Showing posts with label Short Story. Show all posts
Showing posts with label Short Story. Show all posts

ছোট গল্পঃ "সেতু"

১#
আমার এক পুরোনো ছাত্রী।ও যখন ইন্টারমিডিয়েট পড়ত তখন পড়াতাম।গত তিনদিন আগে হঠাৎ করে রাস্তায় দেখা।
বলল,"স্যার,কেমন আছেন? "
আমি তো পুরাই হব্ব তব্ব লেগে গেছি।কিরে এত বড় মেয়ে আমাকে স্যার বলে! কে এইটা!
বললাম,ভালো আছি।
বলেই পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছি।মেয়েটি আবার বলল,
"স্যার,আমাকে চিনতে পারেন নি? "
কি বিপদ! এখন কি বলি? বললাম, তোমার নামটা ঠিক মনে হচ্ছে না! কি যেন নাম তোমার?
বলল, সেতু।স্যার,আপনার কাছে দুই বছর পড়লাম আর ভুলে গেছেন?
আমি বললাম, না ভুলি নাই,আসলে নামটা মনে পড়ছিল না।তা তুমি কি কর এখন?
-অনার্স ২য় বর্ষে এখন।
কোথায় আছো?
-রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে।
আচ্ছা,তাই না কি? তো ভালো তো।ভেরী গুড।
তোমার বাসা তো আশে পাশেই না?
-হ্যা স্যার। স্যার, একটা কথা বলব?
হ্যা বল।কি বলবা?
- স্যার, আপনি একদিন আমাদের বাসায় আসেন না, প্লিজ।আপনাকে তো কোনদিন বাসায় নিতে পারিনি।অন্তত একদিন আসেন প্লিজ।
আমি বললাম, দেখো, আসলে কারো বাসায় যেতে আমার ভালো লাগে না।আচ্ছা, তারপরেও চেষ্টা করব।
নিজের কাছে নিজেকে যেন ৪০ বছরের চশমা পড়া টিচার টিচার মনে হচ্ছিল তখন।অত্যন্ত গম্ভীর। জ্ঞানী জ্ঞানী। হা হা হা।।
এবার আমার সেই ছাত্রী আরেকটা আবদার করে বসলো,স্যার, আপনার ফোন নাম্বারটা দেয়া যাবে?আপনার আগের নাম্বারে অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু ঢোকেনি।আপনার রিসেন্ট নাম্বারটা দেন প্লিজ।
আমি বললাম, নাম্বার দিয়ে কি করবা?
[এদিকে নিজের কাছে কিছুটা অস্বস্তিও লাগছে।যতই সে আমার ছাত্রী হোক কিন্তু এই লোকজনের মধ্যে কে কি ভাবছে,কে জানে? আর আমি একেতো কেবল অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ি তার পরে আবার অবিবাহিত। এটা আশে পাশের সবাই খুব ভালো করেই জানে। এ এলাকায় কথা বাড়ানোর আল্লাহ দিলে লোকেরও অভাব নাই।]
যাই হোক মেয়েটি বলল, স্যার,আপনাকে আমার বাসায় আসতেই হবে।আর এই জন্যে নাম্বার নিচ্ছি।যেন আপনি ভুলে যেতে না পারেন।
[এই মেয়ে কি বলে! আমি ভুলে যাব? অবশ্য যেতেও পারি।]
আমি কথা বাড়ালাম না।একে তো ছাত্রী তার উপর পাবলিক প্লেস।এই জায়গা যত দ্রুত ত্যাগ করা যায় ততই ভালো। এরকম অস্বস্তি তে থাকতে হবে না।
নাম্বারটা দিয়ে দিলাম।তারপর আমার জরুরী কাজ আছে বলে চলে আসছি।পেছন থেকে মেয়েটি  মানে সেতু, চিৎকার করে বলছে,"স্যার, আসবেন কিন্তু।আমি ফোন দেব কিন্তু "।
আমি একবার ছোট্ট করে পেছনে তাকিয়ে মাথা ঝাকিয়ে চলে এলাম।
মনে মনে ভাবলাম,"এই মেয়েকে আমি আবার কবে পড়ালাম? মনে তো পড়ছে না। আর সেতু, সেতু সেতু......উমম।
সেতু কে??"
#২
দুইদিন পরের কথা।মানে গত রাতের।হঠাৎ একটা রবি নাম্বার থেকে ফোন এলো।আমি কেবল ঘুমিয়েছি।রাতও সম্ভবত অনেক হয়েছে।বালিশের পাশে মোবাইলটা হাতে নিয়ে ঘুম ঘুম চোখে ফোন রিসিভ করলাম।
-হ্যালো.....
ও পাশে নীরবতা।
-হ্যালো, কে?
এবার একটু ধমকের শুরে বলে উঠলাম।এবার ওপাশ থেকে খসখস একটা শব্দ এলো।তারপর,
#হ্যালো, স্যার।সরি স্যার।হঠাৎ করে ফোন চলে গেছে।
আমি বললাম, "কে আপনি? "
#স্যার আমি সেতু।
-ওহ আচ্ছা, তা সেতু, কি খবর? এত রাতে ফোন দিছো যে! ঘুমাও নি?
#না স্যার ঘুমাই নি।আর ফোনটা এমনিতেই চলে গেছে।চাপ লেগে।আপনাকে বিরক্ত করার জন্য সরি।
আমি একটু স্বাভাবিক ভদ্রতা দেখিয়ে বললাম, no problem , its all right. ঠিক আছে ঘুমাও তাহলে।
বলেই ফোনটা রাখতে যাচ্ছি।ওমনি ওপাশ থেকে সেতু বলল, স্যার, আপনার কি খুব ঘুম পাচ্ছে? স্যার,
আমি কি আপনার সাথে একটু কথা বলতে পারি?
আমি বললাম, সেতু, ঠিক আছে কাল সকালে।
#না স্যার, এখনি।প্লিজ দুই মিনিট।
-আচ্ছা বলো।
তারপর ও পাশ থেকে একটানা ১ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড পর্যন্ত মোটামুটি দুইশ কথা বলে ফেলল প্রায় এক নিশ্বাসে।
ওর কথা শুনে আমি তো পুরাই বেকুব হয়ে গেলাম।না হ্যা বলার শক্তি আছে না না বলার শক্তি!
মাথায় জ্যাম লেগে গেলো।
কি বলল এসব?  
আমি তো মনের ভুলেও কোনদিন ভাবিনি এসব।আর আজ কিনা, এই মেয়েটি নিজের মুখে সব বলে দিল??
আমি কিছুক্ষন চুপ চাপ থেকে বললাম, ঠিক আছে, সকালে এ বিষয়ে কথা বলব।
।।
#3
পরেরদিন কোন এক কারনে বেশ সকালেই একবার ঘুম ভেঙে গেলো।সাধারনত এত সকালে আমার ঘুম ভাঙার রেকর্ড নাই বললেই চলে।প্রতিদিন গভীর রাতে ঘুমোতে যাওয়া আর বেলা করে ঘুম থেকে উঠা একরকম রুটিন হয়ে গেছে।
কিন্তু সেদিন এই সকাল সকাল ঘুম ভাঙার কারনটা ঠিক বুঝলাম না।তবে ঘুম ভাঙলেও বিছানা ছেড়ে উঠার মত ইচ্ছে নেই।তাই শুয়ে শুয়ে গান শুনছি।সকালে রবীন্দ্রসংগীত আমার খুব প্রিয়।বিশেষ করে হেমন্তের কন্ঠে।গান শুনছি।এমন সময় মোবাইল টা বেজে উঠলো।আমি ফোনটা হাতে নিয়ে দেখি সেতুর ফোন।
আরে,আমি তো সব ভুলেই গেছিলাম।বিশেষত গত রাতের আচমকা হৃৎকম্প।কিন্তু আবারো মেয়েটার ফোনে সব মনে পড়ে গেলো।ভাবছি,ফোন ধরব কি না!
একবার রিং বেজে থেমে গেলো।আবার রিং হচ্ছে.......
ক্রিং ক্রিং ক্রিং.....
[আসলে পুরোনো টেলিফোনের রিং গুলো আমার খুব ভালো লাগত আর সেই সুবাদে ফোনে সাধারন্ত এই ক্রিং ক্রিং টোন টা দেয়া থাকে।]
এবার একটু বিরক্ত হয়েই ফোনটা রিসিভ করলাম।ও পাশ থেকে একটা ভীত সন্ত্রস্ত সালাম।
-অলাইকুম আসসালাম।হ্যা বলো,সেতু।
#স্যার,কেমন আছেন?
-ভালো আছি।তা কিছু বলবে?
[আমি ভেবেছিলাম, হয়ত মেয়েটি আর রাতের কথা পাড়বে না।কিন্তু নাহ! আমার ধারনায় ভুল ছিল।]
ও পাশ থেকে সেতু বলে চলল,
#স্যার, আমি যা বলেছি সব সত্য।আমি আবেগ থেকে না,সব কিছু ভেবেই বলেছি।প্লিজ স্যার কিছু বলেন।
[আমার মেজাজটা সাত সকালে চরমে উঠার উপক্রম।তারপরেও নিজেকে সংযত করে অত্যান্ত ঠান্ডা ভাবে বললাম,
"সেতু, ভেবেছি এবার তোমার আম্মুর সাথে একটু কথা বলা দরকার।"
এবার কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে আই-গাই করতে করতে ফোন টা কেটে দিল।বুঝলাম ভয় পেয়ে গেছে।পাছে আমি সব ওর মাকে বলে দেই কিনা!
আমি আর ফোন ব্যাক করলাম না।বরং মনে মনে ভাবছি, কি করা যায়?আর সেই সাথে আশা ভঙ্গের কি চিত্র এই মুহূর্তে সেতুর মুখে ফুটে উঠেছে তা যেন স্পষ্টত দেখতে পেলাম।কিন্তু আমি জানি,ও এখনো আবেগের দুনিয়ায় রঙিন চশমার অন্তরালের পৃথিবী দেখেছে কিন্তু বাস্তবতার কষাঘাতে জর্জরিত জীবনের চিত্র উপলব্ধি করেনি।তাই জীবনের পোড় খাওয়া,ছেড়া-ফাটা মানুষ হিসেবে ওকে বুঝানোর একটা ছোট্ট দায়িত্ব আমার উপর যেন রয়েই গেল।দেখি,কোন একদিন ওর বাসায় যাবার দাওয়াতটা কবুল করা যায় কিনা!!!
#নীলকান্ত©
ফ্রমঃ  ছোট গল্প "সেতু"।(১ ২ ও ৩)
www.facebook.com/swopnonil

গল্পঃ "সেতু"

১#
আমার এক পুরোনো ছাত্রী।ও যখন ইন্টারমিডিয়েট পড়ত তখন পড়াতাম।গত তিনদিন আগে হঠাৎ করে রাস্তায় দেখা।
বলল,"স্যার,কেমন আছেন? "
আমি তো পুরাই হব্ব তব্ব লেগে গেছি।কিরে এত বড় মেয়ে আমাকে স্যার বলে! কে এইটা!
বললাম,ভালো আছি।
বলেই পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছি।মেয়েটি আবার বলল,
"স্যার,আমাকে চিনতে পারেন নি? "
কি বিপদ! এখন কি বলি? বললাম, তোমার নামটা ঠিক মনে হচ্ছে না! কি যেন নাম তোমার?
বলল, সেতু।স্যার,আপনার কাছে দুই বছর পড়লাম আর ভুলে গেছেন?
আমি বললাম, না ভুলি নাই,আসলে নামটা মনে পড়ছিল না।তা তুমি কি কর এখন?
-অনার্স ২য় বর্ষে এখন।
কোথায় আছো?
-রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে।
আচ্ছা,তাই না কি? তো ভালো তো।ভেরী গুড।
তোমার বাসা তো আশে পাশেই না?
-হ্যা স্যার। স্যার, একটা কথা বলব?
হ্যা বল।কি বলবা?
- স্যার, আপনি একদিন আমাদের বাসায় আসেন না, প্লিজ।আপনাকে তো কোনদিন বাসায় নিতে পারিনি।অন্তত একদিন আসেন প্লিজ।
আমি বললাম, দেখো, আসলে কারো বাসায় যেতে আমার ভালো লাগে না।আচ্ছা, তারপরেও চেষ্টা করব।
নিজের কাছে নিজেকে যেন ৪০ বছরের চশমা পড়া টিচার টিচার মনে হচ্ছিল তখন।অত্যন্ত গম্ভীর। জ্ঞানী জ্ঞানী। হা হা হা।।
এবার আমার সেই ছাত্রী আরেকটা আবদার করে বসলো,স্যার, আপনার ফোন নাম্বারটা দেয়া যাবে?আপনার আগের নাম্বারে অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু ঢোকেনি।আপনার রিসেন্ট নাম্বারটা দেন প্লিজ।
আমি বললাম, নাম্বার দিয়ে কি করবা?
[এদিকে নিজের কাছে কিছুটা অস্বস্তিও লাগছে।যতই সে আমার ছাত্রী হোক কিন্তু এই লোকজনের মধ্যে কে কি ভাবছে,কে জানে? আর আমি একেতো কেবল অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ি তার পরে আবার অবিবাহিত। এটা আশে পাশের সবাই খুব ভালো করেই জানে। এ এলাকায় কথা বাড়ানোর আল্লাহ দিলে লোকেরও অভাব নাই।]
যাই হোক মেয়েটি বলল, স্যার,আপনাকে আমার বাসায় আসতেই হবে।আর এই জন্যে নাম্বার নিচ্ছি।যেন আপনি ভুলে যেতে না পারেন।
[এই মেয়ে কি বলে! আমি ভুলে যাব? অবশ্য যেতেও পারি।]
আমি কথা বাড়ালাম না।একে তো ছাত্রী তার উপর পাবলিক প্লেস।এই জায়গা যত দ্রুত ত্যাগ করা যায় ততই ভালো। এরকম অস্বস্তি তে থাকতে হবে না।
নাম্বারটা দিয়ে দিলাম।তারপর আমার জরুরী কাজ আছে বলে চলে আসছি।পেছন থেকে মেয়েটি  মানে সেতু, চিৎকার করে বলছে,"স্যার, আসবেন কিন্তু।আমি ফোন দেব কিন্তু "।
আমি একবার ছোট্ট করে পেছনে তাকিয়ে মাথা ঝাকিয়ে চলে এলাম।
মনে মনে ভাবলাম,"এই মেয়েকে আমি আবার কবে পড়ালাম? মনে তো পড়ছে না। আর সেতু, সেতু সেতু......উমম।
সেতু কে??"
#২
দুইদিন পরের কথা।মানে গত রাতের।হঠাৎ একটা রবি নাম্বার থেকে ফোন এলো।আমি কেবল ঘুমিয়েছি।রাতও সম্ভবত অনেক হয়েছে।বালিশের পাশে মোবাইলটা হাতে নিয়ে ঘুম ঘুম চোখে ফোন রিসিভ করলাম।
-হ্যালো.....
ও পাশে নীরবতা।
-হ্যালো, কে?
এবার একটু ধমকের শুরে বলে উঠলাম।এবার ওপাশ থেকে খসখস একটা শব্দ এলো।তারপর,
#হ্যালো, স্যার।সরি স্যার।হঠাৎ করে ফোন চলে গেছে।
আমি বললাম, "কে আপনি? "
#স্যার আমি সেতু।
-ওহ আচ্ছা, তা সেতু, কি খবর? এত রাতে ফোন দিছো যে! ঘুমাও নি?
#না স্যার ঘুমাই নি।আর ফোনটা এমনিতেই চলে গেছে।চাপ লেগে।আপনাকে বিরক্ত করার জন্য সরি।
আমি একটু স্বাভাবিক ভদ্রতা দেখিয়ে বললাম, no problem , its all right. ঠিক আছে ঘুমাও তাহলে।
বলেই ফোনটা রাখতে যাচ্ছি।ওমনি ওপাশ থেকে সেতু বলল, স্যার, আপনার কি খুব ঘুম পাচ্ছে? স্যার,
আমি কি আপনার সাথে একটু কথা বলতে পারি?
আমি বললাম, সেতু, ঠিক আছে কাল সকালে।
#না স্যার, এখনি।প্লিজ দুই মিনিট।
-আচ্ছা বলো।
তারপর ও পাশ থেকে একটানা ১ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড পর্যন্ত মোটামুটি দুইশ কথা বলে ফেলল প্রায় এক নিশ্বাসে।
ওর কথা শুনে আমি তো পুরাই বেকুব হয়ে গেলাম।না হ্যা বলার শক্তি আছে না না বলার শক্তি!
মাথায় জ্যাম লেগে গেলো।
কি বলল এসব?  
আমি তো মনের ভুলেও কোনদিন ভাবিনি এসব।আর আজ কিনা, এই মেয়েটি নিজের মুখে সব বলে দিল??
আমি কিছুক্ষন চুপ চাপ থেকে বললাম, ঠিক আছে, সকালে এ বিষয়ে কথা বলব।
।।
#নীলকান্ত©
ফ্রমঃ  ছোট গল্প "সেতু"।(১ ও ২)অংশ বিশেষ।
www.facebook.com/swopnonil

স্বপ্ন এবং আমি

গল্পঃ(স্বপ্ন এবং আমি)
------------
বলার মত কিছু নেই যে কথাটা বলা যায়!!
সারা রাত হা ডু ডু খেলে সকালে ঘুম ভাঙতে ভাঙতে যে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেছে তা বুঝতে পারলাম কিছুক্ষন আগে। ঘুম ভাঙবেই বা কিভাবে! আজ ঘুমের দেবতার সাথে সাথে স্বপ্ন দেবীও যে বেশ প্রসন্ন ছিলো।দেবীর স্বদিচ্ছায় বন-বাদার, মাঠ-ঘাট,সমুদ্র-আকাশ কোনটাই বাদ যায়নি আজ। এই এখন সমুদ্রের মাঝে ছোট্ট ডিঙিতে মরনপণ বাচার লড়াই তো,কিছুক্ষন পর দেখি আকাশে ডানাবিহীন উড়ন্ত মানখি(মানুষ +পাখি)।নিজেকে সুপারম্যান কিংবা কৃষ টাইপের কিছু একটা মনে হচ্ছিল তখন।
দেবী সবকিছুই ঠিকঠাকই মেইনটেইন করছিলেন কিন্তু হঠাৎ বোধহয় ঘুম দেবতার সাথে রোমাঞ্চ করতে করতে তিনি আমার ব্যাপারে খানিকটা উদাসীন হয়ে গেছিলেন। নয়ত,দুই জনের রোমাঞ্চকালীন সময়ে লোকাল ট্রেনের স্পিডটা মেইল ট্রেনের স্পিডে উঠায় যাত্রীর ছিট থেকে ছিটকে পড়েছিলাম আমি।
বলি,ও দেবতা, লোকাল চালাও আর মেইল চালাও যাত্রী কেন পড়ে?? :p
যাই হোক ছিটকে পড়লাম তো পড়লাম তাও আবার মালীর ঘাড়ে।
আরে বাবা, এত জায়গা রেখে ওই খানেই ফেলতে হলো!
চেহারাটা এই মুহূর্তে মনে করতে পারছি না।তবে বেশ পুরোনো চেহারা।আই মিন, অনেক পুর্ব পরিচিত।হয়ত এক সময় তার জন্য আমিই পাগল ছিলাম!  কিন্তু,
মনের ঘরের জানালা দরজায় বোধহয় একটু বেশিই মরিচা ধরে গেছে।না হলে এত চেষ্টা করেও কিছুতেই ওর নাম মনে করতে পারছি না কেন!
বোধহয় শশী বা কুশি এই জাতীয় কোন একটা নাম ছিল ওর। হাল্কা গড়ন,দুধে আলতা গায়ের রং,মাথার মেঘকালো চুলগুলো ছেড়ে দিলে কোমড় ছুই ছুই করে আর ভাসা ভাসা চোখ যেন সবসময় স্বপ্ন দেখে। আমি বোধকরি একবার ওকে খোলা চুলে বৃষ্টিতে ভিজতে দেখেছিলাম।
সেদিন ওর পড়নের আকাশি স্যালোয়ার কামিজ ভিজে শরীরের সাথে আটকে গেছে।সামনের চুলগুলো থেকে ফোটা ফোটা বৃষ্টি কণা কপাল চুইয়ে গাল বেয়ে ঠোটের কার্নিশে এসে মিশেছে আর ও আলতো ভাবে ওড়নার আচল দিয়ে গড়িয়ে পরা মুক্ত কনা মুছার ব্যর্থ চেষ্টা করে যাচ্ছে।।
এভাবেই ওকে প্রথম দেখেছিলাম বোধহয়। কিন্তু কি আশ্চার্য আজ ওর নামটাই মনে নেই!!
স্বপ্নের মধ্যেও স্বপ্নদেবীর এই অহেতুক রসিকতায় কিছুক্ষন স্তব্ধ হয়ে গেলাম। স্বপ্ন দেখছি, আমি সুপারম্যানের মত উড়ে চলেছি।হঠাৎ আমার সুপার ন্যাচারাল ক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেলো।আমি হাজার হাজার ফুট উপর থেকে নিচে পড়ে যাচ্ছি। ঈশ্বর আল্লাহ, পীর-আউলিয়া সবার নাম ধরে ডাকা ডাকি করছি কিন্তু কোন লাভ হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত মরে যাবার আগে চোখটা বন্ধ করে প্রিয় মানুষগুলোর মুখ মনে করার চেষ্টা করছি।
নাহ!কারো কথাই মনে আসছে না।বরং মনে হচ্ছে,  এই বুঝি আমার জীবনের সাঙ্গ হবে এখানেই।।
কিন্তু কি আশ্চার্য,  আমি এত উঁচু থেকে পড়লাম কিন্তু মরলাম না। অবশ্য স্বপ্ন ছিলো বলেই এই অসম্ভবও সম্ভব হয়েছে।।এই যা!  এখন তো নিজেকে অনন্ত জলিল টাইপের কিছু একটা মনে হচ্ছে!! :p
যাই হোক, মাটিতে পরে যখন আমার চোখ খুললাম,তখন দেখি;পাশে সেই মেয়েটি। কি যত্ন করে আমার সেবা করছে!  আহা!
সামান্য কাটা ছেড়ায় বাংলা সিনেমার মলম লাগানো থেকে শুরু করে ব্যান্ডেজ, মন্ডেজ(মনের ব্যান্ডেজ) ইত্যাদি ইত্যাদি।   আর আমি কিনা তার নামটাই মনে করতে পারছিনা এখন।এমন কি স্বপ্নেও বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছি নাম মনে করতে,পারিনি। তবে সেই স্বপ্নের মধ্যে আমার কাটিয়ে দেয়া রোমাঞ্চকর, রোমান্টিক বছরটাও কাটিয়ে দিয়েছি বিনা নাম জেনে। কিভাবে যে বছর কেটে গিয়েছিল তা ভাবতেই অবাক লাগছে।আচ্ছা , বাস্তবেও কি এমন হতে পারে?  কি জানি!!!
হঠাৎ করে স্বপ্নের জগতে পার্থিব হস্তক্ষেপ আমার সাধের স্বপ্নটার বারোটা বাজিয়ে দিলো। স্বপ্নের মধ্যে পার্থিব  কে যেন জোরে জোরে ডাকছিল।ঘুম ভেঙে গেলো। ঘুম ঘুম চোখে তাকিয়ে দেখি বারান্দার গেটে পত্রিকাওয়ালা।
"ভাই, আছেন?  এ মাসের বিলটা দেন।"
মনে মনে ভাবলাম, আরে ব্যাটা, আগে আমার স্বপ্ন ভাঙার ক্ষতিপূরণটা দিয়ে যা।তারপর বিল দেব!!
ইস!  কি সুন্দর স্বপ্নই না দেখছিলাম!!  এর মধ্যেও ডিস্ট্রার্ব??
পত্রিকাওয়ালা কে বিল দিয়ে বিদায় করে কিছুক্ষন শুয়ে শুয়ে
স্মৃতির ধুলো জমা ময়লা পাতা গুলো আরেকবার ঝেরে পরিস্কার করার চেষ্টা করলাম কিন্তু লাভ হলো না। আমার স্বপ্নে দেখা সেই মেয়েটার নামও আর জানা হলো না।।
(কন্টিনিউ.....)
www.facebook.com/swopnonil

কলমিলতা

প্রায় এক যুগ পর এক বন্ধু আজ ফোন করেছে। ফোনটা ধরে আমি বললাম, কে?
ও পাশ থেকে একটা মেয়েলী কন্ঠস্বর ভেসে এলো।
"কিরে স ম (আমার নামের পদবীর সংক্ষিপ্ত রুপ) কেমন আছিস? "
হঠাৎ করে এরকম সম্ভোধন শুনে আমার বুকের মধ্যে ছ্যাৎ করে উঠলো। এ নামে আমাকে তো এখন কেউ ডাকে না। আজ থেকে ১২ বছর আগেই যা আমি পেছনে ফেলে এসেছি সেই সম্বোধন!  আমি তো রীতিমতো অবাক।
বললাম, কে আপনি??
ও পাশ থেকে মিষ্টি সুরে অচেনা রমনী বলে উঠলো , "ভুলেই যখন গেছিস তখন আর পরিচয় দিয়ে লাভ কি? "
আমি বললাম,  কিন্তু কে? আপনি যে আমার পূর্ব পরিচিত এবং অনেক আগের চেনা কোন মানুষ তা আমি বুঝতে পারছি।তবে.... ঠিক ধরতে পারছি না।"
মেয়েটি অত্যন্ত নম্র ভাবে,সুললিত কন্ঠে, মিষ্টি করে আমাকে জিজ্ঞাসা করল, "বলতো কে হতে পারি? "
আমি অবশ্য সেটাইঈ এতক্ষন ধরে ভাবছি, আসলে কে এই মেয়ে!কন্ঠ চেনা না হলেও কথার ধরন আর সুর আমাকে ইতিমধ্যে ১২ বছর পেছনে নিয়ে গেছে।একবার ভাবছি, হয়ত শারমিন হবে না হলে...
উমমম....সেলিনা,আকলিমা,কনা,ফৌজি,সাবিনা,রুনা,সালমা আর কে কে যেন ছিলো!!
উমমম..... এই মুহূর্তে এই কটা ছাড়া আর কারো নাম মনে হচ্ছে না।
তাই নিজের ভেতরে সব কিছু চাপা দিয়ে কিছুটা চেনার ভান আর কিছুটা কৌতুহল নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, "কি রে তুই?  তুই কুমিল্লার সেই সুন্দরী না?? "
আসলে সত্যি কথা বলতে কি আমি জাষ্ট একটু আন্দাজ করে বললাম।কারন স ম নামে আমার প্রাইমারির বন্ধু বান্ধবী ছাড়া কেউ কখনো ডাকত না।আর আমার ক্লাসের সবগুলো মেয়েঈ কম বেশি সুন্দর ছিলো।তাই সুন্দরী বলাটা বেশি কিছু না।
আমি মেয়েটি কে চিনতে পেরেছি, এই ভেবে ও পাশ থেকে ও আনন্দে আটখানা। আসলে তো এখনো আমি অন্ধকারেই আছি তা কি করে বলব!
ও পাশ থেকে বলে চলল, কিরে তাহলে তেলাপোকা টাকে ধরে ফেলেছিস। "
ওহ মাই গড!এ আমি কার সাথে কথা বলছি?  এ যে আমাদের কলমিলতা।ক্লাসের সবচেয়ে স্মার্ট, বুদ্ধিমতী, চটপটে মেয়ে।আদর করে আমরা ও কে তেলাপোকা বলে ডাকতাম।
ওরা অবশ্য আমার আর শাহরিয়ারের(আমার বন্ধু) একটা একই ধরনের নাম দিয়েছিল।কিন্তু প্রেস্টিজ পাংচার হওয়ার সমূহ সম্ভাবনার কারনে নামটা প্রকাশ করলাম না।
আমি এতক্ষনে ওকে যখন চিনতে পারলাম তখন আমার মধ্যে বিশ্বজয়ের আনন্দ।
বললাম, কি রে তুই আমার নাম্বার কই পেলি?  কি করছিস এখন?  কোথায় তুই?  বিয়ে করছিস না কি? হাসব্যান্ড-বাচ্চা কাচ্চা ইত্যাদি।।।।
হঠাৎ করেই যেন দু জন প্রাইমারি স্কুলের বারান্দায় ফিরে গেলাম।আমি যেমন উতলা হয়ে ওকে জিজ্ঞাসা করছি তেমনি ও কোনটা রেখে কোনটা বলবে ভাবে পাচ্ছে না।
বলা শুরু করল," আর বলিস না, পুরোনো ডায়রি খুঁজতে গিয়ে তোর ঠিকানা পেলাম। তারপর তোর নাম ধাম দেখে ভাবলাম, নিশ্চয় তুই ইন্টারনেট ইউজ করিস তাই গুগলে তোর নাম লিখে সার্চ করলাম।
ব্যাস, তোর ব্লগ এর লিংক পেলাম।গুগল + এ তোর ছবি দেখলাম।
এই তুই না অনেক সুন্দর হয়ে গেছিস রে!!"
ওর সামনা সামনি এই অহেতুক প্রশংসায় আমি একটু লজ্জাই পেলাম।
বললাম, রাখত। আমি আবার সুন্দর??
তারপর বল।
আমার কলমিলতা বলা শুরু করল,"তারপর আর কি! এই যে ব্লগ থেকে ফেসবুক লিংক পেলাম। একটু সন্দেহ ছিল কিন্তু স্কুলের নাম দেখে শিওর হলাম। "
"তারপর ফোন নম্বরটা নিয়ে এই যে ফোন দিলাম। "
বললাম, "ও আচ্ছা। যাক গুগলকে থ্যাংকস। ও না হলে হয়ত কোন দিন আর কথা হত না।"
মনে মনে ভাবলাম,  সত্যি প্রযুক্তি কতই না উপকারে আসে।আহা!!  শুধু ব্যবহারের সদ্বিচ্ছা থাকতে হবে।আমরা এর ভালো টা নেব না খারাপটা নেব।
যাই হোক, তারপরে অনেক কথা হল। ছেলে বেলার দুষ্টোমি থেকে শুরু করে বড়বেলার  পাগলামি। সব সব কিছু।।
যাক, ১২ বছর পরে এমন কারো সাথে কথা হবে ভাবতেও পারিনি কখনো।
থ্যাংকস গুগল, থ্যাংক্স ফেসবুক।।
(দুঃখিত, লিখতে লিখতে কিছু লিখা বাদ পরে গেল।)
www.facebook.com/swopnonil

প্রিয় দেবী (বিরহের চিঠি) ৩

প্রিয় দেবী, অনেকদিন পর তোমায় লিখছি। কতদিন পর! ঠিক ঠাক মনে পড়ছেনা কিছুই। শুধু মনে পড়ে, শত শত চিঠি পাঠিয়েছি বেনামী ঠিকানায় বহুদিন। হয়ত সেসব কখ...