টিপে হত্যা করব,
যেন,কাছে আসার সাহস না পাও।।
#নীলকান্ত©
www.facebook.com/swopnonil

তোর শরীরে "লাইন অফ কন্ট্রল" আঁকা আছে নাকি!!

তোর শরীরে বিদ্যুৎ এর প্রবাহ আছে না কি?
কাছে গেলে গা শিরশির করে,
ছুতে চাইলেই ছিটকে পড়ি দূরে;
বোধহয়, ৩৩ হাজার ভোল্টের প্রবাহ চলে,
দশ ফুট দূরে থেকেও ঝিনঝিন করে গা।
তুই জানিস?
তুই জানিস,
কতবার ছুতে গিয়েও গুটিয়ে নিয়েছি হাত?
কতবার অভুক্ত মন নিয়ে এসেছি ফিরে!
কতদিন-
সীমানার কাটাতারের বেড়া ডিঙানোর ভয়ে,
পাইনি নাগাল তোর!
আচ্ছা বলতো,
তোর শরীরে  "লাইন অফ কন্ট্রল" আঁকা আছে নাকি!!
#নীলকান্ত ©
[[মধু দা'র একটা স্ট্যাটাস এ কমেন্ট করেছিলাম।শেষের লাইনটা নিজের কাছে ভালো লাগায় আমার টাইমলাইন এ পোষ্ট করলাম]]
www.facebook.com/swopnonil

বিদ্রোহ

তোর জানালার গ্রিলটা ভেঙে ফেলবো,
বড্ড জ্বালাচ্ছে আজকাল।
রাস্তার ঐ ল্যাম্পপোস্ট টা,
ঢিল দিয়ে উড়িয়ে দেব ভাবছি;
স্ট্রীট ডগ টাকে আছাড় মেরে
সরিয়ে দেব পৃথিবী থেকে,
চাঁদকে ধরে কালো ব্যাগে ভরে রাখব,
মিউ মিউ করে ডাকা সাদা বিড়ালটাকেও,
বড্ড বিরক্ত করে আজকাল।
শীতকাল টাকে ক্যালেন্ডারের পাতা
থেকে মুছে ফেলে দেব ভাবছি,
নিদ্রাদেবীকে ধরে এনে
তোর ঘরে বেধে রাখবো,
কংক্রিটের দেয়াল ভেদী জাদু
শিখে আসবো,
গ্রীলের জানালাটা ভেঙে চুরমার করে দেব,
বাধা দেবে সাধ্য কার?
তোর-আমার মাঝে এরা,
বড্ড বাড়াবাড়ি করছে আজকাল।।
#নীলকান্ত©
www.facebook.com/swopnonil

নীলকান্ত

নীলকান্ত,
তুই বিখ্যাত হয়ে গেছিস,জানিস?
তোর ভ্যান্না তলায় কলার পাতার ঘর,
শাড়ির আঁচল ছুঁইয়ে, নগ্ন বুকে
প্রেমের তুফান,
গলা টিপে হত্যা করা ভালোবাসার ভ্রুন,
কারো মন ছুঁয়েছে।
নীলকান্ত,
তুই জানিস,তুই বিখ্যাত হয়ে গেছিস?
পত্রিকার সাহিত্য পাতায় তোর কবিতা ছাপাবে বলে
অগ্রিম জানিয়ে দিলো।
শুস্ক মরুতে যে সবুজের উদ্যান করবি বলেছিলি,
এবার তার কূপ খননের পালা!
বালি ছেকে পানি তোলার আহবান।
নীল, তুই জানিস?
তোর কবিতা, কোন রমনীর মনের
আঙিনায় বাসা বেধেছে!
ঘর বেধেছে তেপান্তরের মাঠে?
স্বপ্ন বিভোর চক্ষুহতে ঘুম কেড়েছে,
হৃদয় নোঙর ফেলছে মনের ঘাটে।
নীলকান্ত,
তুই জানিস, তুই বিখ্যাত হয়ে গেছিস।
হা হা হা...
বিখ্যাত হয়ে গেছিস!!
#নীলকান্ত©
www.facebook.com/swopnonil

যুবক

আমি কি এখনো সেই ছোট্ট খোকা
আছি নাকি?
যে তুমি,কার্টুন দেখিয়ে মন ভুলাবে?
আমি কি সেই ছ'বছরের সুবোধ বালক!
যে তুমি, লাঠি লজেন্স দেখিয়ে মন ভুলাবে?
আমি আজ ২৫ বছরের উদ্দাম যুবক,
কার্টুন দেখে দেখে আর মন ভরে না,
এবার রক্ত-মাংসের মানুষ চাই।
যার উলের মত হাত আছে,
হরিনীর মত চোখ আছে,
মেঘ কালো চুল আছে যার,
আছে কলমিলতার দেহ।
গোলাপের মত ঠোট আছে যার,
হুইস্কির মত উন্মাদনা আছে যার।
পশমি বলের মত বুক আছে যার,
আছে কোকিলের মত কন্ঠ।।
আমি কি এখনো সেই ছোট্ট খোকা আছি নাকি!
যে তুমি, কথার জালে মন ভুলাবে?
আমি কি সেই ছ'বছরে সুবোধ বালক
আছি নাকি?
যে তুমি, রঙিন ঘুরির লোভ দেখিয়ে
আমায় কাছে নেবে!
আমি আজ ২৫ বছরের হালহীন,পালহীন নৌকা,
যার নোঙর করার তীর প্রয়োজন,
যার, দীর্ঘ যাত্রার জন্য পাল প্রয়োজন।
প্রয়োজন, একটা হাল।।
দীর্ঘ সমুদ্র পথের ক্লান্তি ভুলানো নাচ প্রয়োজন,
গান প্রয়োজন।
প্রয়োজন, তোমাকে।।
#নীলকান্ত ©
[[০১/১১/২০১৪ 02:18am]]
(আমি জানি, তুমি বুঝবে)
www.facebook.com/swopnonil

চড়ুইভাতি

যাহ!
তোকে চাইব না আর ডাকতে কাছে,
ভ্যান্না তলায়, কলার পাতায় ঘর বানাতে।
আমন খরের জাজিম পেতে
ডাকবো না আর,
চাইবো না আর বউ বানাতে।
গোল মরিচের তরকারি আর
জংলী কচুর শাক,
বলব না আর রাঁধতে তোকে
বালি মাটির ভাত।
করবো না আর  মাটির থালায়
মিছি মিছি বউভাত।
গামছা পড়িয়ে চাইব না আর বউ বানাতে,
ভ্যান্না তলায় কলার পাতার ঘর পাতাতে।
বলব না আর,বৃষ্টি মাথায় আসতে কাছে,
ডাকবো না আর, বউ বলে রাগলে পাছে।
যাহ!
তোকে ডাকবো না আর চড়ুইভাতির
ঘর সাজাতে,
চাইবো না আর ভ্যান্না তলায়
কলার পাতা,আমনের খর আর
কঞ্চি কেটে ঘর বানাতে।।
#নীলকান্ত©
[[ কেন জানি ছেলেবেলায় ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে খুব।সেই চড়ুইভাতি, কলা পাতার ছাউনি,কচুরিপানার মাছ,মাটির হাড়ি পাতিল, মিছিমিছি ভাত রান্না করা আবার ফিরে পেতে ইচ্ছে করছে খুব।]]
www.facebook.com/swopnonil

কলমিলতা

প্রায় এক যুগ পর এক বন্ধু আজ ফোন করেছে। ফোনটা ধরে আমি বললাম, কে?
ও পাশ থেকে একটা মেয়েলী কন্ঠস্বর ভেসে এলো।
"কিরে স ম (আমার নামের পদবীর সংক্ষিপ্ত রুপ) কেমন আছিস? "
হঠাৎ করে এরকম সম্ভোধন শুনে আমার বুকের মধ্যে ছ্যাৎ করে উঠলো। এ নামে আমাকে তো এখন কেউ ডাকে না। আজ থেকে ১২ বছর আগেই যা আমি পেছনে ফেলে এসেছি সেই সম্বোধন!  আমি তো রীতিমতো অবাক।
বললাম, কে আপনি??
ও পাশ থেকে মিষ্টি সুরে অচেনা রমনী বলে উঠলো , "ভুলেই যখন গেছিস তখন আর পরিচয় দিয়ে লাভ কি? "
আমি বললাম,  কিন্তু কে? আপনি যে আমার পূর্ব পরিচিত এবং অনেক আগের চেনা কোন মানুষ তা আমি বুঝতে পারছি।তবে.... ঠিক ধরতে পারছি না।"
মেয়েটি অত্যন্ত নম্র ভাবে,সুললিত কন্ঠে, মিষ্টি করে আমাকে জিজ্ঞাসা করল, "বলতো কে হতে পারি? "
আমি অবশ্য সেটাইঈ এতক্ষন ধরে ভাবছি, আসলে কে এই মেয়ে!কন্ঠ চেনা না হলেও কথার ধরন আর সুর আমাকে ইতিমধ্যে ১২ বছর পেছনে নিয়ে গেছে।একবার ভাবছি, হয়ত শারমিন হবে না হলে...
উমমম....সেলিনা,আকলিমা,কনা,ফৌজি,সাবিনা,রুনা,সালমা আর কে কে যেন ছিলো!!
উমমম..... এই মুহূর্তে এই কটা ছাড়া আর কারো নাম মনে হচ্ছে না।
তাই নিজের ভেতরে সব কিছু চাপা দিয়ে কিছুটা চেনার ভান আর কিছুটা কৌতুহল নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, "কি রে তুই?  তুই কুমিল্লার সেই সুন্দরী না?? "
আসলে সত্যি কথা বলতে কি আমি জাষ্ট একটু আন্দাজ করে বললাম।কারন স ম নামে আমার প্রাইমারির বন্ধু বান্ধবী ছাড়া কেউ কখনো ডাকত না।আর আমার ক্লাসের সবগুলো মেয়েঈ কম বেশি সুন্দর ছিলো।তাই সুন্দরী বলাটা বেশি কিছু না।
আমি মেয়েটি কে চিনতে পেরেছি, এই ভেবে ও পাশ থেকে ও আনন্দে আটখানা। আসলে তো এখনো আমি অন্ধকারেই আছি তা কি করে বলব!
ও পাশ থেকে বলে চলল, কিরে তাহলে তেলাপোকা টাকে ধরে ফেলেছিস। "
ওহ মাই গড!এ আমি কার সাথে কথা বলছি?  এ যে আমাদের কলমিলতা।ক্লাসের সবচেয়ে স্মার্ট, বুদ্ধিমতী, চটপটে মেয়ে।আদর করে আমরা ও কে তেলাপোকা বলে ডাকতাম।
ওরা অবশ্য আমার আর শাহরিয়ারের(আমার বন্ধু) একটা একই ধরনের নাম দিয়েছিল।কিন্তু প্রেস্টিজ পাংচার হওয়ার সমূহ সম্ভাবনার কারনে নামটা প্রকাশ করলাম না।
আমি এতক্ষনে ওকে যখন চিনতে পারলাম তখন আমার মধ্যে বিশ্বজয়ের আনন্দ।
বললাম, কি রে তুই আমার নাম্বার কই পেলি?  কি করছিস এখন?  কোথায় তুই?  বিয়ে করছিস না কি? হাসব্যান্ড-বাচ্চা কাচ্চা ইত্যাদি।।।।
হঠাৎ করেই যেন দু জন প্রাইমারি স্কুলের বারান্দায় ফিরে গেলাম।আমি যেমন উতলা হয়ে ওকে জিজ্ঞাসা করছি তেমনি ও কোনটা রেখে কোনটা বলবে ভাবে পাচ্ছে না।
বলা শুরু করল," আর বলিস না, পুরোনো ডায়রি খুঁজতে গিয়ে তোর ঠিকানা পেলাম। তারপর তোর নাম ধাম দেখে ভাবলাম, নিশ্চয় তুই ইন্টারনেট ইউজ করিস তাই গুগলে তোর নাম লিখে সার্চ করলাম।
ব্যাস, তোর ব্লগ এর লিংক পেলাম।গুগল + এ তোর ছবি দেখলাম।
এই তুই না অনেক সুন্দর হয়ে গেছিস রে!!"
ওর সামনা সামনি এই অহেতুক প্রশংসায় আমি একটু লজ্জাই পেলাম।
বললাম, রাখত। আমি আবার সুন্দর??
তারপর বল।
আমার কলমিলতা বলা শুরু করল,"তারপর আর কি! এই যে ব্লগ থেকে ফেসবুক লিংক পেলাম। একটু সন্দেহ ছিল কিন্তু স্কুলের নাম দেখে শিওর হলাম। "
"তারপর ফোন নম্বরটা নিয়ে এই যে ফোন দিলাম। "
বললাম, "ও আচ্ছা। যাক গুগলকে থ্যাংকস। ও না হলে হয়ত কোন দিন আর কথা হত না।"
মনে মনে ভাবলাম,  সত্যি প্রযুক্তি কতই না উপকারে আসে।আহা!!  শুধু ব্যবহারের সদ্বিচ্ছা থাকতে হবে।আমরা এর ভালো টা নেব না খারাপটা নেব।
যাই হোক, তারপরে অনেক কথা হল। ছেলে বেলার দুষ্টোমি থেকে শুরু করে বড়বেলার  পাগলামি। সব সব কিছু।।
যাক, ১২ বছর পরে এমন কারো সাথে কথা হবে ভাবতেও পারিনি কখনো।
থ্যাংকস গুগল, থ্যাংক্স ফেসবুক।।
(দুঃখিত, লিখতে লিখতে কিছু লিখা বাদ পরে গেল।)
www.facebook.com/swopnonil

ভালোবাসবো মানুষের মত

হয়ত তোমার পথ চেয়ে বসে থাকা,
খররৌদ্রে মাঝ রাস্তায় দাড়িয়ে অথবা
পুর্নিমা বা অমাবস্যার ঘুটঘুটে অন্ধকারে তোমাকে খুজে ফেরা ছিল আমার পাগলামি।
এবার আমি মানুষ হবো।
মানুষের মত ভালো বাসব।
যেভাবে তুমি চাও।
আমার মাতাল ভালো বাসাকে এবার পিঞ্জরে ধরে রাখব।
লোহার বেড়ী, মনকড়া পড়িয়ে নিয়ে যাব তোমার আদালতে।
তুমি না দিলেও, নেব স্বেচ্ছা নির্বাসন,
সারাদিন ঘরের কোনে বেধে রাখব মন।
ঘাপটি মেরে বসে থাকাবে আমার ভালবাসা।
তোমার দৃষ্টির আড়ালে নীরবে  পোষা কষ্টে
ক্ষত বিক্ষত হৃদয়ে যন্ত্রনার প্রলেপ দেব।।
তবুও এবার আমি মানুষ হব।
ভালবাসব মানুষের মত।।

বৃষ্টি, আমি আর পারু

পারু,
হঠাৎ করেই ঘুম ভেঙে গেলো টিনের চালায় বৃষ্টির রিমঝিম শব্দে।
একটু কান খাড়া করে শুনতে চাইলাম, আসলে এটা বৃষ্টি না তোমার নুপুরের নিক্কন।একবার
মনে হল, তুমি আমার বারান্দায় দাড়িয়ে আছো।
লাফ দিয়ে বিছানা ছেড়ে উঠলাম।দরজা খুলে দেখি,না সেখানে কেউ নেই বৃষ্টির ফোটারা ছাড়া।শুধু মাঝে মাঝে কে বা কারা যেন বেশ জোড়ে সোরে হুমকি-ধামকি দিয়ে যাচ্ছে একেরপর এক।আর কোন অশতীপর বৃদ্ধার দৃষ্টি শক্তি বোধহয় একটু বেশিই কমে গেছে।না হলে এরকম সকালে বিজলী বাতি জ্বালিয়ে আমার বোকা হয়ে দাড়িয়ে থাকা দেখত না।
টিনের চাল বেয়ে বৃষ্টির ধারা সারি করে মাটিতে পরছে, তারপর গড়িয়ে গড়িয়ে জমা হচ্ছে ঐ নিচু জায়গাটায়। জানো পারু, ওখানে বৃষ্টির ফোটারা এক এক করে স্পেস স্যুট এর মাস্ক পড়ে কি দারুন ভাবে ভেসে যাচ্ছে! ইস! তুমি যদি দেখতে।
পারু,
কথা ছিলো,সকালে তোমার সাথে দেখা করব।আমারো খুব ইচ্ছে করছে এই বৃষ্টিতে কাক ভেজা হয়ে তোমার সামনে দাঁড়াতে। তারপর, খোলা আকাশের নিচে, ঝুম বৃষ্টি মাথায় নিয়ে হেটে যাব সাতমাথায়।ওখান থেকে পৌর পার্ক,খোকন পার্ক হয়ে আলতাবেলীর সামনের ফুট পাতে দাড়িয়ে দাড়িয়ে এক কাপ চা খাব ভাগা ভাগি করে।।লোকজন তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবে আর মাঝে মাঝে ঐ অশতীপর বৃদ্ধা হয়ত হাতের লাইট জ্বালিয়ে দেখবে আমাদের ছেলেমানুষি।
কিন্তু কি করব বলো, তুমিই তো বের হতে পারবে না। আর এখন যখন তোমাকে এত সব লিখছি তখন, হুমকি-ধামকির জোড় অনেক বেরে গেছে।বেড়ে গেছে বৃদ্ধার লাইটের চার্জ।।
এখন আমি কি করি বলো তো!!
পারু,
তুমিও কি জানালা খুলে বৃষ্টি দেখছ?
মনে হচ্ছে,তুমি হাত বাড়িয়ে বৃষ্টির ফোটাগুলো ধরে আলতো করে ঠোটের কোনে লাগিয়ে মিষ্টি করে হেসে উঠছো আমাকে ভেবে! দেখো, কি আশ্চার্য ! আমিও তো তোমার ছুয়ে দেয়া বৃষ্টিতে ভিজছি।এ যেন,তোমার স্পর্শ বুলিয়ে যাচ্ছে আলতোভাবে।
অনেক মিস করছি তোমাকে, পারু। অনেক মিস করছি তোমাকে।
www.facebook.com/swopnonil

রাজনীতির কাঠবিড়ালেরা


এই যে,
এরা সব কাঠবিড়ালের দল,
লেজ উচিয়ে ঘোরে-ফিরে,
খায় গাছের পাকা ফল।।
এরা সব কাঠবিড়ালের দল।
রাজনীতির মাঠটা গরম,
আছে ক্ষমতা,শক্তি,বল;
এবার তোকে কে ঠেকাবে,
ইচ্ছা মত চল।
এরা সব কাঠবিড়ালের দল।।
অবশ্য জাত আছে দুটো,
কেউ কারো কাছে হবে না কো ছোট,
শুধু,
দ্বন্দ্ব তাদের কে খাবে কোন ফল!
কেউ পেড়ে খায় গাছ থেকে তো
কেউ কুড়ায় গাছের তল।
যত যাই বলো রে ভায়া,
এরা সব কাঠবিড়ালের দল।
আর আমরা??
আমরা মানুষ বড়ই খাস,
পদে পদে তাই খেয়ে যাই বাশ।।
মুখ ফুটে বললে কিছু,
এরা বলে," আরে শালা,তুই আবার কি চাস?? "
আমাদের নরম কমল দিল,
ভুলেও কভু মারি না এদের ঢিল,
কুকুরের সাথে কতই না তাই মিল,
ঠ্যাঙানি খেলেও পরের বার
মারব আবার একই জায়গায় সীল।।
তারপর,
আবার এরা লেজ উচিয়ে
খাবে গাছের ফল,
চেয়ে চেয়ে দেখব আমরা
ফেলব চোখের জল।
আরে শালা,
আগেই বলেছি, এরা কাঠবিড়ালের দল।।
www.facebook.com/swopnonil

রক্তের পিপাসা

যতবার এ হাতে ময়লা লেগেছে,ধুয়েছি।
খালি পানিতে ধুয়েও ময়লা পরিস্কার হয়েছে,
কিন্তু এবার??
এবার যে  লেগেছে-
চটের ব্যাগ হাতে গ্রাম্য হাটুরের রক্ত,
রাস্তায় পড়ে থাকা লুলা ভিখারি সাত্তারের রক্ত।
লেগেছে সারাদিন ঘামে ভেজা ভ্যানওয়ালা মন্টুর রক্ত,
রোদে পোড়া কৃষ্ণকায় বর্গাচাষী রবিউল মিয়ার রক্ত।
এ রক্ত সরাবো কিভাবে??
সাবান দিয়ে,হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে, ডেটল বা স্যাভলনের মত এন্টিসেপ্টিক দিয়ে কতবার ঘসেছি, যায়নি।
কাপড় কাচা ডিটারজেন্ট এর মধ্যে হাত ভিজিয়ে রেখেছি বহুবার,
তবুও যায়নি।
না রক্তের দাগ,না  গন্ধ, কোনটাই।
কি করেই বা যাবে -
এ রক্তের দাগ যে মিশে গেছে আমার রক্তে,
জিহ্বায়,প্রতিটি শিরা-উপশিরা,ধমনীতে।
কতভাবে চুষে খেয়েছি রক্ত ওদের....
হাটুরের ব্যাগে লালশাক আর কলমিলতা ছিলো,
একটা লাল পেড়ে শাড়িও কিনেছিল
মেয়ে তিথলীর জন্য।
আমি ওর নিওরোনে দুশ্চিন্তার বিষ ঢেলেছিলাম।
তারপর চুষে খেয়েছি ওর তাজা লাল রক্ত পিষাচের মত।।
লুলা ভিখারি ছাত্তারের ইনকাম ইদানীং বেড়ে গেছে বহুগুন..
রাস্তা দিয়ে যেই যায়, দিয়ে যেত দু পয়সা।
মোট দুইশ দশ টাকা ছিলো ওর ভাঙা থালাতে।
ভিখারির বাচ্চা! এত টাকা কামাইস চাদা দিবি না??
তাইতো, ওর ভাঙা প্লেট ভর্তি করে ওর রক্ত গিলেছি ছোট্ট ফুটা দিয়ে।
কেউ দেখেনি।
কেউ দেখেনি,ভ্যানওয়ালা মন্টুর গায়ের ঘাম কিভাবে রক্ত হয়েছিল!
রবিউল মিয়ার ধানী জমি কিভাবে
আমার পিপাসার মিটিয়েছিল।
কেউ দেখেনি।।
কিন্তু শালার সব গুলার রক্তে বিশ্রী গন্ধ,
এখনো যায়নি কিছুতেই।
না সাবান, না ডিটারজেন্টে।
মনে হচ্ছে,প্যারিসের সব পারফিউম গিলে খাই,
প্লাস্টিক সার্জারি করে বদলে ফেলি হাতের চামড়া।
এখনো যে অনেক রক্ত খাওয়া বাকি।।।
www.facebook.com/swopnonil

একটা সকাল দিতে ইচ্ছে করে

একটা সকাল দিতে ইচ্ছে করে তোমায়,
এরকম এক বৃষ্টিস্নাত সকাল।
আকাশে কালো মেঘের ভেলা,
বিদ্যুতের ঝলকানি,
গুরুম গুরুম বজ্রপাত
আর মাথার উপর ঝুম বৃষ্টি।
আর সেই সকালে,
রাস্তা ফাকা,পাতি হাসগুলো খেলবে জলকেলি।
বজ্র মেঘের ঝলকানিতে চোখ বন্ধ করে-
দু কানে আঙ্গুল ঢুকাবে অশীতিপর বৃদ্ধা।
আর তোমার ভীত-সন্ত্রস্ত মুখটা
লুকোবে আমার বুকে।
শির শির করে কেঁপে উঠা তোমার ঠোট,
উষ্মতা খুজবে আমার ঠোঁটে।
এরকম এক সকাল দিতে ইচ্ছে করে খুব।
এমনই একটা বৃষ্টিস্নাত সকাল।।

মাংস পচা গন্ধ

সুপর্না,
রাতের অন্ধকারের গুমট গন্ধ পাও তুমি?
কি বিশ্রী,ভয়ংকর এ গন্ধ!
মনে হয় যেন,
লাশের
গায়ে গুবরেপোকারা বাসা করেছে।
এক ঝাক শকুনির দল খুবলে খুবলে খাচ্ছে
আধারের পচা মাংস।
আর,
জানালার ফাক-
ফোকরগুলো গলে উত্তরের বাতাস
আমার ফুসফুসীয়
কার্যে এনেছে ধর্মঘট।
বন্ধ হয়ে গেছে হৃৎপিন্ডের মুদিখানা।
জানো সুপর্না,
যে আলো আমার বন্ধু ছিল,
তা আজ রুপ নিয়েছে পাওনাদারে।
ওর থেকে পালিয়ে বেড়াই।
যে আধার আমার স্বপ্নের রাজ্য ছিল,
তার গায়ে আজ পচন ধরেছে।
আজ তাই ওর গায়ে পচা মাংসের গন্ধ।
(সঙ্ক্ষিপ্ত)

জীবনের চাষ

চাষ করব .
তোমার তপ্ত মরূ অঞ্চল
আমার সুপ্ত আগ্নেয়গিরি।
ভেতরে উত্তপ্ত লাভা,উদগীরনের
অপেক্ষায়।।
শীতের থুরথুরে বুড়ি পালিয়েছে
ভালবাসার যাতাকলে পিষে।
মোটা লেপের যে আস্তরন ছিল,
শরীরের যেটুকু কাপড় ছিল,
হারিয়েছে-
ভালবাসার উষ্ণতা মিশে।
কিন্তু,
তোমার মরূতে যে কুপ করেছি খনন
তাতে পানি নেই।
ভেজেনি সেখানকার বালি মাটি,
জন্মায় নি সবুজ ফসল।
আমার আগ্নেয়গিরি আছে,
ভেতরে উত্তপ্ত লাভা আছে;
ভিজিয়ে দেব তোমার খা খা মরুভুমি,
নিচ থেকে তুলে আনব উষ্ণ পানি,
ভরিয়ে দেব সবুজ।
এক ফোটা দু ফোটা করে।।।
(সংক্ষেপিত)
নীলকান্ত

আমি আমিই

একশ এক খানা নীল পদ্ম তোমাকে দেব,
পারব না তা।
আমি তো সুনীল নই।।
১২ বছর বর্শী ফেলে তোমার আরাধনা,
আমি পারব না তা,
চন্ডিদাস আমি তো নই।
মৃত্যুরর পেয়ালা হাতে পারবনা দিতে
তোমার অধরে চুম্বন,
আমি তিস্তান নই।
আমি পারবনা মজনু,ফরহাদ
কিংবা রোমিও হতে,
কমিক্স এর চরিত্র আমি নই।
শুধু এক আকাশ ভালবাসা,
এক প্রশান্ত নীল,
এক মেরু শুভ্রতা দেব, ভালবেসে।
আমি প্রেমিক কোন গল্প নই।
স্পেশাল দিন-১১/১২/১৩
আজ নাকি কোন স্পেশাল দিন!!
ওহ!এখন তো রাত।
দিন তো সেই কখন রাতের
আধারে ঢেকেছে।
তাহলে আমিই বোধহয় এক্টু
দেরি করে ফেলেছি।
রাস্তার পাশের ওই দোতলার
জানালাটা খোলা ছিল,
এলোকেশী কোন রমণীর ধব
ধবে সাদা পিঠের
সকালের সুর্যস্নান দেখতে দেখতে দুপুর
গড়িয়েছে।
তারপর,
নিকশ কালো ভেজা চুল শুকাতে আসা
পাশের বাড়ির যুবতীর
দিকে চেয়ে থাকতে থাকতে হয়েছে
আসব আসব করেও আসা হয়নি।
আচ্ছা,আজ না কি কোন স্পেশাল দিন?
সেও তো চলে গেছে আধারের
সাথে সাথে।
তবুও রাত এখনো কিছুটা বাকি!
কিন্তু,দোতলার বারান্দারর
এলোকেশী রমণী নেই,
নেই পাশের বাড়ির যুবতী।
হয়তবা আবারো একশ বছর
পরে ফিরে আসবে
ওরা দুজন, ফিরে আসব আমি।
ফিরে পাব আজকের এই স্পেশাল দিন।।

প্রিয় দেবী (বিরহের চিঠি) ৩

প্রিয় দেবী, অনেকদিন পর তোমায় লিখছি। কতদিন পর! ঠিক ঠাক মনে পড়ছেনা কিছুই। শুধু মনে পড়ে, শত শত চিঠি পাঠিয়েছি বেনামী ঠিকানায় বহুদিন। হয়ত সেসব কখ...